আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগেই দেশজুড়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন আনতে বদ্ধপরিকর মোদি সরকার

শুরুটা হয়েছিল দু’বছর আগে। লালকেল্লায় ১৫ ই আগস্ট ২০১৯ বক্তব্য রাখতে গিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ আইনের কথা শুনতে পাওয়া যায় প্রধানমন্ত্রী মাননীয় নরেন্দ্র মোদির গলায়। লালকেল্লায় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন’অনেকেই কিন্তু ছোট পরিবারের মধ্যেই তাদের দেশ ভক্তি প্রকাশ করছেন। তাদের দেখে কিছু শেখা প্রয়োজন এবং মানুষের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন আছে’।মোদির এই বক্তব্য শুনে একাধিক বিজেপি বিধায়ক থেকে সাংসদ প্রস্তাব রেখেছিলেন জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিলটি আইন আকারে আনা হোক।

করোনা মহামারী প্রবেশ করার ফলে কিছুটা থমকে যায় জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিলটি চালুর পক্ষে। যদিও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত মোদি সরকার। ২০২১ সালে ১ জানুয়ারি অসমে চালু হয়েছে জন্ম নিয়ন্ত্রণ আইন। আইনে বলা আছে ‘একটি পরিবারে দুটির বেশি সন্তান থাকলে আর মিলবে না কোন সরকারি সুযোগ-সুবিধা। সাথে মিলবে না কোনো সরকারি চাকরি। এমনকি পুরসভা বা পঞ্চায়েতে ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না সেই সমস্ত পরিবারের সদস্যরা’।

গত কয়েক বছর ধরে দ্রুতগতিতে জনসংখ্যা বেড়ে চলেছে উত্তরপ্রদেশে। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে প্রজননের হার ২.৭ শতাংশ যা হওয়া উচিত ছিল ২.১ শতাংশ। এরপরই শোনা যাচ্ছে ১১ ই জুলাই, রবিবার বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষ্যে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয় যোগী আদিত্যনাথ জন্ম নিয়ন্ত্রণ আইন চালুর ঘোষণা করতে পারেন। মাত্র ৮ মাস পরে বিধানসভা নির্বাচন উত্তরপ্রদেশে আর এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এই বিল চালু করতে পারেন যোগী সরকার।

তবে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই বিল চালু করার পথে হাঁটতে চলেছেন যোগী আদিত্যনাথ। যদি ২০২২ এর বিধানসভা নির্বাচনে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন ভোটের অন্যতম ফ্যাক্টর হয় বা বিজেপি নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়, তাহলে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন বিজেপির জন্য মস্ত বড় একটা চ্যালেঞ্জ। তাই নির্বাচনের আগে সমগ্র দেশে এই আইন চালু করার একটা টার্গেট নিতে পারে নরেন্দ্র মোদি সরকার বলে মত বিশেষজ্ঞ মহলের।