বন্ধুদের কাছে ধার নিয়ে শুরু করেছিলেন ব্যবসা, নিজের পরিশ্রমের দ্বারা পরিণত করেছে ১৮ হাজার কোটি টাকার কোম্পানি

স্বপ্ন যদি বড় হয়, তাহলে তা বাস্তবে পরিণত হয়। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যে স্বপ্ন দেখা হয় তা সবসময় ভেঙ্গে যায় কিন্তু আপনি যদি দিবা রাত্র একটি স্বপ্ন দেখেন তা সত্যি করার চাহিদা যদি আপনার মধ্যে থাকে, তবে অবশ্যই সেই স্বপ্ন আমি তোমাকে ঘুমাতে দেবে না। এমন একটি স্বপ্নকে সত্যি করে দেখালেন যোধপুরের লোহিয়া দম্পতি। যে বর্জ্যকে মানুষ আবর্জনা বলে সরিয়ে দেয়, সেই বর্জ্য দিয়ে হস্তশিল্পকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছেন এই দম্পতি। নিজের ব্যবসা শুরু করে সেই ব্যবসাকে কোটি টাকার দোরগোড়ায় নিয়ে গেছেন। এই দম্পতির আজ বার্ষিক টার্নওভার ৪৫ কোটি টাকা। শুধু তাই নয় পশ্চিম থেকে হস্তশিল্প তৈরি করা রাজ্যের প্রথম সংস্থা এই দম্পতির সংস্থা।

আজ ৩৬ টি দেশে তাদের হস্তশিল্পের জিনিসের চাহিদা রয়েছে। তাদের ব্যবসার এত রমরমা দেখে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ অবাক হয়ে যান। সঠিক চিন্তা ভাবনা এবং দৃঢ় দৃষ্টি থাকলে যে সবকিছু সম্ভব হয়ে যায় তা সত্যি এই দম্পতি প্রমাণ করে দিয়েছেন। দেশ এবং বিদেশের মানুষ হস্তশিল্পের জিনিসের ছবি তুলে নিয়ে যান। অন্যান্য জিনিসের মধ্যে অন্যতম একটি জিনিস হল গাড়ির বনেট দিয়ে তৈরি সোফা সেট।গাড়ির বনেট থেকে সেট দিয়ে তৈরি সোফা সেট মানুষ এতোটাই পছন্দ করেছেন যে সেগুলি কিনে পরিবারের সকলে মিলে ছবি তুলে পোস্ট করেছেন সোশ্যাল মিডিয়াতে।

এখানে বলে রাখি, শাস্ত্রী নগরের বাসিন্দা রিতেশ লোহিয়া ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত অনেক ব্যবসা করেছিলেন কিন্তু কখনোই সাফল্য অর্জন করতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে তিনি বর্জ্য দিয়ে হস্তশিল্প সামগ্রী তৈরীর ভাবনা শুরু করেন। এই কাজে তিনি পাশে পেয়েছিলেন স্ত্রী প্রীতিকে। প্রথমে কিছু জিনিস তৈরি করে ওয়েবসাইটে সেই সমস্ত জিনিসের ছবি আপলোড করতে শুরু করেন এই দম্পতি।

বেশ কিছু মাস এই ভাবে চলার পর হঠাৎ করে ডেনমার্ক থেকে প্রথম অর্ডার পেয়েছিলেন দম্পতি। তবে পুরনো ব্যবসায় কিছু লোকসানের কারণে নতুন অর্ডার তৈরীর টাকা তাদের কাছে ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের অন্য সমস্ত মানুষের থেকে টাকা ধার করে প্রথম অর্ডার তাঁরা সম্পন্ন করেন কোনভাবে। এরপর রিতেশের হস্তশিল্পের পণ্যের চাহিদা এতটাই বেড়ে যায় দেশে এবং বিদেশে যে রাতারাতি একের পর এক অর্ডার পেতে শুরু করেন রিতেশ।

রিতেশ এই প্রসঙ্গে বলেছিলেন, তাঁর সংস্থাই রাজ্যে হস্তশিল্প সামগ্রী তৈরি করার প্রথম সংস্থা যা পুঁজিবাজারে রয়েছে। ইউরোপের দেশ গুলিতে এই সমস্ত পণ্যের চাহিদা ভীষণ বেশি। এই দম্পতির তৈরি হস্তশিল্পের বিভিন্ন ছবি এবং ভিডিও দেখানো হয়েছে ডিসকভারি এবং হিস্ট্রি চ্যানেলে। আজ বছরের শেষে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছেন এই দম্পতি। এই গল্প থেকে আরও একবার প্রমাণ হয়ে যায় মানুষ চাইলে কিনা করতে পারে।