গরুর গোবর থেকে চপ্পল, ব্যাগ তৈরি করে বছরে করছেন ৩৬ লাখ টাকা আয়, রায়পুরের এই ব্যক্তি

ভারতবর্ষের আনাচে-কানাচে বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে বহু প্রতিভা। আমরা এই সমস্ত প্রতিভার কথা অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেখতে পাই। তবে বেশিরভাগ প্রতিভা অর্থের অভাবে হারিয়ে যায় অচিরে। তেমনই একটি প্রতিভার কথা আজ আমরা আলোচনা করব এই প্রতিবেদনের মধ্যে।

গ্রামাঞ্চলে প্রায়শই আপনি দেখতে পাবেন গোবরে স্তুপ। এই গোবর অনেকাংশে সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, এছাড়াও ইট সিমেন্ট তৈরি করার জন্য ব্যবহার করা হয় গোবর। তবে এবার ছত্রিশগড়ের এক ব্যক্তি গোবর ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করার ব্যবসা শুরু করে বার্ষিক আয় করছেন ৩৫ লক্ষ টাকা।

ছত্রিশগড়ের রায়পুর শহরের বাসিন্দা ঋতেশ আগারওয়াল, যিনি গবাদি পশু পালন করেন বহুদিন ধরে। রায়পুর থেকে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি ২০০৩ সালে স্নাতক শেষ করেন এবং একটি কোম্পানিতে চাকরি করতে শুরু করেন। কিন্তু চাকরির প্রতি সেইভাবে আগ্রহ না থাকার ফলে পরবর্তী সময়ে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে পশু পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

প্রথমে গোশালা ও গো সেবা সংক্রান্ত কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর জয়পুর এবং হিমাচল প্রদেশের ট্রেনিং নেন রিতেশ গোবর থেকে গোবর পণ্য তৈরি করার কাজ শুরু করার জন্য। ছত্রিশগড়ের সরকারের শুরু করা গোথান মডেলে যোগ দিয়ে তিনি শুরু করেন গোবর থেকে চপ্পল ও ব্যাগ তৈরি করা। শুধুমাত্র নিজে রোজগার করেন তা নয়, গ্রামের আরো কিছু মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন তিনি।

২০১৭ সালে গোবর ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করার জন্য একটি সংস্থা তৈরি করেন তিনি যার নাম দেন, “এক পাহালা সংস্থা”। তিনি সকলকে দেখান কিভাবে গোবর থেকে চপ্পল তৈরি করার জন্য ব্যবহার করতে হয় চুনের গুঁড়ো এবং আয়ুর্বেদিক ভেষজ। ১ কেজি গোবর থেকে ১০ টি সিপা তৈরি করা যায় যা বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয় না।

চপ্পল ছাড়াও গোবর দিয়ে আবির তৈরি করা হয় যাতে মেশানো হয় ফুলের শুকনো পাতার গুড়া, ধনেপাতার গুঁড়ো এবং হলুদ গুঁড়ো। এক পাহাড় নামে একটি প্রতিষ্ঠানে এই আবির তৈরি করার কাজ সকলকে শেখান রিতেশ বাবু। রিতেশ স্থানীয় লোকজনকে কর্মসংস্থানের জন্য যুক্ত করতে কাজ শেখান।

২০২২ সালের ছত্রিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল গোবর দিয়ে তৈরি একটি ব্রিফকেসে পেশ করেছিলেন, যে ব্যাক্তি রিতেশ এবং তার সংস্থা প্রস্তুত করে দিয়েছিল মাত্র ১০ দিনের মধ্যে। রিতেশবাবু মনে করেন, প্লাস্টিক ব্যবহার করলে যতখানি ক্ষতি হয় আমাদের এই পরিবেশে তার থেকে যদি আমরা গোবর ব্যবহার করে জিনিস তৈরি করতে পারি তাহলে পরিবেশ দূষণ অনেকাংশে কমে যেতে পারে।