Skip to content

দাম ৫০০ টাকা! বিদেশী খাবারের নামে বিক্রি হচ্ছে পাপড়, রেগে আগুন খাদ্য রসিকরা

শেষ পাতে মিষ্টি না পড়লে যেমন খাবারের আস্বাদন যেমন সম্পূর্ণ হয় না, ঠিক তেমনি চাটনির সঙ্গে পাঁপড় না খেলে মনটা যেন কেমন কেমন করে। বিয়ে বাড়িতে বটেই বাড়িতেও যদি চাটনির পর পাঁপড় না থাকে তাহলে যেন মনে হয় খাবার খাওয়া যেন শেষ হলো না। আমাদের ভারতবর্ষে বিভিন্ন ধরনের পাঁপড় পাওয়া যায়। ট্রেনে বা বাসে যাতায়াত করার সময়ও অনেক সময় পাঁপড় বিক্রি করতে দেখা যায় হকারদের।

তবে আমাদের দেশে যে খাবারটিকে পাঁপড় বলে আমরা চিনি, সেটা মালয়েশিয়ায় নাচোস হিসাবে প্রসিদ্ধ। সম্প্রতি এই ঘটনাটি সামনে আসার পর ভারতীয় খাদ্য রসিকদের মধ্যে এটি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সংস্কৃতির হাত ধরেই এক দেশের খাবার অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে যেমন ধরুন যে আলু বা ফুলকপিকে আমরা ভারতীয় খাদ্য বলে মনে করি আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না এই খাদ্যগুলি ভারতে প্রথম এনেছিল পর্তুগিজ নাবিকরা।

কিছু বছর আগেও রসগোল্লা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ এবং উড়িষ্যার মধ্যে বিরাট দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল যার ফলাফল হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ জয়লাভ করেছিল। এই ঘটনার পরে আস্ত একটি সিনেমা তৈরি হয়ে গেল রসগোল্লা নামে। বিরিয়ানি থেকে চাইনিজ এমন প্রত্যেকটি খাবার কিন্তু এক দেশ থেকে অন্য দেশে গেছে সংস্কৃতির হাত ধরে। আমাদের দেশে বিরিয়ানি নামক এই মুঘল খাবারটি আজ এতটাই জনপ্রিয় যে আমরা ভাবতেই পারি না এটি আমাদের তৈরি করা কোন খাবার নয়।

কিন্তু তাই বলে কোন খাদ্যকে নিজেদের খাদ্য বলে চালিয়ে যাওয়া একেবারেই ঠিক কথা নয়। পাপড়কে তাই অন্য দেশের মানুষ নিজেদের খাদ্য হিসাবে চালিয়ে যাওয়াটা একেবারেই মানতে পারছেন না ভারতীয় খাদ্য রসিকরা। মালয়েশিয়ায় ওই রেস্তোরাঁ এশিয়ান নাচোস বলে বিক্রি করা পাঁপড়টির দাম ধার্য করেছেন ২৭ রিংগিট, যা ভারতীয় মুদ্রায় ৫০০ টাকা।

গোল পাঁপড়টির উপর মাত্র কয়েকটি উপকরণ দিয়ে বানানো এই সাধারণ খাবারের দাম কেন এত টাকা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। অনেকের মতে, মাথা খাটিয়ে পাঁপড় দিয়ে আরো অনেক সুস্বাদু খাবার বানিয়ে দেওয়া যেত। নাচ হিসেবে বিক্রি না করে নতুন কিছু আবিষ্কার করে বিক্রি করতে পারতো ওই রেস্তোরাঁ।

সংবাদ মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে এক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, এর আগে কুয়ায়ালামপুরের একটি রেস্তোরাঁয় চিকেন পকোড়ার খুব সৌখিন নাম দিয়েছে এটি বিক্রি করা হয়েছিল, তবে ওই পদটির দাম এত বেশি ছিল না। এই কথা থেকে স্পষ্ট এমন ঘটনা এর আগেও ঘটেছে, হয়তো অন্য জায়গায় বা অন্যরকম ভাবে