মিলেনি এম্বুলেন্সের সহায়তা, বৃদ্ধ অসুস্থ স্ত্রীকে হাতের গাড়ি করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচাতে পারেননি প্রাণ

চরম দূর্দশার ছবি ধরা পরল এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায়, এহেন অসহযোগিতা নিয়ে কোন বলার ভাষা নেই, এক চরম অমানবিক চিত্র ধরা এটি।মানুষ মানুষের সাথে কী করে এমন ব্যবহার করতে পারেন সেটিরই বারবার প্রশ্ন উঠছে মানুষের মনে, ঘটনাটি ঘটেছে চিলকাহার ব্লকের আন্দাউর গ্রামে, যেখানে বসবাস করেন সুকুল প্রজাপতি নামে এক দরিদ্র বৃদ্ধ এবং তার স্ত্রী জোগনি, যার বয়স ৫৫ বছর।

গত ২৮ শে মার্চ হঠাৎই তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েন যে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজনীয়তা পড়ে যায়, কিন্তু স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য কোন উপায় খুঁজে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত অসুস্থ স্ত্রীকে হ্যান্ডকার্টে শুইয়ে তিন কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে পিএইচসি চিল্কাখারে পৌঁছে যান তিনি এবং সেই হাসপাতলে চিকিৎসকেরা কিছু ওষুধ দেওয়ার পর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।

কিন্তু সুকুল প্রজাপতি নিজের স্ত্রীকে পথে পিপারিয়াতে রেখে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং সেখান থেকে টাকা ও কাপড়ের ব্যবস্থা করে আবারও স্ত্রীর কাছে ফিরে আসেন, সেখান থেকে স্ত্রীকে টেম্পো করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও সেখানে তাঁর স্ত্রী মারা যান। তবে এখানেই শেষ নয় যে করুণ দৃশ্যের কথা আমরা বলতে চলেছি তাহল লাশ বহনের জন্য বৃদ্ধকে এম্বুলেন্স পর্যন্ত দেয়া হয়নি, তিনি জানান রাত ১১টা থেকে ১২ টার মধ্যে তার স্ত্রী মারা যান, তারপরে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতালে লোকজনের সাথে অ্যাম্বুলেন্সের কথা বললে তাঁরা জানান রাতে গাড়ি নিয়ে যেতে দেয়া হবে না।

তাই বেগতিক বুঝে বৃদ্ধা প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেই স্ত্রীর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন, তার জন্য তাঁর খরচ হয় ১১০০ টাকা, ইতিমধ্যেই এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছবি দেখার পর নানান প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যে কারণে ডেপুটি সিএম এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্রিজেশ পাঠক এই বিষয়টিকে নিয়ে তদন্তের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে এ বিষয়ে যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার যেতে পারে।