বাসে যাতায়াত, করেন চাকরী, মহারানী হয়েও নেই অহংকার একজন সাধারন মানুষের মতোই করেন জীবন যাপন

প্রচুর সম্পত্তির মালিক হয়েও ভারতের আর পাঁচটা রাজ পরিবারের মত আড়ম্বর ও বিলাসবহুল জীবন যাপন করা তাঁর পছন্দ নয়, বরং সাধারণ মানুষের মতো জীবন যাপন করাই তার বেশ পছন্দের। এমন অসাধারণ হয়েও খুব সাধারণ জীবন যাপন করা মানুষ টা আর কেউ নয় তিনি হলেন বড়দার মহারানী রাধিকারাজে গায়কোয়ার, যিনি সুন্দর রূপ ও গুনের তথা বিপুল পরিমাণ রাজ সম্পত্তির অধিকারী হয়েও সাধারণ মানুষের মতো জীবন যাপন করেন। আসুন জেনেনি সেই মানুষটার জীবনের কিছু অজানা কথা।

বিকানিরের রাজপরিবারে জন্ম গ্রহণ করা রধিকারাজের পিতা অর্থাৎ মহারাজ ডক্টর রণজিৎ সিং একজন রাজপরিবারের সদস্য হয়েও সেই বিলাসবহুল জীবন যাপন ছেড়ে নিজেকে একজন আই এ এস আধিকারিক হিসেবে তৈরি করেছিলেন এবং ওনার মেয়ে রধিকারাজও রাজপরিবারের আড়ম্বরের বদলে সাধারণ নাগরিকের মতো জীবন যাপন করাকেই শ্রেয় মনে করেন। ২০০২ সালে রাধিকারাজের সাথে বড়দার মহারাজ সমরজিৎ সিংয়ের বিবাহ সম্পন্ন হয়।

১৯৮৪ সালে ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার সময় রধিকরাজের পিতা ভোপালে কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। সেইসময় তিনি নিজের আধিকারিক কাজ সম্পন্ন করার সাথে সাথে পীড়িতদের সাহায্যও করেছিলেন যা রাধিকাকারাজ এক অনুপ্রেরণা। তখন রাধিকারাজের বয়স ছিল মাত্র ৬ বছর, কিন্তু এই ৬ বছর বয়সেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন কোনো কিছুকে ঠিক করতে হলে আগে নিজেকে উদ্যোগ নিতে হয়। তাঁর পিতার এহেন কাজ তাঁকে পরবর্তীকালে বড় হতে মানুষিক দিক থেকে সাহায্য করেছিল ।

ছোটবেলা থেকেই রাধিকারাজে আড়ম্বরহীন জীবন যাপন করেন তার ফলে ছুটিতে বিকানীর ঘুরতে গেলে সেখানকার আতিথেয়তা তাঁকে মুগ্ধ করতো। রাধিকরাজে ইতিহাসে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করার পর মাত্র ২০ বছর বয়সে “ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে” লেখিকার চাকরি পান।

রাধিরাজে বিশ্বাস করেন, বিয়ের পর তিনি তাঁর আসল পরিচয় পেয়েছেন। বিয়ের পর থেকে বরোদার লক্ষ্মী বিলাস প্যালেসে থাকতেন রাধিকা। এ সময় তিনি প্রাসাদের দেয়ালে আঁকা ছবি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি নতুন কাজ শুরু করেন।

রানী রাধিকারাজে জানান, লকডাউনের সময় তিনি সেই সব মানুষকে সাহায্য করেছিলেন যাদের উপার্জনের কোনো উপায় ছিল না। এই সময়ে, তিনি তাঁর বোনের সাথে অনেক গ্রাম পরিদর্শন করেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এটি সম্পর্কে পোস্ট করতে শুরু করেন এবং প্রচুর সংখ্যক লোককে সাহায্যের আবেদন করতে থাকে। এসময় তিনি সাত শতাধিক পরিবারকে সহায়তা করেন।

মহারানী রাধিরাজে বলেছেন যে, “কখনও কখনও লোকেরা নিজেরাই ধরে নেয় যে রানী হওয়া মানে কেবল একটি মুকুট পরা, কিন্তু বাস্তবতা এই গ্ল্যামার থেকে অনেক দূরে। আমি প্রথাগত স্টেরিওটাইপ ভেঙ্গে আমার নিজস্ব সীমা তৈরি করেছি। মানুষ আমার কাছ থেকে যা আশা করেনি আমি তাই করেছি। এই উত্তরাধিকার আমি আমার কন্যাদের দিচ্ছি যাতে তারা তাদের নিজের মতো করে তাদের জীবনযাপন করতে পারে এবং কিছুতেই অনুশোচনা না করে।”