লকডাউনের অর্থ কষ্ট মেটাতে নিজের নগ্ন ছবি বেচে শিক্ষিকার মাসিক আয় ৭৩ লক্ষ টাকা

কথাতেই আছে অর্থই অনর্থের মূল ।এই অর্থের জন্য কি না করে মানুষ !! অতিরিক্ত অর্থের আশায় আমেরিকার লস এঞ্জেলেসের শিক্ষিকার পেশা বদল এর কথা শুনলে আপনি চমকে যাবেন। আমেরিকার বাসিন্দা কোর্টনি টিলিয়া (Courtney Tillia) পেশায় একজন শিক্ষিকা। অটিস্টিক বাচ্চাদের স্কুলে শিক্ষকতা করতেন তিনি ।তাঁর স্বামীও একজন পেশায় শিক্ষক । তবে করোনাকালীন পরিস্থিতি প্রত্যেকের মত এরাও নাকি অর্থনৈতিক টানাটানি শিকার। আর তার জন্যই অতিরিক্ত আয়ের আশায় তিনি করেছেন পেশা বদল। তাঁর এই পেশা বদল এর কাহিনী শুনলে চমকে যাবেন আপনিও। দুজনেই স্নাতকোত্তর করার পর পেশায় শিক্ষকতা করে সংসার চালাতেন ।দুটি সন্তানও রয়েছে তাঁদের । কোর্টনি সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন “শিক্ষকতা করে যা আয় হচ্ছিল তাতে আমাদের সংসার ঠিকমত চলছিল না। উপরন্তু করোনা পরিস্থিতিতে এই টানাটানি আরো বাড়ে। কিভাবে সবদিক ম্যানেজ করব কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিলাম না । তাই জন্য আমরা কিছুদিন ধরেই চিন্তা-ভাবনা করছিলাম কিভাবে আমাদের আয় বাড়ানো যায়।

” তখন ইনস্টাগ্রাম এবং টুইটারে ছবি শেয়ার করার কথা মাথায় আসে তাদের এরপর এই দুই নেট মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্কদের বিভাগে নিজেদের জন্য অ্যাকাউন্ট খোলেন তাঁরা। কোর্টনি এই অ্যাকাউন্টটি নিজের নগ্ন ছবি শেয়ার করতে থাকেন। কিছুদিন এইভাবে নিজের ছবি শেয়ার করার পর অটোমেটিক্যালি তার ফলোয়ার্স হু হু করে বাড়তে থাকে। এই বিপুল পরিমাণে ফলোয়ারের সংখ্যা দেখে অ্যাডাল্ট সাবস্ক্রিপশন সাইট ‘অনলিফেনস’ এ নিজের নাম নথিভুক্ত করে ফেলেন তিনি।

এরপর থেকেই এই সাইটে নিজের নগ্ন ছবি বিক্রি করতে থাকেন কোর্টনি । বর্তমানে তিনি নিজের নগ্ন ছবি বিক্রি করে মাসে ৭৩ লক্ষ টাকা উপার্জন করছেন। কিন্তু এই কাজের জন্য সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাঁকে । সমাজের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সবাই তাঁকে নিন্দার চোখে দেখে । পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে আত্মীয়স্বজন, এমনকি তাঁর স্কুলেও তাঁকে সমালোচনার শিকার হতে হয় । একজন শিক্ষিকা হয় কি ভাবে এই পেশাকে বেছে নিলেন অবাক হয়ে যাচ্ছেন সবাই । যদিও এই সমস্ত সমালোচনা কে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন কোর্টনি ।

Advertisements

এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর এই কাজে পূর্ণ সমর্থন আছে তাঁর স্বামীর। শিক্ষকতা করে তাঁর যা আয় হচ্ছিল তাতে তিনি সংসার চালাতে পারছিলেন না । তাই জন্যই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। অত্যান্ত অর্থনৈতিক টানাটানি ফলে তিনি মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হয়েছিলেন। সেসময় তিনি কাউকে পাশে পাননি। নিজের সন্তানদের ঠিকভাবে মানুষ করার জন্য তাঁর প্রচুর পরিমাণে অর্থের প্রয়োজন । তিনি আর ফিরতে চান না শিক্ষকতায় । তিনি আরো বলেন “গোটা দুনিয়ার কাছে আমি প্রমাণ করতে চাই দুই সন্তানের মা হওয়া সত্ত্বেও আমার গ্লামার এতটুকুও কমেনি। এই কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একমাত্র লক্ষ্য আমার। “

Advertisements