এটা তো স্রেফ ট্রেলার’,মিছিল থেকে হুঁশিয়ারি দিলেন কৃষকরা

‘এ তো সবে ট্রেলার। পুরো সিনেমা তো এখনও বাকি আছে।’ বৃহস্পতিবার কৃষক আন্দোলনের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিলেন কৃষকরা। এদিন কৃষকরা একাধিক এলাকায় ট্রাক্টর ব়্যালি (Tractor Rally) বের করেছিলেন। আগামী  ২৬ জানুয়ারি ২০২১ প্রজাতন্ত্র দবস উপলক্ষ্যে  গোটা রাজধানী জুড়ে সমগ্র  দিল্লিতে ট্রাক্টর ব়্যালির পরিকল্পনা করেছেন কৃষক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা আন্দোলনকারীরা। সেই পরিকল্পনার  আংশিক বহিপ্রকাশ ছিল এদিনের  ব়্যালি।

৪৩ দিন ধরে রাজধানী নিউদিল্লির সীমানায় একটানা বিক্ষোভ  আন্দোলন  চালাচ্ছে কৃষকরা। কেন্দ্র সরকারের নয়া কৃষি বিলের বিরুদ্ধে তাদের এই  বিক্ষোভ আন্দোলন।  তাদের দাবি কৃষি আইন কৃষকদের স্বার্থ বিরুদ্ধ তাই এই আইন বাতিল করতেই হবে৷ কোনো রকম সংশোধন বা সমঝোতা নয়,  কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় তাঁরা। অন্যদিকে কৃষি আইন প্রত্যাহার করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রও। কেন্দ্র সরকার আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা এবং সংশোধনের পথে হাঁটতে রাজি।

দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে৷  দু’পক্ষের আরও একদফা বৈঠক হওয়ার কথা। এরমধ্যেই  সাতদফা বৈঠক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি।  এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়িয়ে রাখলেন কৃষকরা।

 

এবার সোনার গয়না কিনতে গেলে বাধ্যতামূলক হতে পারে KYC

উল্লেখ্য, সিংঘু, টিকরি, গাজিপুর, শাহজাহানপুর সীমানা কয়েক হাজার ট্রাক্টর এসে জড়ো হয়েছিল। হরিয়ানা ও রাজস্থান সীমান্তেও ছিল কয়েক হাজার ট্রাক্টর। কুন্ডলি-মানেসার-পলবল এক্সপ্রেসওয়ে ধরে এদিন কৃষকরা এগোয়। ইস্টার্ন পেরিফেরল এক্সপ্রেসওয়েতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ ছিল।

 

কী রয়েছে কৃষিবিলে?

এই বিলে বলা হয়েছে এমন একটি বাস্তুতন্ত্র তৈরি করা হবে, যেখানে কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা রাজ্যের কৃষি পণ্য বাজার কমিটির আওতায় নিবন্ধিত কৃষিমান্ডিগুলির বাইরে খামারজাত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের স্বাধীনতা পাবেন।

রাজ্যের ভিতরে ও বাইরে কৃষি উৎপাদনের বাণিজ্য বাধামুক্ত হবে।

বিপণন ও পরিবহন ব্যয় কমবে, যার ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের আরও ভাল দাম পাবেন।

কৃষকদের ই-কমার্সের জন্য একটি সুবিধাজনক পরিকাঠামোও সরবরাহ করবে এই বিল।এই বিল শেষ পর্যন্ত এমএসপি-ভিত্তিক অর্থাৎ সরকারের বেঁধে দেওয়া ন্যুনতম সমর্থিত মূল্যের ক্রয় ব্যবস্থার অবসান ঘটাবে.  প্রান্তিক অথবা ছোট কৃষকরা বঞ্চিত হবে কারণ কোনো বড় সংস্থা তাদের সঙ্গে চুক্তি করতে চাইবে না। বড় সংস্থা বা বড় শিল্পপতিদের হাতে চলে যাবে সম্পূর্ণ ক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের জন্য বাজারদর হবে অগ্নিমূল্যয।