পশ্চিমবঙ্গেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নজরে উত্তর 24 পরগনা সহ কলকাতা

করোনার প্রথম ঢেউ শেষ হলেও আবার আসতে চলেছে দ্বিতীয় ঢেউ এর পালা। করোনা সংক্রমনের দ্বিতীয় ঢেউয়ের তালিকায় প্রথমেই যে রাজ্যগুলির নাম রয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম হল মহারাষ্ট্র,পঞ্জাব। এই মহামারীর হাত থেকে ছাড় পায়নি আমাদের পশ্চিমবঙ্গ। এই রাজ্যের ৪৬ টি জেলার অবস্থা খারাপ। যা কেন্দ্রীয় সরকারের রীতিমতো রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। এই জেলাগুলির মধ্যে অন্যতম হল কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগনা। তার উপর আবার এসে পড়েছে এখন রাজ্যের বিধানসভা ভোট।

বিধানসভা ভোট চলাকালীন রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কেন্দ্র সরকার। সেই জন্য করোনার সাথে লড়াই করার জন্য এই রাজ্যে পরিকাঠামো মূলক ব্যবস্থাকে প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। এই বিষয়ে আজ রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই করোনার আবার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬২ হাজার মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছে। এই দেশের মোট ১২টি রাজ্যের মধ্যে ৪৬টি জেলায় সংক্রমণ মিলছে ৭১% ও মৃত্যু ঘটেছে ৬৯%। দেশের মধ্যে সবথেকে খারাপ অবস্থা মহারাষ্ট্রের। মহারাষ্ট্রে ৫৯.৮ শতাংশ মানুষের দেহে করোনার সংক্রমণ মিলেছে।

মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ভারতের যে বারোটি রাজ্যে দেখা দিয়েছে তার মধ্যে সব থেকে খারাপ অবস্থা মহারাষ্ট্রের। এমন পরিস্থিতি হওয়ায় গতকাল থেকে মহারাষ্ট্রে রাত্রে কার্ফ্যু জারী শুরু হয়ে গেছে। করোনার পরিস্থিতি সামলানোর জন্য আজ ১২টি রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ ও নীতি আয়োগের সদস্য (স্বাস্থ্য) বি কে পল।

বৈঠকে স্বাস্থ্যকর্তারা বলেন এই ১২ টি রাজ্য যদি একসাথে কোমর বেঁধে করোনার মোকাবিলা করা হয় তাহলে করোনার সংক্রমণ কমে যাবে। এখনকার ৯০% মানুষ করোনা রোগটি সম্পর্কে অবগত হলেও তাদের মধ্যে হয়তো ৪৪ শতাংশ মানুষ মাস্ক পরেন আর বাকিরা পড়েন না। সেই সমস্ত মানুষদের যদি মাক্স পড়ানো যায় এবং যত দ্রুত সম্ভব করোনা রোগীদের চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠালে এই রোগটিকে প্রতিরোধ করা সম্ভব। করোনাকে মোকাবিলা করার জন্য রাজ্যগুলিকে পাঁচটি নিয়ম মেনে চলার কথা বলেছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।

এই পাঁচটি নিয়ম হল ১) রাজ্যের প্রতিটি মানুষকে করোনা সতর্কতাঃ বিধি মেনে চলতে হবে। ২) রাজ্যগুলিতে আরটিপিসিআর পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একজন করোনা সংক্রামিত ব্যক্তি ধরা পড়লে তার পাশাপাশি ৩০ জন মানুষকে পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়। ৩) যে এলাকা থেকে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা বেশী পাওয়া যাবে সেই এলাকাটিকে কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত করে দেওয়া হোক। ৪) করোনার সংক্রমণ কমে যাওয়ায় কোভিড হাসপাতালগুলি পুরনো চেহারায় ফিরে যায়। করোনারি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলিতে পুনরায় সাজিয়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়। ৫) ৪৬টি জেলায় ৪৫ এর উপরে থাকা মানুষদের দ্রুত টিকাকরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

আর এই করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য টিকা সরবরাহের দিকে উদার হয়ে উঠেছে ভারতবর্ষ। ভারতবর্ষের মত জনসংখ্যা তার থেকে বেশি সংখ্যকটিকা তারা বিশ্বের প্রতিটি দেশে সরবরাহ করেছে।