চাপ বাড়ল মোদি সরকারের, মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে ভারতকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ

বর্তমানে করোনা গোটা বিশ্বকে এমন সংকটে ফেলে দিয়েছে যা এর আগে কেউ সম্মুখীন হয়নি আর এই করোনার জেরে ভারতকেও এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমনকি এই করোনার জেরে ভারতকে অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা দেশ বাংলাদেশ পিছনে ফেলে দিয়েছে যেখানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ এবার ভারতের মাথাপিছু আয়কে পিছিয়ে দিয়েছে। যেখানে বর্তমানে, ভারতে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯৪৭ ডলার সেখানে বাংলাদেশের বর্তমান মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২৭ ডলার।

 

আর এই যে তথ্য পরিসংখ্যানটি রয়েছে সেটি বাংলাদেশ প্ল্যানিং মন্ত্রকের তরফ এ প্রকাশিত রিপোর্ট যেটি ২০১৯-২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়।এর আগে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক নামক এক রিপোর্টে ইঙ্গিত মিলেছিল ২০২০ সালে ভারতকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, এমনকি বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ১ হাজার ৮৮৮ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাবে। আর অন্যদিকে ভারতে এর পরিমাণ কমে দাঁড়াবে ১ হাজার ৮৭৭ ডলার , এই রিপোর্টটি প্রকাশ্যে আসার পরই ভারত এবং বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল।

যদিও এই বিষয়ে ভারতের প্রাক্তন প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রামানিয়াম এর মত, এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের পরিসংখ্যানগুলো সবসময় তুলনা করা যায় না কারণ সে ক্ষেত্রে বিনিময় হারের ভিত্তিতে কল্যাণের বিষয়টি তুলনা যথাযথ নয়। কারণ এটি অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি ও উৎপাদন বৃদ্ধি তুলনামূলক চিত্র ঠিক ভাবে তুলে আনতে পারে না। তবে এদিকে করা যেতে পারে স্থির মূল্যের জিডিপি ও ক্ষমতার ভিত্তিতে, আর সেক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ভারতের নাম।

অন্যদিকে এই বিষয়ে বাংলাদেশের প্ল্যানিং মন্ত্রী তথা এম এ মান্নান জানান, দেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশী মুদ্রাতে পরিবর্তন করলে দাঁড়ায়, বছরে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৭৩ টাকা। এক্ষেত্রে বার্ষিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে যে পরিসংখ্যান বেরিয়ে আসে তাতে জানা যায় বাংলাদেশের শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত প্রত্যেক মানুষ প্রতি মাসে আয় করে ১৫ হাজার ৭৩৯ টাকা। আর এই যে নতুন পরিসংখ্যানটি বেরিয়েছে যে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় সেটি আগের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে করোনাভাইরাস এর জেরে ভারত সরকারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মাথাপিছু আয় হ্রাস পেয়েছে।