মাত্র ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে শুরু করেন এক অভিনব ব্যবসা, এখন বছর গেলে আয় করছেন ৪ কোটি টাকা

প্রত্যেকটি মানুষের জন্য শিক্ষা ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটা জরুরী নয় যে শুধুমাত্র ডিগ্রিধারীরা শিক্ষা অর্জন করে সাফল্য অর্জন করতে পারবেন। এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কম শিক্ষিত হলেও সাফল্য অর্জন করতে পেরেছেন নিজের জীবনে। আজ আমরা এমন একজন ছেলের কথা বলতে চলেছি যিনি দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করে সাফল্য অর্জন করেছেন নিজের জীবনে। দেবেশ ঝা যিনি বিহারের মধুবনীতে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি মাত্র দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন কিন্তু এই পড়াশোনা করে নিজেই এমন একটি ড্রোন তৈরি করেছেন যেটি সকলকে অবাক করে দিয়েছে। ৫ বছরের কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার পর তিনি এই দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করতে পেরেছেন।

২০১৭ সালে দেবেশ প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় করে একটি স্টার্টআপ শুরু করেন। গত বছর এই কোম্পানি ৮ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। দেবেশের মতে, তাঁর নির্মিত কোম্পানির প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প রয়েছে। ২০০৯ সালে এই স্টার্টআপ শুরু করার চিন্তাভাবনা আসে দেবেশের মাথায়। দেবের যখন ১১ শ্রেণীতে পড়তো, তখন তার জীবনে এমন একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল, যার ফলে বহু দিন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকতে হয়েছিল।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য বহু দিন তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল এবং সেই সময় তাঁর মাথায় একটি চিন্তা আসে, তিনি যদি সঠিকভাবে উপার্জন করতেন এবং তাঁর কাছে যদি প্রচুর অর্থ থাকতো তাহলে এইভাবে অপেক্ষা করতে হত না তাকে। এরপর তিনি নিজের একটি ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবেন।

দেবেশ প্রযুক্তি খাতে বিপ্লব নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে বিহার সরকারের সহায়তায় ড্রোনের সাহায্যে ফসলের ক্ষতি মূল্যায়ন এবং জরিপ করতে শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি কিভাবে সারা জমিতে ফসল স্প্রে করা যায়, তা দেখান উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে।

কৃষকদেরকে কীটনাশক স্প্রে করতে অনেক সময় লাগে এবং স্বাভাবিক ভাবেই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন কৃষকরা। এই সমস্যার সমাধান করার জন্য দেবেশ তৈরি করেন একটি নতুন ড্রোন এবং তার সাহায্যে কিছু সময়ের মধ্যে কৃষকরা মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাদের জমিতে কীটনাশক স্প্রে করার কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন।

ইতিমধ্যেই এই ড্রোনগুলোর সাহায্যে কৃষকদের ৩০ হাজার একরের বেশি ফসল স্প্রে করা হয়েছে। বিহার সরকারের পাশাপাশি, ছত্রিশগড় এবং হরিয়ানা সরকার এই কাজে এগিয়ে এসেছেন। ভারতের পাশাপাশি এই প্রকল্পের চাহিদা দেখা গেছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে।