এই আন্দোলন পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত – কৃষক আন্দোলন প্রসঙ্গে IMF এক্সজিকিউটিভ ডিরেক্টর সুরজিৎ ভল্লা

নয়া কৃষি বিলের প্রতিবাদে দিল্লিতে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে অর্থনীতির কোনও যোগ নেই ৷ এই আন্দোলন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। কৃষক আন্দোলন নিয়ে এমন মন্তব্যই করলেন অর্থনীতিবিদ এবং IMF এক্সজিকিউটিভ ডিরেক্টর সুরজ ভল্লা ৷ সংবাদমাধ্যমকে সুরজিৎ ভল্লা জানান, সমস্ত ভারতীয় কৃষকরা এই আইনের বিরুদ্ধে তা নয়, কৃষকদের একটা ক্ষুদ্র অংশই এই প্রতিবাদ বিক্ষোভে সামিল৷ তিনি বলেন ‘এই আন্দোলন সংগঠিত করেছেন কিছু ধনী, সুবিধেবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কৃষকেরা, যারা বিশেষত পঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যের বাসিন্দা ৷’ তাই এই আন্দোলনের সঙ্গে অর্থনীতির কোনো যোগ নেই বলেই তিনি মন্তব্য করেন৷ IMF এক্সজিকিউটিভ ডিরেক্টরের মতে, ‘এই আন্দোলন পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ৷ ’

 

 

কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি আইনের প্রতিবাদে পথে নেমেছেন লক্ষ লক্ষ কৃষক। দিল্লির ঠাণ্ডা, করোনা সংক্রমণের আশঙ্কাকে পরোয়া না করে রাজধানীর পথে ধর্ণা দিয়েছে দেশের লক্ষ লক্ষ কৃষক৷ দেখতে দেখতে তাঁদের আন্দোলন দুই সপ্তাহ পেরিয়ে তৃতীয় সপ্তাহ চলছে৷ নয়া কৃষি আইনের প্রতিবাদে সামিল কৃষকদের মূল দাবি হল, আইন প্রত্যাহার করতে হবে কারণ এই আইন নূন্যতম সহায়ক মূল্যের উপর প্রভাব ফেলবে ৷

 

 

Farmers protest LIVE Updates: Tripura CM says PM Modi freed farmers, urges protesters to not be trapped by communists - live update - Hindustan Times

 

কিন্তু কৃষকদের দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়ে ভল্লা প্রশ্ন তোলেন, ‘ভারতে হাজার মিলিয়ন কৃষক আছেন ৷ তাদের কতজন MSP, APMC -এর সুবিধা পান? সেইসঙ্গে তিনি বলেন, বাকি পৃথিবীর তুলনায় গমের দাম ভারতে ৪০-৫০ শতাংশ বেশি ৷ আসলে আন্দোলনকারীরা MSP এবং ন্যূনতম শ্রম মূল্যের ধারণাকেই গুলিয়ে দিচ্ছে ৷ এই দুটো টার্মের মধ্যে কোনও তুলনাই হতে পারে না ৷’

 

বড় খবরঃ হাথরাস কান্ডের মাস্টারমাইন্ড বিদেশে পালানোর সময় গ্রেফতার

 

IMF এক্সজিকিউটিভ ডিরেক্টর বলেন, কৃষকেরা ফসল ফলান কিন্তু তাদের বাজারের সঙ্গে কোনও যোগ থাকে না ৷ ধনী কৃষকেরা যারা সমস্ত সুযোগ সুবিধা পান তারাই গরীব কৃষকদের থেকে সব কিনে নেন ৷ তিনি বলেন, ‘PDS সিস্টেম যখন এসেছিল সেই ১৯৮০ থেকেই এই সমস্যা চলছে ৷ আসলে প্রথমে এই আন্দোলন শুরু করেন একদল ধনী, সুবিধেবাদী কৃষক, নতুন আইনের ফলে যাদের সিস্টেম থেকে সুবিধা নেওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে ৷ পরে হুইস্পারিং ক্যাম্পেনের ফলে বাকি মানুষেরাও এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয় ৷ এতেই বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ধর্ণায় ৷ ’

 

টমেটো, ডাল, পেঁয়াজ, জোয়ার এসব খাদ্য দ্রব্যের দাম আকাশছোঁয়া৷ ভল্লা প্রশ্ন তুলেছেন, পঞ্জাবের সব কৃষকদের ধরলে সংখ্যাটা ১ মিলিয়ন দাঁড়াবে ৷ শুধু মাত্র ভারতের মতো এত বড় দেশের মাত্র দুটো অঞ্চলের কৃষকদের আপত্তির কথা শোনা হবে কেন? ’ তাঁর মতে এই কৃষক আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই৷

 

জাতীয় সঙ্গীতে বদল চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী’র…

 

কিন্তু রঘুরাম রাজন এবং কৌশিক বসুর মতো তাবড় অর্থনীতিবিদরা এই নতুন কৃষি আইনকে সমর্থন করছেন না। এর কারণ কী ? উত্তরে IMF এক্সজিকিউটিভ ডিরেক্টর সুরজিৎ ভল্লা বলেন, ‘ওদের সম্ভবত নিজেদের কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে ৷ নইলে অনেক অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরাই এই নতুন কৃষি আইনকে সমর্থন ও স্বাগত জানিয়েছেন ৷’ উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গঠিত ক্যাবিনেটের নিয়োগ কমিটি প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ সুরজিৎ ভল্লাকে IMF-এ নিযুক্ত করে ৷ IMF এর দরবারে কেবল ভারত নয়, ভারতের পাশাপাশি ভল্লা বাংলাদেশ, ভুটান এবং শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিত্ব করেন সুরজিৎ ভল্লা৷