সব্জি বিক্রেতা বাবার স্বপ্ন পূরণ করল ছেলে, আজ ৫ কোটি টাকার মালিক

আজ সবাই উমরান মালিকের প্রশংসা করছে, যিনি আইপিএল ২০২২এ তাঁর অসাধারণ বোলিং দিয়ে ব্যাটসম্যানদের ভয়ে ভরিয়ে দিয়েছেন। শ্রেয়াস আইয়ার ও হার্দিক পান্ড্যর মতো অনেক ব্যাটসম্যান, উমরান মালিকের বোলিংয়ে ধরা পড়েছেন। উমরান মালিক আইপিএল ২০২২ সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ দলের হয়ে খেলছেন। উমরান মালিক, গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে অসাধারণ পদ্ধতিতে ৫ উইকেট নিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক উমরানের খেলার যাত্রাপথের সূচনা কিভাবে হলো। ২০১৭ সালের শীতের দিনগুলিতে যখন কোচ রণধীর সিংহ মানহাস, জম্মুর নওয়াবাদ এলাকায় মৌলানা আজাদের স্টেডিয়ামে ক্রিকেট খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর কাছে এসে একটি ১৭ বছরের ছেলে জিজ্ঞেস করেন, বলটা ফেলবেন কিনা।


সেই সময় সামনে ক্রিজে খেলছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের সিনিয়র দলের ব্যাটসম্যান যতীন ওয়াধওয়ান। তারপর রণধীর সিং মানহাস, ছেলেটির নাম জিজ্ঞেস করলে, ছেলেটি বলেন ‘উমরান মালিক’। এরপর রণধীর সিং মানহাস রাজি হয়ে যান এবং একই দিনে এমএ স্টেডিয়ামে জন্ম নেয় এই দুর্দান্ত ফাস্ট বোলিংয়ের ঝড়, যাঁকে নিয়ে আইপিএল ২০২২এ আতঙ্কিত বিশ্বের ব্যাটসম্যানরা। জম্মুর গুর্জার নগরে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া উমরান মালিককে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত কোনো ধরনের কোচিং দেওয়া হয়নি এবং তিনি কখনো চামড়ার বল নিয়ে খেলেননি। তিনি মহল্লা টেনিস বল টুর্নামেন্ট খেলতেন, যেখানে তিনি প্রতি ম্যাচে পাঁচশ থেকে তিন হাজার টাকা পেতেন। উমরান মালিক একাডেমিতে নাম লেখাতে বলা হয়েছিল কিন্তু ২০১৭ থেকে ২০১৮ সালে তিনি কখনোই প্রতিদিন আসতেন না।


রণধীর সিং মানহাস বলেন যে, তিনি উমরান মালিককে অনূর্ধ্ব ১৯ ট্রায়ালের জন্য পাঠিয়েছিলেন, যেখানে উমরান মালিক অন্যের থেকে জুতা ধার নিয়ে বোলিং করেছিলেন। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের অংশ হওয়ার আগে উমরান মালিক কখনো জিমে যাননি, তবে তাঁর শরীর খুব শক্তিশালী। মানহাস বলেন, উমরান মালিক তাওয়াই নদীর ধারে থাকেন এবং ওই নদীর তীরের জমি বালুময়। উমরান মালিক সেই জমিতে দৌড়ে বড় হয়েছেন এবং প্রথমে উমরান মালিক সেখানেই ক্রিকেট খেলতেন। এতে উমরান মালিকের শরীরের নিচের অংশও বেশ শক্ত হয়ে যায়। জম্মু ও কাশ্মীরের ক্রিকেট দলে কাশ্মীরি ক্রিকেটের খেলোয়াড়দের অনেক আধিপত্য ছিল, কিন্তু উমরান মালিককে তাঁর বন্ধু আব্দুল সামাদ সাহায্য করেছেন, যিনি নিজেও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ দলের একজন অংশ।


আবদুল সামাদ ২০২০ সালের জুন মাসে ভিভিএস লক্ষ্মণ এবং টম মুডিকে, উমরান মালিকের বোলিং ভিডিও পাঠিয়েছিলেন। সেই সময়ে করোনার কারণে প্রথম লকডাউনের পর অনুশীলন করছিলেন মাত্র কয়েকজন। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ, তাঁর ভিডিওগুলিকে খুব পছন্দ করেছিল এবং তারপরে উমরান দলে প্রবেশ করেন। এভাবে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং ভারতীয় ক্রিকেট একটি উদীয়মান নতুন তারকা পেল এবং উমরান মালিকের স্বপ্ন নতুন ডানা পেল।