বিটেকের চাকরি ছেড়ে শুরু করেন ফুলের চাষ, এখন বার্ষিক লাভ করছেন ৩৫ লাখ টাকা

এখনকার বেশিরভাগ তরুণ ও তরুণী, তারা শহর হোক বা গ্রামের, সকলেই লেখাপড়া করে ভালো বেতনের চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখেন, যাতে তারা ভালো জীবনযাপন করতে পারেন, কিন্তু কিছু যুবক আছেন, যারা উচ্চ শিক্ষা লাভ করেও চাকরি না করে কৃষির প্রতি আগ্রহী এবং তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা উন্নতি করছেন। এইরকমই এক তরুণ কৃষক সন্দীপ কুমার ভার্মার গল্প , যিনি বি. টেক করার পরে চাকরি ছেড়ে দেন এবং কৃষিকাজ শুরু করেন।

বর্তমানে তিনি বার্ষিক ৩৫ লক্ষ টাকা আয় করছেন৷ বারানবাকির তহসিল রামনগরের গাজিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা সন্দীপ কুমার ভার্মা, জারবেরা ফুল চাষে সাফল্য অর্জন করে তাঁর পুরো জেলায় একজন হাইটেক চাষী হিসাবে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি অনেক যুবকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন, যারা চাকরি না করে কৃষি বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে নিজের ভবিষ্যত গড়তে চান। সন্দীপ বলেছেন যে, বি.টেক পড়ার পরে তিনি অনেক কোম্পানীতে চাকরিও পেয়েছিলেন, কিন্তু কোনো সংস্থায় কাজ করে তিনি সন্তুষ্ট বোধ করেননি।

কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ অনুযায়ী তাঁকে বেতন দেওয়া হয়নি, আবার কোনো কোম্পানীতে তাঁকে বেশি কাজ করতে হয়েছে। এই সমস্ত কারণে সন্দীপ তাঁর চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রত্যেক পিতা মাতাই চান যে, তাদের সন্তান যেন একটি ভালো চাকরি পায় এবং সুখী জীবনযাপন করে। সন্দীপের বাবা মাও তাই চেয়েছিলেন, কিন্তু সন্দীপের চাষ করার সিদ্ধান্ত তাঁর বাবা মায়ের এই স্বপ্ন ভেঙে দেয়। সন্দীপ যখন তাঁর বাবা মাকে জানান যে, তিনি তাঁর চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজ করতে চান, তখন তাঁর বাবা, মা এবং পরিবারের সদস্যরা খুবই দুঃখিত হন।

এরপর সন্দীপ ধীরে ধীরে তাঁর কঠোর পরিশ্রমে সবকিছু ঠিকঠাক করে নেন। উত্তরপ্রদেশ সরকারের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ থেকে উদ্যানপালন মিশনের অধীনে অনুদানের দেওয়া হয়। এই অনুদানের অর্থের সাহায্যে বর্তমানে সন্দীপ ৮টি পলিহাউসে জারবেরা ফুলের চাষ করে লক্ষাধিক মুনাফা করছেন। জারবেরা ফুলের চাষ থেকে তিনি বার্ষিক ৭৫ লক্ষ টাকা লাভ করেন, যার মধ্যে খরচ বাদ দিয়ে তিনি সরাসরি ৩৫ লক্ষ টাকা লাভ পান। সন্দীপ কুমার ভার্মা চাষে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, চাষ করে লোকসান হয় না। এখন যুবকরা কৃষিকাজ করেও ভালো জীবিকা অর্জন করতে পারেন।