ভর্তুকি বন্ধ করতে চায় রাজ্য, বিদ্যুতের বিল নিয়ে চিন্তায় গ্রাহকেরা

নতুন বিদ্যুৎ মন্ত্রী হয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিদ্যুৎ ভবনে এসেছিলেন তিনি।  দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেই সঙ্গে আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন।  দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুতের বিল নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ জমা হচ্ছে।  একদিকে বেসরকারি সংস্থা, কলকাতা অসংলগ্ন এলাকার বিদ্যুৎ বন্টন এর দায়িত্বে অন্যদিকে রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ রাজ্যের অন্য অংশে বিদ্যুৎ বন্টন করে।

 

বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বিজেপির পক্ষ থেকে এই বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছিল।  বিজেপির অভিযোগ ছিল এই সংস্থা যে হারে বিদ্যুতের বিল ধার্য করে তা সাধারণ মানুষের পক্ষে নাভিশ্বাস তোলার পক্ষে যথেষ্ট।  তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে  বলা হয়েছিল রাজ্যে তাদের সরকার ক্ষমতায় এলে বিদ্যুতের বিল কমানো হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন,  বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থাকে স্বনির্ভর করবেন।  সেইসাথে ভর্তুকি ও কমানো হবে৷ দিনের-পর-দিন সরকারি ভর্তুকি উপর নির্ভর করে কোন সংস্থা চলতে পারেনা।  মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরে কিছু মহল থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে ভর্তুকি কমিয়ে দিলে বেশি টাকা বিল আসবে।  ফলে এর ফল ভোগ করতে হবে সাধারণ মানুষকে।

এই মুহূর্তে রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থা প্রত্যেক তিন মাস অন্তর গ্রাহকদের কাছ থেকে যে বিদ্যুতের বিল নেয় তাদের সর্বনিম্ন 40 থেকে 100 ইউনিট প্রতি গ্রামাঞ্চলে 5.26 টাকা এবং শহরাঞ্চলে 5.37 টাকা হারে ধার্য করা হয় ইউনিট এবং শহরাঞ্চলে একই হারে 8.99 টাকা হারে বিল দিতে হয়।  যা বেসরকারি বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার থেকে অনেকটাই কম।  বিগত সরকারের আমলে রাজ্যের বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থাকে আলাদা কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।  মূলত বাণিজ্যিক এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থা কাজ করে।

মাত্র ১০০ টাকা বিনিয়োগ করলেই পাবেন দ্বিগুণ রিটার্ন, কীভাবে আয় করবেন মোটা টাকা…

এছাড়া  পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড ( PDCL)   আর থার্মাল কর্পোরেশন লিমিটেড রাজ্যের হাতে থাকা তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো কে নিয়ন্ত্রণ করে। বিদ্যুৎ দপ্তর এর সাথে যুক্ত একাধিক আধিকারিক জানাচ্ছেন মন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।  জোর দেওয়া হতে পারে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ের ক্ষেত্রে।  বহু এলাকায় সরকারি বন্টন সংস্থা লক্ষাধিক টাকা বাকি পড়ে রয়েছে।  সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত বিলের বোঝা চাপানো হতে পারে।

তবে সব দিক খেয়াল রাখা হচ্ছে, বেসরকারি বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থা পাশাপাশি রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ আগামী দিনে তাদের প্রতিবাদের টার্গেট হতে পারে। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের এমন আশঙ্কা কিভাবে বিদ্যুতের লাইন নেওয়া বন্ধ করার দিকে নজর দেওয়া হবে তবে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝা চাপানো হচ্ছে না।