Skip to content

ছেলেকে দাহ করার পর আর ফেরেননি বাড়ি, গত ১৫ বছর ধরে শ্মশানে থাকছেন এই মা

কথাতেই আছে, মায়ের মমতার ছায়া সবসময় তার সন্তানদের ওপর থাকে। সেরকমই এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন রাজ কনওয়ার নামের এক ৬৫ বছর বয়সী মহিলা। একসময় তিনি যে শ্মশানে নিজের ছেলের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছিলেন, আজ দীর্ঘ ১৫ টা বছর সেই শ্মশানকেই নিজের ঘর মনে করে সেখানে রয়ে গেলেন শুধু মাত্র নিজের ছেলের প্রতি মমতার টানে। আসুন জেনেনি সেই মায়ের কথা।

রাজস্থানের সিকর জেলায় অবস্থিত ধর্মনা মোক্ষধাম শ্মশানে থাকেন রাজ কানওয়ার। তিনি এই শ্মশানে শেষকৃত্যের জন্য আসা লোকেদের কখনো জল দিয়ে, কখননো শেষকৃত্যের জন্য কাঠ সংগ্রহ করে সাহায্য করেন। আরো জানা যায়, তিনি এই শ্মশানের বাইরে কখনো যাননা।

রাজ কানওয়ার, শ্মশানে আসা লোকেদের কাছে তাঁর ব্যাগে রাখা কিছু কাগজ এবং সংবাদপত্রের টুকরো দেখিয়ে বলেন তাঁর ছেলে আজ পর্যন্ত বিচার পায়নি।

সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় রাজ কানওয়ার বলেন, তাঁর ২২ বছরের ছেলে ইন্দ্র সিং ২০০৮ সালের ৩ ডিসেম্বর সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন এবং সিকরের এসকে হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন তিনি মারা যান। তিনি শেষবারের মতো ছেলের মুখও দেখতে পারেননি। ইন্দ্র সিংয়ের মৃতদেহ শিবধাম ধর্মনায় নিয়ে আসা হয় যেখানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন রাজ কনওয়ার নিজে হাতে কারণ, তাঁর পরিবারে তিনি ও তাঁর ছেলে ছাড়া আর কেউ ছিল না।

ইন্দ্র সিংয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পরে রাজ কানওয়ার, তাঁর ছেলের অস্থি ভস্ম বিসর্জন করতে হরিদ্বারে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি সরাসরি শ্মশানেই ফিরে আসেন। তাঁর এই শ্মশানে থাকাটা অনেকেই ভালো মনে করেননি। তবে রাজ কানওয়ার বলেন, তাঁর ছেলেই যখন এই শ্মশানে আছে তখন তিনি কীভাবে তাঁকে ছেড়ে চলে যাবেন এই শ্মশান থেকে।

সিকারের বাসিন্দা রাজ কনওয়াআরের পরিবারের সদস্যরা রাজশ্রী সিনেমার কাছেই থাকেন। ধর্মনা ধামের সভাপতি কৈলাশ তিওয়ারি জানান, রাজ কানওয়ারের বিয়ে ঝুনঝুনু জেলার মান্দাওয়ায় হয়েছিল। তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি শ্বশুর বাড়ি ছেড়ে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে নিজের বাড়ি চলে আসেন। এরপর ছেলেকে মানুষ করেন নিজে হাতেই এবং ছেলে বড় হয়ে ইলেক্ট্রনিকের দোকানে কাজ করতে শুরু করে। এইভাবেই তাঁদের জীবন সুখেই কাটছিল, কিন্তু হঠাৎ ২০০৮ সালের ৩ ডিসেম্বর তাঁর ছেলের সড়ক দুর্ঘটনা তাঁর জীবন থেকে সবকিছু কেড়ে নেয়।

রাজ কনওয়ার অভিযোগের সুরে বলেন, তাঁকে হাসপাতালে তাঁর ছেলের মুখও দেখতে দেওয়া হয়নি। সাধারণ মানুষের কথা অনুযায়ী জানা যায় ইন্দ্র, মালিকের সাথে জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার সময় বাইক থেকে পড়ে গিয়ে সে মারা যান, কিন্তু রাজ কনওয়ার দাবি করেন তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়েছে।

ময়নাতদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায়, ইন্দ্রর শরীরে সাড়ে চার ইঞ্চি গভীর ক্ষত ছিল এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি প্রায় ৮ ঘণ্টা বেঁচে ছিলেন।

শ্মশানে কাজ করা লোকজনেরা জানান, তিনি প্রতিদিন শ্মশানের বাগান থেকে ফুল তোলেন, পূজা পাঠ করেন এবং মানুষের সেবা করেন। এখন এই শ্মশানই রাজ কানওয়ারের জীবন।