ত্রিপুরাতে হু হু করে বাড়ছে অনুব্রত মণ্ডলের জনপ্রিয়তা, প্রচারে নতুনত্ব আনতে মমতার কাছে দ্বারস্থ নেতৃত্বগন

২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক সাফল্যের পর ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনেকে পাখির চোখ হিসাবে এগতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। দীর্ঘ কয়েক বছর পর প্রবল উৎসাহে ত্রিপুরায় ২১ জুলাই শহীদ স্মরণ কর্মসূচি করেছে তৃণমূল। শহীদ স্মরণে প্রথম বক্তিতা রাখতে গিয়ে ত্রিপুরার নাম শোনা গেছে তৃণমূল নেত্রীর গলায়। ২০২৩ সালে বিধানসভা নির্বাচন ত্রিপুরায়। তার আগে অবশ্য নিজেদের ঘর গোছাতে প্রস্তুত তৃণমূল কংগ্রেস। এর মধ্যেই বাংলার বেশ কয়েকজন নেতা মন্ত্রী কে ত্রিপুরার মানুষের পছন্দ তালিকায় রয়েছে।

ভাবছেন কে? তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছে বীরভূম তৃণমূলের জেলা কংগ্রেস সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। এরপরই আছেন শশী পাঁজা, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শুখেন্দু শেখর রায়।২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এ রাজ্য থেকে বেশ কয়েকজন নেতা মন্ত্রী ত্রিপুরা গিয়েছিলেন দলীয় প্রচারে অংশগ্রহণ করতে। ৬০ টি আসনের মধ্যে ৫৪ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সময় থেকেই অনুব্রত মণ্ডল কে নিয়ে প্রবল উৎসাহ তৈরি হয় ত্রিপুরার মানুষের মধ্যে। এর মূল কারণ অনুব্রত মণ্ডলের গা গরম করা বক্তিতা। পরের বছরই ছিল লোকসভা নির্বাচন ফলে অনুব্রত নানান বক্তৃতা বা অতি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল ত্রিপুরায়।অনুব্রত মণ্ডল

আবার আসতে চলেছে সেই সন্ধিক্ষণ। বাম সরকার পতনের মুখে। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী সে রাজ্যে বেশ কিছু নানা বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন অন্যদিকে বিরোধী ভূমিকায় থাকা তৃণমূল কর্মীদের মনোবল বাড়াতে অনুভব বক্তিতা যে ‘চরম চরম’, ‘গুড় বাতাসা’, ‘পাচন’কর্মীদের মনে যে বাড়তি উৎসাহ যোগাবে তা নিয়ে অনেকটাই নিশ্চিত স্থানীয় নেতৃত্ব।

তৃণমূলের ত্রিপুরার রাজ্য সভাপতি আশিস লাল সিং সম্প্রতি জানিয়েছেন ‘পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী শশী পাঁজা কাকলি ঘোষ দস্তিদার ত্রিপুরার প্রত্যন্ত এলাকায় ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন লোকসভা নির্বাচনের সময়। তিনি আরো বলেন সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন কবে বাংলার এই নেতারা ত্রিপুরায় আসবেন। এছাড়াও তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় বেশ কিছুদিন ত্রিপুরায় থেকে ছিলেন ফলে তাকে নিয়ে আগ্রহ রয়েছে মানুষের মধ্যে।

বর্তমানে দিল্লি তে তৃণমূলের সংসদীয় দলের পুরো টিম রয়েছেন। সোমবারই দিল্লি যাওয়ার কথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেত্রীর সাথে ত্রিপুরার নেতাদের দেখা হওয়ার যে প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে সেটা জলের মত পরিস্কার। তবে আপাতত তৃণমূল নেত্রীর নির্দেশ মতো পাহাড় থেকে সমতল সর্বত্র লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূল কর্মীরা।