Skip to content

বোনের মৃত্যুতে প্রভাবিত হয়ে ট্যাক্সি ড্রাইভার গরিবদের জন্য তৈরি করলেন হাসপাতাল, প্রধানমন্ত্রী মোদিও করেছেন প্রশংসা!

কখন কার জীবনে কী হবে কেউ জানে না, তবে জীবনের কিছু আকস্মিক ঘটনা একজন ব্যক্তির চিন্তাভাবনাকে বদলে দেয় এবং সেই ব্যক্তি সেই ঘটনার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এমন কিছু করেন, যা দেখে সবাই তার প্রশংসা করেন। এমনই কিছু করলেন এক ট্যাক্সি চালক, যা দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী মোদীও। আমরা কথা বলছি সাইদুল আশকারের, যিনি পেশায় একজন ট্যাক্সি চালক। তিনি তাঁর বোনের মৃত্যুতে এতটাই প্রভাবিত হয়েছিলেন যে, তিনি অন্যদের জীবন বাঁচাতে একটি হাসপাতাল তৈরি করেছিলেন।

আসলে, তাঁর বোন মারুফার বুকে সংক্রমণ হয়েছিল এবং তাঁকে একটি ভাল হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হতো, তবে একজন ট্যাক্সি চালকের পক্ষে তাঁর উপার্জন দিয়ে পরিবারের খরচ পরিচালনা করা কতটা কঠিন এবং বিশেষ করে যখন অসুস্থতা দেখা দেয়, তখন চিকিৎসার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। ট্যাক্সি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহকারী সাইদুলের অবস্থাও ছিল একই রকম। তাঁর বোনের একটি ভালো হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর মতো পর্যাপ্ত অর্থ তাঁর কাছে ছিল না এবং ফলস্বরূপ, মাত্র ১৭ বছর বয়সে তাঁর বোন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সাইদুল তাঁর বোনের মৃত্যুতে গভীরভাবে ব্যথিত হন এবং একই সাথে অন্যদের জীবন বাঁচানোর সংকল্প করেন। এই সংকল্প বাস্তবায়নের জন্য তিনি দিনরাত পরিশ্রম করতে লাগলেন, যাতে কোনো দরিদ্র ভাইয়ের বোন চিকিৎসার অভাবে যাতে তাঁর ভাইকে ছেড়ে এই পৃথিবী থেকে না চলে যায়। হাসপাতাল নির্মাণের জন্য জমি ও মূলধনের প্রয়োজন হয়। এমতাবস্থায়, সাইদুলের আত্মীয়স্বজন তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও তাঁর স্ত্রী সবসময় তাঁর পাশে ছিলেন। স্বামী সাইদুলের দেখা স্বপ্ন যাতে পূরণ হয়, সেই জন্য জমি কেনার জন্য সাইদুলের স্ত্রী তাঁর সব গয়না দিয়ে দেন।

এরপর সাইদুল তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে কলকাতা থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে বারুইপুরের কাছে পুনারি গ্রামে তাঁর বোনের স্মরণে মারুফা স্মৃতি ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন, যা দরিদ্রদের সাহায্য করে। সাইদুলের নির্মিত এই হাসপাতালের আউটডোর ইউনিট গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি রোগীদের চিকিৎসার জন্য আংশিকভাবে চালু করা হয়েছে। এই হাসপাতালটিকে আরো উন্নত করার কাজ চলছে, যেখানে ৫০ শয্যাসহ এক্স-রে, ইসিজির মতো সুবিধা থাকবে।

সাইদুল বলেন, বর্তমানে এটি দোতলা হলেও এটিকে চারতলা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালের মাধ্যমে ১০০টি গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন। ট্যাক্সিচালক সাইদুল আশকারের এই মহৎ কাজ দেখে দেশের প্রধানমন্ত্রী মোদিও তাঁর প্রশংসা করেছেন। খুব কম আয় হওয়া সত্ত্বেও সাইদুলের এই প্রচেষ্টা খুবই প্রশংসনীয়।