এবার ভারতের হাওয়া-বৃষ্টি চুরি করার বড়োসড়ো ষড়যন্ত্র, বেরিয়ে এল জিংপিং সরকারের চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রযুক্তির দিক থেকে বিশ্বের এক নম্বর তালিকায় চীন ।তাদের পক্ষে অসম্ভব এমন কোন কাজ নেই। ঘটনার সূত্রপাত ২০০৮ সাল থেকে। সেই বছর অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল চীনে।চীনা আবহাওয়া পরিবর্তন অফিস থেকে বৃষ্টি নিয়ন্ত্রণের জন্য ১১০৮ বৃষ্টি বিচ্ছুরণকারী রকেট ফায়ার করা হয়েছিল। আবহাওয়া মতে সেই সময় বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল। সেই বৃষ্টিকে থামিয়ে দিয়েছিল এই রকেট ২১ টি সাইট থেকে রকেট ফায়ার করা হয়েছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল সুষ্ঠু ভাবে যাতে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাতে আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর ছিল বৃষ্টি হবার। এছাড়া আগস্ট মাস বেজিংয়ে বর্ষাকাল । সেই সময় স্টেডিয়ামে চারপাশে বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল । চিনা আবহাওয়া অফিস থেকে বৃষ্টি নিয়ন্ত্রণে রকেট তৈরি করা হয়েছিল মূলত এই উদ্দেশ্যেই এবং সেটা তাদের একটি সকল প্রচেষ্টা ছিল।

বর্তমানে চীনের সবথেকে বেশি মানুষ তাদের আবহাওয়া পরিবর্তন অফিসের অধীনে কাজ করে। ত্রিশটিরও বেশি প্রদেশের পৌরসভার সমস্ত যন্ত্রপাতি রয়েছে। এছাড়া চিনা আবহাওয়াবিদদের কাছে আনুমানিক ৭ হাজার বিমান বিরোধী বন্দুক এবং ৫হাজার রকেট লঞ্চার রয়েছে । প্রাথমিকভাবে এই আবহাওয়া নিয়ন্ত্রক অফিস তৈরি করার মূল কারণ ছিল চীনারা যাতে যে সমস্ত প্রদেশ তাদের শুষ্ক ,সে সব অঞ্চলের বৃষ্টি ঘটানো। অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং শিলা বৃষ্টির কারণে যে সমস্ত ক্ষেত নষ্ট হয়ে যেত সেই সমস্ত ক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ানো । মূলত উৎপাদন বাড়ানোর জন্য আবহাওয়া নিয়ন্ত্রক অফিস তৈরি করা হয়েছিল।

মূলত প্রথমদিকে আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রকল্প টি ভালো উদ্দেশ্যে চালু করা হলেও পরে পরে তার অপব্যবহার শুরু হয়ে যায় ।বর্তমানে চীন ২০২৫ সালের মধ্যে চীন দেশের প্রায় ৬০ টি এলাকার মধ্যে কৃত্রিম বৃষ্টি ঘটানোর কথা ঘোষণা করেছে।চীনের এই পরিকল্পনায় সবচেয়ে কে বেশি প্রভাব পড়বে তিব্বতীয় মালভূমিতে ।যার ফলে ভারতীয় জলবায়ুর বিশাল পরিবর্তন ঘটবে। বিশেষজ্ঞদের মতে এটি ভারতের পক্ষে যথেষ্ট চিন্তার কারণ। তাই এখন থেকেই সতর্ক হতে হবে ভারত কে। সম্প্রতি একটি প্রকল্পে চীন স্পেনের থেকে তিনগুণ বেশি কৃত্রিম বৃষ্টি ঘটানোর কথা চিন্তাভাবনা করছে । তবে এসবের কারণে ভারতকে জলকষ্ট ভুগতে হতে পারে।

তিব্বতীয় মালভূমির এই পরিবর্তনের ফলে শুধু ভারতের নয় তার প্রতিবেশী দেশগুলির আবহাওয়ার যথেষ্ট পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে। এশিয়া মহাদেশের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ নদী গুলি যেমন গঙ্গা,ব্রহ্মপুত্র, ইরাবতী ,মেকং ইত্যাদি চীন ,পাকিস্তান ,বাংলাদেশ ,ভারত ,মায়ানমার এই সমস্ত দেশ গুলির মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে থাকে। তাই স্বভাবতই চীনের এই প্রকল্পের জন্য এ সমস্ত দেশ গুলির ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রের একটি বিশাল পরিবর্তন হতে পারে।

এই প্রকল্পে তিব্বতীয় মালভূমির তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং মৌসুমি বৃষ্টির পরিমাণ হ্রাস হবে ফলে চরম খরার সৃষ্টি হবে ।এছাড়া চীন পটাশিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করছে । এই সব রাসায়নিক পদার্থ এয়ারক্রাফট এর মাধ্যমে স্প্রে করা হচ্ছে যা জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম। প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে ভারতকে আরো উন্নত হতে হবে । উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে নজরদারি আরো বাড়াতে হবে ।

বন্যার পূর্বাভাস এর জন্য জলবিদ্যুৎ মডেল তৈরীর কাজ এবং নদীর প্রবাহকে বাড়ানোর কাজ বজায় রাখতে হবে । সার্বিক দিক দিয়ে আবহাওয়ার প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করতে হবে নাহলে চিনা উপদ্রব থেকে মুক্তি নেই ভারতের। বর্ষার জল প্রবাহের তথ্য এবং বন্যার মৌসুমে তথ্য সংগ্রহ করে কোথায় কোথায় ভয়াবহ অবস্থা তা শনাক্ত করতে হবে। এবং সেই সমস্ত অঞ্চলে শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে ভারতকে। তা না হলে আগামী দিনের ভারতের আবহাওয়ার চরম দুর্যোগ নেমে আসবে।