নিজের সমস্ত সেভিংস খরচ করে পাখিদের জন্য ঘর বানালেন কৃষক, ১০ হাজারেরও বেশি পাখি পেল ঘর

ভারতের বেশিরভাগ সময় গ্রীষ্মকাল এবং বর্ষাকাল এই দুই ঋতুর প্রকোপ বেশি থাকে। এই দুটি সময় শুধুমাত্র মানুষের জন্য নয়, পশুপাখিদের জন্যেও বেশ কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। পশুপাখিরা প্রচণ্ড গরমে যেমন তৃষ্ণার্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায় তেমন প্রচন্ড বৃষ্টি হলেই বাসস্থানের অভাবে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াতে থাকে তারা। এই সমস্যার সম্মুখীন আরো বেশি করে হতে হয় পাখিদের, কারণ বর্তমান সময়ে আমরা বনভূমি সাফ করে দিয়ে গড়ে তুলছি বাসস্থান। যত তাড়াতাড়ি গড়ে উঠছে নগরায়ন, ঠিক ততো তাড়াতাড়ি ঘর ছাড়া হচ্ছে পাখিরা।

এমতাবস্থায় ভগবান জি ভাই নামে এক ব্যক্তি পাখিদের জন্য একটি সুন্দর বাসস্থান তৈরি করেছেন ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে। এই সুন্দর বাসস্থানের মধ্যে প্রায় কয়েক শত পাখি একসঙ্গে নিরাপদ ভাবে বসবাস করতে পারবে। ভগবান জি রাজস্থানের রাজকোটের বাসিন্দা। প্রথম থেকেই তিনি পাখি প্রেমিক ছিলেন। ঝড়-বৃষ্টি এবং পরিবর্তিত আবহাওয়ায় পাখিরা কতখানি কষ্টের মধ্যে রয়েছ, এই দুশ্চিন্তা তাকে তাড়না করে বেড়াত।

পাখিদের বাসস্থানের সমস্যার সমাধান করার জন্য ৭৫ বছর বয়সী এই মানুষটি নিজের গ্রামে ১৪০ ফুট লম্বা এবং ৪০ ফুট উঁচু একটি পাখির ঘর তৈরি করেছেন। নিজের সমস্ত জমানো অর্থ শেষ করে দিয়ে তিনি এই ঘর তৈরি করেছেন। এই বাসস্থান তৈরি করতে কুড়ি লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এই বাসস্থানটিকে একটি শিব লিঙ্গের আকৃতি দেওয়া হয়েছে যা ঝড় জলের সময় পাখিদের রক্ষা করবে।

এই পাখির ঘরটি তৈরি করতে আড়াই হাজার ম্যাট ব্যবহার করা হয়েছে, যার মুখটি বাইরের দিকে খোলা থাকলে এবং পাখি সহজেই প্রবেশ করতে পারে। ভগবান জি পেশায় একজন কৃষক এবং তাঁর ১০০ একর জমি রয়েছে যা তিনি নিজের হাতে চাষ করেন। বোঝাই যাচ্ছে তিনি প্রকৃতি এবং পাখির সঙ্গে কতখানি যুক্ত থাকেন মনের দিক থেকে।

শুধু এই বাড়ি বানিয়ে ক্ষান্ত হননি ভগবান জি, প্রত্যেকদিন ৫০ থেকে ৬০ কেজি শস্য কিনে আনেন এবং পাখির জন্য তৈরি এই বাড়ির চারপাশে ছড়িয়ে দেন। এই বাড়ি তৈরি করার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছ থেকে তিনি জমি চেয়ে ছিলেন, যে জমি নিয়ে ২০২১ সালে একটি বিশাল আকার পাখির বাড়ি স্থাপন করেছিলেন তিনি।

ভগবান জি ভাই যে ম্যাটগুলিব্যবহার করেছেন এই বাড়ি তৈরি করার জন্য, সেগুলি তিনি বিশেষ অর্ডার দিয়ে আনিয়েছিলেন। এটির বিশেষত্ব হলো, এটি গ্রীষ্মের সময় ঠাণ্ডা এবং ঠান্ডায় উষ্ণ থাকে। এমতাবস্থায় বলা যেতে পারে, ভগবান জি ভাই এমন একটি অপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যা বর্তমান সময়ে ভীষণভাবে বিরল।