আফ্রিকার চাকরি ছেড়ে ফিরে এসেছিল গ্রামে, অভিনব আইডিয়া লাগিয়ে শুরু করেন ব্যবসা, আজ ৩ হাজার কোটি টাকার মালিক

আজ আমরা কথা বলতে চলেছি বুক মাই শোয়ের প্রতিষ্ঠাতা আশীষ হেমরাজানি সম্পর্কে। তাঁর কঠোর পরিশ্রম এবং উৎসর্গের কারণে, বুক মাই শো আজ ভারতে অনলাইন সিনেমার টিকিট বুকিংয়ের জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হয়ে উঠেছে। আসুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক বুক মাই শোয়ের প্রতিষ্ঠাতা আশীষ হেমরাজানির সাফল্যের গল্প। আশীষ হেমরাজানি ১৯৭৫ সালের জুলাই মাসে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৭ সালে মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডেনহ্যাম ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট থেকে এমবিএ করার পর, তিনি ২ বছর জে ওয়াল্টার অ্যাডভার্টাইজিং কোম্পানীতে কাজ করেন।


একবার আশীষ হেমরাজানিকে তাঁর কিছু কাজে দক্ষিণ আফ্রিকা যেতে হয়েছিল। একদিন আশীষ হেমরাজানি যাত্রার সময় ক্লান্ত হয়ে গাছের নিচে বিশ্রাম নিয়ে রেডিও শুনতে শুরু করেন, যেখানে রাগবি খেলার টিকেট প্রচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো এবং তখনই আশীষ হেমরাজানির মাথায় এমন কিছু করার ধারণা আসে। তারপরে আশীষ হেমরাজানি তাঁর ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে দক্ষিণ আফ্রিকার ফান্ডাঙ্গো এবং টিকিটমাস্টারের মতো আন্তর্জাতিক টিকিট কোম্পানীর ওয়েবসাইটগুলি দেখতে শুরু করেন। তারপর এই যাত্রা শেষে নিজের কোম্পানী খোলার সিদ্ধান্ত নেন।

এরপর তিনি চাকরি ছেড়ে দেন এবং ১৯৯৯ সালে চেজ ক্যাপিটাল থেকে অর্ধ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সহায়তায় বিগ ট্রি এন্টারটেইনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড শুরু করেন এবং প্রতিষ্ঠা করেন। বুক মাই শোয়ের প্রতিষ্ঠাতা আশীষ হেমরাজানি বিগ ট্রি এন্টারটেইনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড শুরু করেছিলেন কিন্তু তাঁর সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রথম চ্যালেঞ্জ হল ভারতে প্রযুক্তিগত সুবিধার অভাব। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জটি ছিল দেশের সিনেমা হল এবং সিঙ্গেল স্ক্রিনে ই টিকেটিং সফ্টওয়্যারের সহজলভ্যতা খুব কম বা নেই বললেই চলে।তারপর ২০০২ সালে আশীষ হেমরাজানির কোম্পানীর অবস্থা খারাপ হয়।


এক পর্যায়ে দেখা যায় যে, কোম্পানীর কর্মচারীর সংখ্যা ১৫০ থেকে ৬এ পৌঁছেছে এবং কোম্পানী বন্ধ হওয়ার অবস্থা দাঁড়ায়। প্রচুর লোকসান হওয়ার পরও আশীষ হেমরাজানি হাল ছাড়েননি। আজকের বুক মাই শো হল ভারতের বৃহত্তম টিকিট বুকিংয়ের ওয়েবসাইট এবং এই কোম্পানীর নিজস্ব অ্যাপও রয়েছে, যা দেশের কোটি কোটি ব্যবহারকারী ব্যবহার করেন।

বর্তমানে কোম্পানীর আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে অনলাইন টিকিট বুকিং থেকে এবং বাকি রাজস্ব আসে বিজ্ঞাপন ও প্রচার থেকে। আজ এই সংস্থাটি ভারত ছাড়াও বিশ্বের আরো ৪টি দেশে তাদের পরিষেবা সরবরাহ করছে। আজ এই সংস্থাটি ১০০০ কোটির মূল্যায়ন ক্লাবে যোগ দিয়েছে, যেখানে কোম্পানীটি এখনো পর্যন্ত প্রায় ৩ রাউন্ডে ৪ জন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে ১২৪.৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে।