একেই বলে ভাগ্য! অন্যের ফেরানো প্রস্তাব দিয়েই বাজিমাত “ওগো বধূ সুন্দরী”র ললিতা ঋতাভরী’র

বাংলা সিরিয়ালের অভিনেতা অভিনেত্রীদের আসল নাম আমরা কজন জানি? বেশিরভাগ নায়ক নায়িকাদের আমরা তাঁদের চরিত্রের নামে চিনে থাকি। এমনই একটি চরিত্র ছিল ওগো বধূ সুন্দরী খ্যাত ললিতা। এই চরিত্রটির নায়িকার যে আসল নাম ঋতাভরী চক্রবর্তী, সেটাই আমরা জেনেছি বহুদিন বাদে। অভিনেত্রীকে ললিতা বলেই চিনেছি এবং ভালোবেসেছি আমরা। তবে জানলে হয়তো অবাক হয়ে যাবেন যে মানুষটিকে প্রথম সিরিয়াল থেকে আমরা এত ভালবেসেছি, সেই অভিনেত্রীকে আমরা পেতামই না যদি অন্য কোন অভিনেত্রী সেই চরিত্র করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতেন।

হ্যাঁ ললিতা চরিত্রের মতো বিখ্যাত এই চরিত্রের অফার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ত্বরিতা চক্রবর্তী। ২০০৮ সালে কলকাতার ম্যাডক্স স্কয়ারে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারতে গিয়েছিলেন ত্বরিতা চক্রবর্তী। তখন অভিনেত্রী হয়ে ওঠা হয়নি তাঁর। কলকাতার ম্যাডক্স স্কয়ারে পুজোর আড্ডা দিয়েছিলেন তিনি। সে সময় অজান্তেই এক চিত্র সাংবাদিকের লেন্সবন্দী হয়ে যান তিনি। সেই ছবি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হতেই প্রযোজক রবি ওঝার ধারাবাহিক “ওগো বধূ সুন্দরী” তে অভিনয় করার প্রস্তাব পেয়েছিলেন অভিনেত্রী।

কিন্তু ওই যে বলে ভাগ্য। তাই হয়তো সেই সময় ললিতার চরিত্রে অভিনয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন অভিনেত্রী ত্বরিতা। পরিবর্তে ললিতার চরিত্রে অভিনয় করার জন্য নেওয়া হয়েছিল ঋতাভরি চক্রবর্তীকে। তারপরটা ইতিহাস। কিন্তু এখানে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়, ললিতা চরিত্রের জনপ্রিয়তা দেখে একবারও কি আফসোস হয়নি অভিনেত্রী ত্বরিতার?? সেই কথাও তিনি নিজের মুখে স্বীকার করেছেন সংবাদ মাধ্যমের সামনে।

সম্প্রতি বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমের সামনে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন,” তখন আমি জানতাম না ধারাবাহিকটি এত সফল হবে। তবে বাড়ি থেকে অভিনয় করার অনুমতি পাইনি বলে একপ্রকার বাধ্য হয়ে না বলে দিতে হয়েছিল আমাকে। ছোটবেলায় বাবা মারা গেছেন তাই মায়ের কথা অমান্য করে অভিনয়েতে আসতে চাইনি আমি। পরবর্তী সময়ে মা রাজি হওয়ায় বাংলা সিরিয়ালে কাজ করি এবং বর্তমানে করি খেলা, রানী রাসমণি এবং কাদম্বিনী মতো একাধিক সফল ধারাবাহিকে অভিনয় করেছি আমি”।