২০ টাকার প্যাকেট দিয়ে শুরু করেছিলেন ব্যবসার আইডিয়া, আজ দাঁড় করিয়েছেন ২০ কোটি টাকার কোম্পানি

আলাপুঝার বাসিন্দা মানস মধু যদিও কর্পোরেট সেক্টরে কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন, তবুও তিনি একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনার কথা ভাবছিলেন, যা তিনি তাঁর জন্মভূমি থেকে শুরু করতে পারেন। ২০১৮ সালে তিনি তাঁর সদ্য চালু হওয়া কোম্পানী ‘বিয়ন্ড স্ন্যাকসে’ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য চাকরি ছেড়ে দেন, যেই কোম্পানী চারটি ভিন্ন স্বাদে কলার চিপ বিক্রি করে। মানস, দ্য বেটার ইন্ডিয়ার সাথে কথোপকথনকালে বলেন, যখন তিনি তাঁর শিক্ষা এবং কাজের জন্য অন্য রাজ্যে যেতেন, তখন তাঁর বাবা মা, তাঁর লাগেজে কলার চিপস প্যাক করতেন।


খুব কম ব্র্যান্ড ছিল যারা একচেটিয়াভাবে কলার চিপ বিক্রি করত। ‘বিয়ন্ড স্ন্যাকস’ সারা দেশে প্রিমিয়াম মানের খাঁটি চিপ সরবরাহ করতে চেয়েছিল। মানস বলেন যে, তাঁর কোম্পানী কেরালা এবং অন্যান্য দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্যের কৃষকদের কাছ থেকে কলা সংগ্রহ করে। তারপরে কোচিতে তাঁদের কারখানায় মানুষের স্পর্শ ছাড়াই কলাগুলি প্রক্রিয়া করা হয় এবং ই কমার্স প্ল্যাটফর্ম, খুচরা আউটলেট এবং সুপারমার্কেটের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। আসল লবণযুক্ত স্বাদ ছাড়াও, চিপগুলি পেরি পেরি, লবণ, গোলমরিচ, টক ক্রিম পেঁয়াজের স্বাদে পাওয়া যায়।

তিনি বলেন যে, ‘বিয়ন্ড স্ন্যাকস’ চাষের শুরুতে কৃষকদের সাথে আলোচনা করে, যাতে মোট ফসল সংগ্রহ করা যায়। গত তিন মাসে ১৭০ মেট্রিক টন কলা প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে। মোট ফসল সংগ্রহ করায় কৃষকদের বিশ্বাস বাড়ে এবং মোট সংগ্রহ তাদের সঞ্চয়স্থানে পণ্যের অপচয় এড়াতে সাহায্য করে। ট্রায়ালের সময় ‘বিয়ন্ড স্ন্যাকসের’ পণ্যগুলিকে কয়েকটি খুচরা দোকানে রাখা হয়েছিল, যেগুলি ঘন ঘন অর্ডার পেয়েছিল। এই কোম্পানীর ৮৫ গ্রামের সবচেয়ে ছোট প্যাকেটটি তখন ৬০ টাকা প্রিমিয়াম মূল্যে বিক্রি হয়েছিল।


স্থানীয় দোকানে এটি ২০ থেকে ৩০ টাকা হবে। ‘বিয়ন্ড স্ন্যাকস ২০১৯ সালে বড় ব্রেক পেয়েছিল, যখন তারা ত্রিশুরে একটি ট্রেড শোতে যোগ দিয়েছিল। চিপস প্যাকেটের মাত্র ১২টি বাক্সের সাথে একটি বিনামূল্যের নমুনা স্টল হিসাবে যা শুরু হয়েছিল, তা একটি দোকানে পরিণত হয়েছিল। ধীরে ধীরে বিক্রি যেমন বাড়তে থাকে, তেমনই করোনা মহামারীও বাড়তে থাকে। কয়েক মাসের মধ্যে পণ্যটি অ্যামাজন এবং ফ্লিপকার্টে সর্বাধিক বিক্রিত হয়ে ওঠে।এটি এখন বিগ বাস্কেট, জিও মার্ট, ইন্ডিয়া মার্ট, দ্য গুড স্টাফ এবং আরো অনেক প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ। আজ এই কোম্পানীর বেশিরভাগ গ্রাহক বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, পুনে, মহীশূর এবং দিল্লির মতো শহরের, এছাড়াও এই কোম্পানী রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, নেপাল এবং মরিশাসে। প্রতি মাসে ১ কোটি টাকার পণ্য বিক্রয় করা হয়।