৮৭ বছর বয়সী বৃদ্ধ মহিলা আচার তৈরি করে লাভের টাকা করছেন গরীবদের দান

বয়স কখনো সাফল্যের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। যদি মনে অপরিসীম ইচ্ছা শক্তি থাকে তাহলে যে কোন মানুষ যে কোন সময় ঘুরে দাঁড়াতে পারেন নিজের জীবনে। গত বেশ কয়েক বছর ধরে মহামারী আমাদের জীবন স্তব্ধ করে দিয়েছিল। মহামারীর আঘাতে আমরা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম। কত মানুষ আত্মহত্যা করেছেন, কত মানুষের ঘর ভেঙ্গে গেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমত অবস্থায় আবার এমন কিছু মানুষ রয়েছেন যারা নতুন করে জীবন শুরু করেছেন ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে।

আজ এমন একজন মহিলার গল্প বলব যিনি নিজের স্বামীকে হারিয়েছেন এই মহামারিতে। করোনার মত মহামারীর সঙ্গে যুদ্ধ করার পরেও ৮৭ বছর বয়সে তিনি নতুন একটি ব্যবসা শুরু করবেন বলে চিন্তা ভাবনা করেন। আজ তিনি নিজের ব্যবসা এমন একটি জায়গায় দাঁড় করিয়েছেন যে ব্যবসার লাভের টাকা দিয়ে তিনি গরিব এবং অসহায় দিয়ে সাহায্য করেন।

মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ঊষা গুপ্তা পেশায় একজন ডাক্তার এবং তার স্বামী একজন ইঞ্জিনিয়ার। মহামারীর সময় অন্যান্য মানুষের মত ঊষা এবং তাঁর স্বামী এক মাসের জন্য আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বহুদিন যুদ্ধ করার পর ঊষা এই যুদ্ধে জয়ী হলেও তাঁর স্বামী যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল কালের জন্য তাঁকে ছেড়ে চলে যান।

স্বাভাবিক ভাবেই আমরা এটা জানি এক মহিলার কাছে তার স্বামী সবকিছু। এমতাবস্থায় স্বামীর মৃত্যুর পর ভীষণভাবে বিষণ্ণতায় ভরে গিয়েছিল ঊষার জীবন। হাসপাতলে থাকাকালীন ঊষা উপলব্ধি করেন, আমাদের চারিপাশে এমন বহু অসহায় মানুষ রয়েছেন যারা চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর সম্মুখীন হয়ে যান। এই মানুষগুলোকে সাহায্য করার জন্য ঊষা নিজের একটি ব্যবসা শুরু করতে চান এবং সেই মানুষগুলোকে সাহায্য করতে চান, যারা অর্থের অভাবে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন।


এই আশা বুকে বেঁধে তিনি অবশেষে শুরু করেন নিজের আচারের ব্যবসা। নিজের বাড়িতেই ছোট করে তিনি এই আচারের ব্যবসা শুরু করেন এবং আজ প্রতি মাসে তিনি বিক্রি করেন ২০০ টি বোতল। এই ব্যবসার মাধ্যমে যে অর্থ তিনি পান তার পুরোটাই তিনি দিয়ে দেন গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করতে। ঊষা দেবী আরো একবার প্রমান করে দিয়েছেন যে কোন সময় মানুষ যে কোন কাজ সার্থকভাবে করতে পারে যদি সেই কাজের প্রতি একাগ্রতা থাকে।