দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় জেলা টপারে নাম লেখালো এই অনাথ শিশু, চা বিক্রি করে স্কুলের ফি মিটিয়েছিল দাদু ঠাকুমা

সারাদেশে বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল বের হয়েছে গত বেশ কয়েক দিনে। একদিকে আমরা যেখানে দেখেছি কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের পরিশ্রম, তেমন অন্যদিকে অকৃতকার্য ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নেমে ধর্নায় নেমেছেন সামান্য কিছু নাম্বারের জন্য। কিন্তু এসবের মধ্যে কিছু কিছু কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের খবর আমাদের কাছে অজানা থেকে যায়। এমন একটি কৃতী ছাত্র হল উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলার উজ্জল গুপ্ত। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ শিক্ষা বোর্ড দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণির ফলাফল ঘোষণা করেছেন, যেখানে অনেক শিক্ষার্থীর ভালো রেজাল্ট করে পিতামাতা এবং পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলা থেকে একটি অত্যন্ত আবেগঘন খবর শুনতে পাওয়া গেছে। ওই এলাকার উজ্জ্বল গুপ্ত নামে এক ছেলে দশম শ্রেণির পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়েছেন হায়েস্ট নাম্বার পেয়ে। আজ এই সুখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য উজ্জলের পিতা-মাতা এই পৃথিবীতে উপস্থিত নেই, তাই এত খুশির মধ্যে উজ্জ্বল ভীষণভাবে আবেগপ্রবণ এবং দুঃখিত হয়ে পড়েছে।

উজ্জল গুপ্ত সম্পূর্ণ জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে, স্বাভাবিকভাবেই প্রচুর প্রশংসার ভাগীদার হয়েছে সে। কিন্তু আজ যে মানুষ দুটিকে সবথেকে বেশি প্রয়োজন সেই মানুষ দুটিকে চোখের সামনে না দেখতে পেয়ে ভীষণভাবে আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েছে উজ্জ্বল। উজ্জলের বাবা-মা কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। উজ্জলের বাবা রামচন্দ্র গুপ্ত দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার নামক দুরারোগ্য রোগের শিকার ছিলেন। অবশেষে তিনি ২০১০ সালে দেহত্যাগ করেন। উজ্জলের বাবার মৃত্যুর মাত্র তিন বছরের মধ্যে উজ্জলের মা আমাদের পৃথিবী থেকে বিদায় নেন চিরতরে।

স্বাভাবিকভাবে বাবা-মা পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবার পর ভীষণভাবে অসহায় হয়ে পড়ে উজ্জ্বল। উজ্জলের দাদু ঠাকুমা উজ্জল ও তার বোনকে শিক্ষিত করার এবং স্বাবলম্বী করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বৃদ্ধ দাদু দিদা কাজ করতে অক্ষম হওয়ায় উজ্জ্বল চা বিক্রি করতে শুরু করে। কঠোর পরিশ্রম করে শুধুমাত্র সে সম্পূর্ন পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে নিয়েছিল তা নয়, পড়াশোনা করে নিজেকে সবার সামনে প্রমাণিত করেছে।উজ্জলের এই গল্প থেকে আরও একবার প্রমাণিত হয়ে যায় যদি মনে থাকে আত্মবিশ্বাস এবং কোন কিছু পাবার দৃরতা তাহলে যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।