নেই কোনো বিশেষ ব্যবস্থা! খেতে হচ্ছে মেসের খাবার, নেই বিছানা, বালিশ! দেখুন কেমন কাটছে জেলে দিন শাহরুখপুত্র আরিয়ানের

বলিউড (Bollywood) ইন্ডাস্ট্রি এর বাদশা অর্থাৎ কিং খান (King Khan) তথা Shahrukh Khanএর ঘরে তার জন্ম হয়েছে। ছোট বয়স থেকেই কোনোদিন অভাব কী জিনিষ, সাধারণ লোকের জীবন-যাপন কেমন ভাবে হয়, সেই সব বুঝতে অথবা দেখতে হয়নি শাহরুখ খান এর পুত্র কে । গত ২ অক্টোবর ২০২১ এ মাদক আর ড্রাগস এর পাচার ও ব্যাবহার এর কারণে এনসিবি (নারকোটিকস বিউরো)- এর কাছে ধরা না পড়লে হয়তো সে হয়তো কখনও এই ব্যাপারে জানতেও পেতেন না আরিয়ান খান। কিন্তু এই ড্রাগস এর মামলা তাকে একেবারে এক অন্য দুনিয়া তে নিয়ে গিয়ে ফেলেছে, এরকম জীবন কাটাতে হবে কল্পনা করতে পারেনি সেও।

গোটা বিশ্বের এক সর্বাধিক ধনী অভিনেতা হলেন শাহরুখ খান। তার মুম্বাই এর বাড়ির নাম ‘মন্নত’ যেটা কোনো রাজা মহারাজা এর প্রাসাদকেও তার সামনে রেখে দিলে ছোটো মনে হবে। সেই শাহরুখ খানের পরিবারের সব থেকে বড় সন্তান হল আরিয়ান খান Aryan Khan। শাহরুখ খান ও গৌরি খান এর প্রথম সন্তান, স্বাভাবিক ভাবেই ছোট বয়স থেকেই অনেক আদরে মানুষ হয়েছেন তিনি। তাদের ছেলে কে কোনো দিনই কোনও কাজে কিছু করতে বাধা দেননি তারা অভিভাবক হিসাবে। এমন কী মাদক অথবা ড্রাগস এর সেবনের ব্যাপারেও বাধা দিতেন না তারা। যেই কাজটির জন্যই আজ তাকে কারাগারের ভ্রমণে পাঠিয়ে দিয়েছে।

আপাতত যা খবর এসেছে সূত্র থেকে, ৭ই অক্টোবর ২০২১ পর্যন্ত নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর হেফাজতে কারাগারেই এখন এতদিন কাটবে তার। এনসিবি এর কাছে ধরা খাওয়ার দিন রাতে তার আগে একটি কর্ডেলিয়া ক্রুজে অর্থাৎ এক লাক্সারি ইয়াটচ করে তার জন্য ‘ভিআইপি’ এর মতো ব্যবস্থা থাকলেও এনসিবি এর আধিকারিক এর কাছে তিনি অন্য কিছুই না , না কোনো ফিল্ম স্টার এর ছেলে অথবা অন্য কোনো ভিআইপি, তিনি শুধুমাত্র এক সাধারণ অপরাধী। কারাগারে থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে সুবিধা, জামাকাপড়, অথবা অন্যান্য কিছু যাবতীয় বিষয় এ তার অবস্থা আর পাঁচজন জেলের কইদী দের মতোই ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে তাকেও।

Advertisements

এনসিবি এর আধিকারিক এরা জানিয়েছেন, গত কিছুদিন ধরে যেদিন থেকে তিনি হেফাজত এ আছেন, সেদিন থেকে এনসিবির মেসে তৈরি হওয়া অতি সাধারণ খাবারই খাচ্ছেন আরিয়ান খান। বাড়ি থেকে কোনো বিশেষ খাবার আনাতে হলে আদালত থেকে বিশেষ ভাবে অনুমতির প্রয়োজন হয়। আর এখন এই মুহূর্তে আপাতত তার কাছে সেই কোনরকম অনুমতি নেই। সেই জন্য বাধ্য হয়ে অন্যান্য বাকি কইদি দের মতো অতি সাধারণ খাবার খেতে হচ্ছে তাকেও। বিভিন্ন জাতীয় সংবাদ মধ্যমে প্রকাশিত হওয়া প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, জেলের মধ্যে তার কারাগারে রাখা হয়নি কোনও সিলিং ফ্যান অথবা রাখা হয়নি বালিশ বিছানা এর মতো কোনো সুবিধা।

Advertisements

মাদক আর ড্রাগস এর মামলা তে তদন্ত এর জন্য এনসিবি কে পুরোপুরি ভাবে সাহায্য করছেন আরিয়ান খান। শুনতে পাওয়া যাচ্ছে, মামলা এর তদন্ত করার জন্য তদন্তকারী আধিকারিকদের সাথে ড্রাগ পাচারকারী এর খুঁজে বের করার জন্য তল্লাশি করার অভিযানেও সঙ্গে যেতে পারেন তিনি। এনসিবি এর অদিকারিকদের কে এর মধ্যেই চার পাতার একটি পুরো ডিটেইলস দিয়ে নিজের হাতে লিখে দিয়েছেন আরিয়ান খান। আরিয়ান সাথে এটাও জানিয়েছেন, তিনি যে কাজ করেছেন তার জন্য সে অনুশোচন করছে।

অন্যদিকে এই মামলার সাথে যুক্ত অন্যান্য অভিযুক্তদের যেমন উল্লেখযোগ্য নাম আবদুল কাদের শেখ, শ্রেয়স নায়ার, মনীশ দারিয়া ও অভিন শাহু কেও এনসিবি এর তরফ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামী ১১ অক্টোবর ২০২১ পর্যন্ত এনসিবি এর কারাগারে রাখা হবে তাদের কেও।