Skip to content

মাথায় আসা দুর্দান্ত আইডিয়াকে কাজে লাগিয়ে শুরু করেন ব্যবসা, আজ বছর গেলে আয় করছেন 70 লাখ টাকা

কলকাতায় বসবাসকারী ঈশানী সরকারকে ২০১৬ সালে তাঁর এক বন্ধু একটি ড্রিমক্যাচার উপহার দিয়েছিলেন। শিল্প ও কারুশিল্পের খুব শৌখিন ঈশানীর খুব পছন্দ হয়েছিল যে, সে বাজারে গিয়ে এরকম আরও কারুকাজ কিনতে গিয়েছিলেন, কিন্তু আফসোসের বিষয় তিনি খুব কম জায়গায় এই ধরনের ড্রিমক্যাচারদের খুঁজে পেয়েছিলেন এবং যা খুব ব্যয়বহুল ছিল।


এরপর ঈশানী যখন বাড়ি ফিরলেন, তখন বাড়িতে পড়ে থাকা কিছু জিনিস থেকে নিজেই তৈরি করা শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি এটি তবেবন্ধু এবং আত্মীয়দের জন্য তৈরি করতে শুরু করেন। সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে আপনার যদি দক্ষতা থাকে, তবে খুব শীঘ্রই আপনি আপনার কাজটি আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন, আর এটাই করলেন ঈশানী।

বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লোকেরা তাঁর তৈরি ড্রিমক্যাচার পছন্দ করতে শুরু করেন এবং ঈশানী অর্ডারও পেতে শুরু করেন। ঈশানীর পরিবার মনে করেছিলেন যে, শিল্প ও নৈপুণ্য শুধুমাত্র শখ হতে পারে, কাজ নয়, কিন্তু ২০২০ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া সম্পূর্ণ করার পাশাপাশি ঈশানী তাঁর ব্যবসায় নতুন পরিচয় দেন এবং পরিবারের সদস্যদের জানান যে, তিনি এখন এই সেক্টরে এগিয়ে যাবেন।

ঈশানী তাঁর ব্যবসার নাম রেখেছেন ‘দ্য বোহেমিয়ান স্টোর’ । প্রাথমিকভাবে ঈশানী ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে অ্যামাজন এবং অনেক অনলাইন সংস্থার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পান। ঈশানীর কাজও দ্রুত বেড়েছে এবং আয়ও বেড়েছে। তিনি এখন বিদেশ থেকেও প্রচুর অর্ডার পান। ঈশানী এই কাজ শিখিয়েছেন আরও ১০ জন মহিলাকে এবং চাকরিও দিয়েছেন।


ঈশানী বলেছেন যে, তিনি প্রতিদিন প্রায় ১০০টি অর্ডার পান। এই মুহূর্তে ঈশানী ড্রিমক্যাচারের সাথে আরও অনেক হস্তনির্মিত গৃহসজ্জা তৈরি করেন এবং প্রতি মাসে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা উপার্জন করছেন। ইভেন্ট প্ল্যানার, হোটেল ও ক্যাফে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ঈশানীর এসব পণ্য কেনেন। ইশানি শীঘ্রই একটি বোহো ক্যাফের সাথে যুক্ত হবেন যেখান থেকে তিনি সরাসরি তাঁর পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। ঈশানী এখন এই দোকানটিকে দেশের সবচেয়ে বিখ্যাত হস্তনির্মিত গৃহসজ্জার দোকানে পরিণত করতে চান।