কঠোর পরিশ্রমে কুলির ছেলে গড়েছে ১০০ কোটি টাকার কোম্পানি, শত শত গ্রামবাসীকে কর্মসংস্থান করে গড়েছে ভবিষ্যৎ

লোকে বলে যে, কোনো ব্যক্তির সাম্প্রতিক অবস্থার ওপর তার ভবিষ্যতের বিচার করা উচিত নয়, কারণ সময়ের চাকা কখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা কেউ জানে না। সেজন্য মানুষের কখনই তাদের বর্তমানের ওপর ভিত্তি করে তাদের ভবিষ্যৎ বিচার করা উচিত নয়। আসলে আমরা আমাদের জীবনে সেই সমস্ত ছোট জিনিস ব্যবহার করি, যার দাম মাত্র কয়েক টাকা, কিন্তু কেউ সেই ছোট জিনিস থেকে প্রচুর লাভ করছে। আজ আমরা এমন এক ব্যক্তির কথা বলতে চলেছি, যিনি এক সময় ইডলি দোসা বিক্রি করতেন, কিন্তু আজ তিনি কোটি টাকার কোম্পানীর মালিক হয়েছেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

আসলে এই ব্যক্তির নাম পিসি মোস্তফা। তিনি যখন ইডলি দোসা বিক্রি করতেন, তখন কেউ ভাবতেও পারেননি যে, তিনি কোটি টাকার কোম্পানীর মালিক হবেন। মুস্তাফার জন্ম কেরালার ওয়েনাডের চেন্নালোডে। এখন মোস্তফার বয়স ৪৮ বছর। তিনি দারিদ্রতার মধ্যে বড়ো হয়েছেন। মোস্তফা স্কুল থেকে আসার পর বাবার কাজে যোগ দিতে যেতেন। এই কাজটি মোস্তফার পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটাতে থাকে, ফলে তিনি ষষ্ঠ শ্রেণীতে ফেল করেন। এরপর কঠোর পরিশ্রম শুরু করেন এবং দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। এর পর মোস্তফা তাঁর কঠোর পরিশ্রমের ভিত্তিতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হন।

মুস্তাফার কঠোর পরিশ্রমও একদিন ফলপ্রসূ হয় এবং তিনি আমেরিকায় একটি ভারতীয় স্টার্টআপ ম্যানহাটান অ্যাসোসিয়েটসে চাকরি পান, কিন্তু তিনি তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। এরপর মোস্তফা ২০০৩ সালে ভারতে ফিরে এসে নতুন কিছু শুরু করার কথা ভাবছিলেন, ঠিক সেই সময়েই তাঁর মনে আইডি ফ্রেশের ধারণা জন্ম নেয়। ২০০৫ সাল যখন মুস্তাফা মাত্র ২৫০০০ টাকার বিনিয়োগে নতুন কোম্পানী খোলে, যদিও এর আনুষ্ঠানিক সূচনা ধরা হয় ২০১০ সাল থেকে। মোস্তফার কোম্পানী ইডলি দোসা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মিশ্রণ বিক্রি করে। মোস্তফার একটা সময় ছিল তাঁরপণ্যের মাত্র ১০০ প্যাকেট বিক্রি করতে পারতেন।

আজ এই কোম্পানী এক দিনে ৫০ হাজার প্যাকেট বিক্রি করে। এই প্রতিষ্ঠানটি মোট ৬৫০ জনকে চাকরি দিয়েছে। এই সংস্থাটি ক্রমাগত তাদের ব্যবসা বৃদ্ধি করে চলেছে। এখন ভারতে ব্যবসা সম্প্রসারণের পর, এটি দুবাইতেও ব্যবসা সম্প্রসারণের চেষ্টা শুরু করেছে। মোস্তফা যখন তাঁর কোম্পানী শুরু করেছিলেন, তখন প্রথম দিনে তিনি ৫০০০ কেজি চাল থেকে ১৫০০০ কেজি ইডলির মিশ্রণ তৈরি করেছিলেন। এরপর এই মিশ্রণটি স্কুটারে লোড করে বিক্রি করতে বের হন তিনি। আজ এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের অনেক শহরে বিস্তার লাভ করেছে এবং তাঁর কোম্পানী বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসীকে কর্মসংস্থান দিচ্ছে।