অযোধ্যা থেকে রোজ বোনের উদ্দেশ্যে লিখতো চিঠি, বিয়ের আগে আসবো ফিরে! কিন্তু দুই ভাই আর ফিরে আসেনি

উত্তর প্রদেশের অযোধ্যা শহর অবস্থিত ফৈজাবাদ জেলায়। অযোধ্যা শহরের অলিতে গলিতে লুকিয়ে আছে ইতিহাস। ঘিঞ্জি গলি আর জরাজীর্ণ বাড়ি আজও আমাদের বহু ইতিহাস শুনিয়ে যায়। আজ তেমনই একটি ইতিহাসের কথা আপনাকে বলব। অযোধ্যা শহরে পা রেখে শহীদ গলি, ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলে সকলেই একবাক্যে আপনাকে উত্তর দিয়ে দেবে। শুধু তাই নয়, পাওনা হিসেবে আপনাকে শোনাবে পুরনো ইতিহাস এবং গল্প।

প্রতিদিন কোন না কোন মানুষের জীবনে বিশেষ অর্থ নিয়ে আসে কোন না কোন ঘটনা। গত ৬ ডিসেম্বর একটি বিশেষ কারনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে অযোধ্যার মানুষের কাছে। এই বিশেষ দিনটি অযোধ্যার মানুষ আজও দুঃখের সাথে উদযাপন করে। হ্যাঁ দুটি বিপরীত অর্থ একসাথে বললাম কারণ, ঘটনাটি দুঃখের হলেও বীরত্বের। এই দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় পালন করা হয় শৌর্য দিবস।

অযোধ্যা রাম মন্দির ও বাবরি মসজিদের মধ্যে যুদ্ধ ঘটেছিল তাই আমাদের সকলেরই জানা। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা এই দ্বন্দ্বের মধ্যে প্রথম বলিদান দিয়েছিলেন আমাদের বাংলার দুই সন্তান। এই দুই ভাইকে একসাথে কোঠারি ব্রাদার্স বলা হয়।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের উদ্দেশ্যে একটি যাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। ঘটনাটি আজ থেকে ২৮ বছর আগে ঘটেছিল। হিন্দু পরিষদের ডাকে সাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ বাবরি মসজিদের উদ্দেশ্যে একটি যাত্রার আয়োজন করেছিলেন। এই যাত্রার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বাংলার দুই সন্তান রাম এবং শরদ কোঠারি। যাদের মৃত্যুর জন্য সম্মান জানিয়ে ঘটনাস্থলের নাম রাখা হয়েছিল শহীদ গলি, এগুলিকে আজও একনামে সকলেই চেনে।

বাংলা থেকে এই দুই ভাই কাজের সূত্রে এসেছিলেন অযোধ্যায়। অযোধ্যা থেকে প্রতিদিন পরিবারকে চিঠি পাঠাতেন তাঁরা কিন্তু সেই অভিশপ্ত দিনে মিছিলের নেতৃত্ব করতে গিয়ে পুলিশের সম্মুখীন হতে হয়েছিল এই দুই ভাইকে। সরকারের তরফ থেকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া ছিল পুলিশ বাহিনীকে। যখন আন্দোলনকারীদের বাধা দেওয়া যাচ্ছিল না, ঠিক তখনই পুলিশের গুলি চালাতে বাধ্য হয় এবং ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ১৩ জনের। মৃতদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই কোঠারি ব্রাদার্স।

আজও যখনই বাবরি মসজিদ এবং রাম মন্দিরের প্রসঙ্গ তোলা হয় তখনই স্মরণ করা হয় ওই দুই ভাইকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আজ এই দুই ভাইকে স্মরণ করে টুইট করতে দেখা যায় বহু মানুষকে। এই দুই ভাইকে “রাম ভক্ত” বলে অভিহিত করেন অনেকে।