ভারী জনসভায় অনুব্রতকে থমকে দিয়ে প্রশ্ন এক যুবকের। প্রশ্ন শুনে হকচকিয়ে গেলেন অনুব্রত নিজেই।

বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলের কতটা দাপট আছে তা আমরা নিশ্চয় সবাই জানি। চড়াম চড়াম ঢাক বাজানো থেকে শুরু করে অনেক হুঁশিয়ারি তার শোনা যায়। আর এই অনুব্রত মণ্ডল কে ভরা সভায় থমকে দিলেন ছাপোষা এক যুবক।এমনই এক অবিশ্বাস্যকর কান্ড ঘটল বীরভূমের রামপুরহাটে। 19 শে জানুয়ারি কলকাতার বিগ্রেড জনসভার প্রস্তুতির জন্য সোমবার রামপুরহাটে 2 নম্বর ব্লকে মাড়গ্রামের হাই মাদ্রাসার মাঠে এক বিশাল জনসভা ছিল। আর সেখানেই অনুব্রত মন্ডল বক্তব্য রাখছিলেন। আর এই দাপুটে নেতার বক্তব্য থামিয়ে ঐ যুবকটি প্রশ্ন করতেই গটা সভা একেবারে যেন থমকে গেল। এমনকি অনুব্রত মণ্ডল ও হকচকিয়ে জান।

এর সূত্রপাত অনুব্রত মণ্ডলের বক্তব্যের মাঝেই। তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন,” মাড়গ্রামের মানুষজন বলুনতো কি করিনি আমরা?” আর অনুব্রত মণ্ডলের এই প্রশ্ন সেই ভিড়ের মধ্যে একজন এসে পাল্টা অনুব্রত কে প্রশ্ন করলেন,”ব্রিজ হয়নি ব্রিজ,দ্বারকা নদীর ওপরে ব্রিজ কবে হবে?”
ওই যুবকের আচমকা এই প্রশ্ন করাতে অনুব্রত মণ্ডল ও থমকে গিয়েছিল। বাকি মঞ্চে উপস্থিত ছোট বড় নেতারা ওই যুবককে প্রশ্ন করতে দেখে থমকে যান। এরপরে তিনি পরিস্থিতিকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। অনুব্রত মণ্ডল ওই যুবককে প্রশ্নের উত্তরে পাল্টা প্রশ্ন করেন,” আপনার বয়স কত?” তখন উত্তর এলো “40”। তারপর অনুব্রত বললেন, “সিপিএমকে কত বছর দেখেছেন,তারা কিছু করেছে কি?” ওই যুবক চুপ না থেকে বললেন,”এখন তো সিপিএম ক্ষমতায় নেই,এখন ক্ষমতায় আছে তৃণমূল।”

এরপর অনুভূত মন্ডল ওই যুবককে বসার নির্দেশ দিলেন। তারপর অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ” উনি জানেন না যে আমরা যেটা করতে পারি সেটাই বলি। আমরা মিথ্যা কথা বলি না। ” ব্রাহ্মণী নদীর সেতু সহ আরও দুটি নতুন ব্রীজ তৈরীর করে দেবার কথা দেন তিনি।
যিনি অনুব্রত মণ্ডল কে প্রশ্ন করেছিলেন তার নাম হলো মিহিজাম শেখ। এই যুবক মাড়গ্রামেরই বাসিন্দা। এমনটা অভিযোগ আসছে যে ওই যুবককে তৃণমূল নেতাকর্মীরা সভাস্থল থেকে বের করে দেন।
যদিও এই সব ঘটনা ঘটার পরেও নিজের স্টাইলে বক্তব্য শেষ করেন অনুব্রত মন্ডল। বীরভূমে কী কী উন্নয়ন হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও কী কী উন্নয়ন হবে তার সমস্ত সভায় তুলে ধরেন তিনি।