বিদেশ থেকে শেখা আধুনিক চাষের পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে বাড়ির ছাদেই তৈরি করেছেন আঙ্গুরের বাগান, আয় করছেন লাখ লাখ টাকা

ভারত একটি কৃষিপ্রধান দেশ যেখানে ঐতিহ্যগত চাষাবাদের উপর বেশি জোর দেওয়া হয়, তবে গত কয়েক বছরে কৃষকরা নতুন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন, এর ফলে কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন এবং ফসল তৈরিতে সময়ও কম লাগছে। এইরকমই ভিন্ন কিছু করে দেখিয়েছেন পুনে সোলাপুর হাইওয়ের কাছে অবস্থিত উরলিকাঞ্চন গ্রামের বাসিন্দা ভাউসাহেব কাঞ্চন, যিনি পেশায় একজন কৃষক। ভাউসাহেব বিদেশে গিয়ে চাষাবাদের একটি নতুন উপায় শিখেছিলেন, তারপর তিনি তাঁর বাড়ির ছাদে একটি সুন্দর আঙ্গুরের বাগান তৈরি করেন।

৫৮ বছর বয়সী ভাউসাহেব কাঞ্চন দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যবাহী কৃষিকাজ করছিলেন। তাঁর সাড়ে তিন একর জমি রয়েছে, তাতে তিনি আখ চাষ করেন। ক্ষেতে না গিয়ে কীভাবে বাড়িতে ফসল ফলানো যায় এই প্রশ্নের উত্তর পেতে তিনি ভারত সরকারের কৃষি বিভাগের সাহায্য নেন এবং তিনি বিদেশে গিয়ে আধুনিক কৃষির কৌশল শিখে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। ভারত সরকার প্রতি ৫ বছরে একবার কৃষকদের জন্য কৃষি সফরের আয়োজন করে, যার দায়িত্ব কৃষি বিভাগ নেয়। এই সফরের জন্য বিভিন্ন রাজ্যের কৃষকদের সরকার বাছাই করে, তাদের বিদেশে পাঠানোর জন্য সরকার খরচের অর্ধেক দেয়।

এই সফরে জনপ্রতি খরচ হয় দেড় লাখ টাকা, যার মধ্যে ৭৫ হাজার টাকা সরকার দেয়।দেওয়া হয়। এই কৃষি সফরে, কৃষকদের জার্মানি, সুইজারল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডের মতো ইউরোপের দেশগুলিতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাদের আধুনিক চাষের কৌশলগুলি শেখানো হয়। ভাউসাহেব এই কৃষি সফরের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি শিখে, বিদেশ থেকে দেশে ফিরে মঞ্জরী আঙ্গুর সংশোধন কেন্দ্র থেকে মঞ্জরী মেডিকা নামে দুটি ভিন্ন প্রজাতির আঙ্গুর কিনে এনে বাড়ির উঠানে রোপণ করেন, যেগুলি গোবর থেকে তৈরি জৈব সার দিয়ে বড় করা হয়।


তিন বছর পর দুটি আঙ্গুরের চারা অনেক বেড়ে যায়। তারপরে ভাউসাহেব লোহার সাহায্যে তাঁর বাড়ির ছাদে একটি মণ্ডপ তৈরি করেন। বাড়ির উঠানে থেকে ৩২ ফুট উচ্চতায় ছড়িয়ে থাকা আঙুরের লতাটি শীঘ্রই লোহার মণ্ডপটি ধরে ফেলে, যা তৈরি করতে খরচ হয় ৬ হাজার টাকা। ভাউসাহেব প্রতিনিয়ত আঙ্গুরের লতাগুলোর যত্ন নিতেন এবং জৈব সারের সাহায্যে সেগুলোকে ফলদায়ক করে তোলেন। বাড়ির ছাদে তৈরি এই আঙ্গুর ক্ষেত থেকে ভাউসাহেব প্রথম বছরে ১০৪ থোকা আঙ্গুর পান, দ্বিতীয় বছরে তিনি ৩০০ থোকা আঙ্গুর পান।

তৃতীয় বছরে ৫২৫ থোকা আঙ্গুর পান, যা অত্যন্ত রসালো এবং সুস্বাদু। এমতাবস্থায়, ভাউসাহেব বাগানে বেড়ে ওঠা আঙুরের গুচ্ছ বাজারে বিক্রি করেন, আবার কিছু আঙুর থেকে রসও তৈরি হয়। রস বের করার পর অবশিষ্ট আঙ্গুরের খোসা থেকে স্বাদযুক্ত বিস্টিক তৈরি করা হয়, এমনকি আঙুরের বীজ থেকে ওষুধও তৈরি করা হয়, যা বাজারে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। ভাউসাহেব বছরে ২১ হাজার থোকা আঙুর বিক্রি করলে প্রায় ৫ লাখ টাকা লাভ হবে।