মাধ্যমিক ফেল অটোচালকের জীবন বদলে দিল এক বিদেশি মেয়ে, জয়পুর থেকে সোজা পৌঁছে দিল সুইজারল্যান্ড

ভাগ্য এবং নিয়তির কাছে আমরা একেবারেই অসহায়। ভাগ্য পরিবর্তন হলেও নিয়তি কখনো পরিবর্তিত হয় না। কিন্তু এই ভাগ্য যে সব সময় আমাদের খারাপ দিকে ঠেলে দেয় তাও নয়, মাঝে মাঝে এই ভাগ্যের কল্যানে আমাদের জীবন নতুন মোড় নিয়ে নেয়। আপনারা অনেক রকম প্রেমের গল্প নিশ্চয়ই পড়েছেন। তেমন একটি প্রেমের গল্প নিয়ে আজ আমরা এসেছি আপনাদের সামনে। এমন একটি প্রেমের গল্প যা শুনলে সত্যিই অবাক হয়ে যাবেন।

আজকে এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আপনাদের জানাব দশম ফেল রঞ্জিত সিং শুধুমাত্র ভাগ্যের ফেরে কিভাবে পৌঁছে গেলেন সোজা সুইজারল্যান্ডে। রঞ্জিত সিং রাজ কখনোই কল্পনা করতে পারেনি তাঁর ভাগ্য এইভাবে বদলে যাবে। জয়পুরের একটি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন তিনি। কিন্তু সেই রঞ্জিত আজ জয়পুরের রাস্তা ছেড়ে পাড়ি দিয়েছে বিদেশে।

রঞ্জিত সিং রাজ পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশুনা শেষ করতে পারেননি। মাত্র দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন তিনি। বাড়ির আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, স্কুল ছেড়ে দিতে বাধ্য হন তিনি। জীবনে অনেক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে। দরিদ্র পরিবারের এক কালো রঙের সন্তান হওয়ার জন্য ছোটবেলা থেকেই বহু মানুষের কটুক্তি শুনতে হয়েছিল তাকে।

১৬ বছর বয়স থেকে জয়পুরের রাস্তায় অটো রিক্সা চালাতে শুরু করেন রঞ্জিত। বহু বছর ধরে তিনি অটো রিক্সা চালান। ২০০৮ সালে যখন অনেক অটোচালক ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ এবং স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতেন, তখন রঞ্জিত ইংরেজি শেখার এবং বলার জন্য চেষ্টা করতেন।

অটো চালানোর পাশাপাশি তাঁর একটি পর্যটন ব্যবসা ছিল যার মাধ্যমে তিনি বিদেশি পর্যটকদের রাজস্থানের পর্যটন করাতেন। এইভাবে একদিন রঞ্জিত সিং রাজ এক বিদেশি মহিলার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তারপর তাঁর জীবন সারা জীবনের জন্য পাল্টে যায়। পরবর্তী সময়ে ওই বিদেশিনী মহিলাকে তিনি বিয়ে করেন এবং আজ তিনি সুইজারল্যান্ড এর স্থায়ী নাগরিক।

ওই বিদেশি মহিলা ফ্রান্স থেকে ভারতে বেড়াতে এসেছিলেন এবং রঞ্জিত সিং তাঁকে গাইড হিসেবে জয়পুরে নিয়ে যান। রঞ্জিতকে দেখে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যান ওই মহিলা এবং ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিদেশিনী নারী ফ্রান্সে চলে যাওয়ার পরেও দুজনের মধ্যে ফোনের মাধ্যমে আলাপচারিতা চলতে থাকে।

বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করার জন্য ফ্রান্সে যাওয়ার বহু চেষ্টা করেছেন রঞ্জিত কিন্তু কোন বার ভিসা পাননি। অবশেষে রাস্তার না পেয়ে তিনি ফরাসি দূতাবাসের বাইরে ধর্নায় বসেন। পরবর্তী সময়ে দশম ফেল এই অটো রিক্সা ওয়ালার কথা মেনে নেওয়া হল এবং তিনি তিন মাসের ফরাসি টুরিস্ট ভিসা পেয়ে গেলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে রঞ্জিত এবং বিদেশিনী দুজনে বিয়ে করেন এবং বর্তমানে তাঁদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। রঞ্জিত ধীরে ধীরে ফরাসি ভাষা শিখে নেন এবং বর্তমানে তিনি জেনোভাতে থাকেন এবং একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করেন। আগামী দিনে নিজের রেস্তোরাঁ খোলার স্বপ্ন দেখেন রঞ্জিত। এছাড়াও এখন থেকেই তিনি একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে রেখেছেন যার মাধ্যমে ঘরে বসে মানুষকে বিশেষ সুন্দর সুন্দর জায়গা দেখান।