নিজের সম্বল বলতে কেবল মাত্র একটি চায়ের দোকান অথচ বছরভর রাস্তার প্রতিবন্ধী সহ ভবঘুরেদের অন্নদাতা সাগরপাড়ার কর্মকার দম্পতি

বর্তমানে অতিমারীর সময়ে দাঁড়িয়ে নিজের পেট কি ভাবে চলবে না ভেবে দিনের পর দিন ভবঘুরেদের সেবায় নিয়োজিত হয়েছেন সাগর পাড়ার কর্মকার দম্পতি। বেশ কিছুদিন ধরেই নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছেন এই দম্পতি। নিজের সম্বল শুধু মাত্র একটি ছোট্ট চায়ের দোকান। অথচ বছর দেড়েক ধরে জনা কয়েক ভবঘুরেকে দু বেলা দু মুঠো অন্ন তুলে দিচ্ছেন সাগরপাড়ার কর্মকার দম্পতি।

স্বপন কর্মকার ও সবিতা কর্মকার সম্বল বলতে দুই বিঘা জমি ও ছোট্ট একটি চা এর দোকান। স্বামী স্ত্রী ও তিন সন্তান এর পাশাপাশি বেশ কিছু অসহায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তিন বেলা মুখে অন্ন তুলে দিচ্ছেন এই দম্পতি। তাদের কাছে জীব সেবাই শিব সেবা। বছর এর পর বছর ধরে টানা প্রতিদিন এই মানুষ গুলোকে খাবার দিতে গিয়ে নিজেদের সমস্ত শখ আল্লাদ বিসর্জন দিয়েছেন কর্মকার দম্পতি।

এক বেলার জন্য বাপের বাড়ি গিয়ে থাকা হয়নি সবিতা দেবীর প্রায় এক যুগের বেশি। শুধুমাত্র এই মানুষগুলোর কথা ভেবে। স্বপন বাবুকে পুজো পার্বনের কথা জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘নতুন করে পুজো করে কি করব! ঠাকুর সেবাই তো করছি, এর থেকে বড় পুজো কি আর হয়’। কর্মকার দম্পতির নিজেদের সংসার চালানোই যেখানে একটা চরম প্রতিযোগিতার মত সেখানে এত গুলো মানুষের খাবার নিয়মিত দেওয়া কিভাবে শুরু করলেন স্বপন বাবু?

প্রশ্ন করতে উঠে এল এক মানবিক উত্তর। স্বপন কর্মকার বলেন,’বহু বছর আগে একদিন চা এর দোকানে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলাম, এমন সময়ে একজন এসে আমার মুখের দিকে এমন করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল তাকে উপেক্ষা করতে পারলাম না। তাই নিজের খাবার থেকে কয়েকটা রুটি ও তরকারি দিলাম, সেই থেকে সে প্রতিদিন নিয়মিত আসতে লাগলো। পরবর্তী কালে তাকে দেখে আরও অনেক জন আসতে থাকে আমার কাছে। কাউকে ফিরিয়ে দিতে পারিনি আমি’।

স্বপন বাবুর এই মানবিক কাজে তিনি পাশে পেয়েছেন তার গোটা পরিবারকে। তার ছেলে বলেন, এই অতিমারীর সময়ে ওরা খাবে কোথায় সব তো প্রায় বন্ধ তাই ওদের জন্য আমার বাবা আছেন। আমরা যদি এক বেলা খেতে পাই তো ওরাও আমাদের সাথেই খেতে পাবে। এলাকার বাসিন্দারা জানান, আজ পর্যন্ত স্বপন বাবু কোনদিন কারো কাছে হাত পাতেননি ওদের খাওয়ানোর জন্য। অনেকেই দেখি স্বপন দার চা এর দোকানে দুপুরে এসে খান। এভাবেই ভবঘুরে মানুষদের অন্নদাতা হয়ে বেঁচে আছেন আমাদের স্বপন দা।