ছত্রিশগড়ে সেনা জওয়ানদের উপর হামলায় উঠে আসছে মাস্টারমাইন্ড এক মহিলা মাওবাদীর নাম

গত শনিবার ৩ এপ্রিল ছত্রিশগড়ে যখন ভারতীয় সেনা জাওয়ানদের ঘিরে ফেলে মাওবাদীরা হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলার পরিকল্পনার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে যিনি ছিলেন তাঁর নাম হল সুজাতা। ওই দিন লাইট, মেশিনগান, আন্ডার ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার প্রভৃতি অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে নিপুণভাবে পরিকল্পনা করে ছত্তিশগঢ়ের বিজাপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর প্রায় 700 জন মাওবাদী হামলা চালিয়েছিল। আর এই হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন সুজাতা নামে এক মহিলা মাওবাদী। তবে শুধু ছত্রিশগড় নয় এই সুজাতা দেবীর নাম বহু মাওবাদী হানার ঘটনায় উঠে এসেছে।

 

সুজাতা বিজপুরে মাওবাদী সংগঠনের দায়িত্বে রয়েছেন। এই 34 বছর বয়সী মহিলার ইন্টেলিজেন্ট ব্রেনের দাম 8 লক্ষ টাকা। বিজাপুর পুলিশের হাতে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন কিন্তু সুন্দর ভাবে জাল কেটে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়েন। এই মহিলার স্বামী আজাদ আলিয়াস কোয়দা একজন মাওবাদী নেতা।

প্রথমে সুজাতা দেবীর দায়িত্বে ছিল দক্ষিণ বস্তারের দণ্ডকারণ্য। তারপর আস্তে আস্তে গোটা এলাকাটাই তাঁর নেতৃত্বাধীন হয়ে পড়ে। জোনাগুরার ওই এলাকায় মাওবাদী দলের পাণ্ডারা রয়েছে এমন খবর পাওয়ার পর গত শনিবার অর্থাৎ 3 এপ্রিল বিজাপুর জেলায় যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল সিআরপিএফের কোবরা বাহিনী, ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্স।

সেই অভিযান চলার সময়ে এই বাহিনীগুলোর উপর হামলা চালায় মাওবাদীরা। ওইদিনই 2 জন জওয়ানের দেহ উদ্ধার করা গেলেও বাকি 20 জন জওয়ানের দেহ তারপরের দিন রবিবার উদ্ধার করা হয়।

নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে ওই এলাকায় সমস্ত জায়গা সুজাতা এবং তাদের দলের লোকেরা ভালোভাবে চেনেন তাই খুব সহজেই তাঁরা ওই সেনাবাহিনীদের উপর হামলা চালিয়েছিল। ওই বাহিনীরা ওখানে পৌঁছানোর আগেই তাঁদের জন্য মৃত্যুর ফাঁদ পেতে রেখেছিল মাওবাদীরা। তাই বাহিনীদের ওই এলাকার প্রবেশের সাথে সাথেই তিন দিক দিয়ে ঘিরে ফেলে মাওবাদীরা। এলএমজি, দেশি রকেট ও গ্রেনেডের সাহায্যে সেনাবাহিনীদের উপর হামলা চালায় মাওবাদীরা এবং ঘটনাস্থলে 22 জন জন প্রাণ হারান।