ভাইজান-এর সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে মাশুল গুনতে হয়েছিল এই পাঁচ বলি তারকা কে, তালিকায় রয়েছে

বলিউডের একমাত্র এলিজিবল ব্যাচেলার সালমান খান ।এখনো পর্যন্ত তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। ইন্ডাস্ট্রিতে একজন ভালো মনের মানুষ হিসাবে ভাইজানের নাম সর্বত্র । ইন্ডাস্ট্রিতে ছোট-বড় অনেক তারকাকে তিনি সাহায্য করেছেন এ কথা অস্বীকার করার মতো নয় । কিন্তু তাঁর রষের কবলে পড়ে অনেকের ক্ষতি হয়েছে একথাও অস্বীকার করা যাবে না। সালমান খান যদি ভালো হয় তো খুব ভালো ,আর যদি তাঁর একবার কারোর ওপর মেজাজ বিগড়ে যায় তাহলে তিনি তার শেষ দেখে ছাড়েন। বলিউডে এমন বেশ কিছু তারকা রয়েছেন যাদের সালমান খানের এই রোষের শিকার হতে হয়েছে ।

ফলে খেসারত দিতে হয়েছিল তাদের ক্যারিয়ার দিয়ে। এমন অনেক প্রমিসিং তারকা ছিলেন যারা সেভাবে বলিউডে জায়গা করতে পারেননি। শুরুতেই শেষ হয়ে গিয়েছিল তাদের পথ চলা। বলাবাহুল্য বলিউডে কানাঘুষো গুঞ্জন এর পিছনে ভাইজানের সাথে তাদের ব্যক্তিগত মনোমালিন্য একমাত্র কারণ।

বিবেক ওবেরয় বলিউডে বেশ কিছু হিট ছবি দিয়েছিলেন । কিন্তু সেভাবে বলিউডে জায়গা করতে পারলেন না বিবেক ওবেরয় । তাঁর এই অসাফল্যের পিছনে ভাইজানের সাথে ব্যক্তিগত অসন্তোষ কেই দায়ী করা হয়। সেই সময় বলিউডের সেরা সুন্দরী ঐশ্বর্য রাই এর সাথে প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন সালমান খান। ২০০৪ সালে বিবেক ওবেরয় এবং সালমান খানের একটি বিশ্রী ঝগড়া হয়েছিল । মূলত ঝগড়ার কারণ হল ঐশ্বর্য রাই ।অত্যান্ত দাম্ভিক এবং জেদি সালমানের সাথে ব্রেকআপ করে ঐশ্বর্য তখন বিবেক ওবেরয় সাথে নতুন সম্পর্কে পা দিয়েছিলেন। ঝামেলার সূত্রপাত সেখান থেকেই ।২০০৪ এর একটি প্রেস কনফারেন্সে বিবেক ওবেরয় সালমান খানের ওপর যথেষ্ট অসন্তোষ ভরা একটি ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন। বলাবাহুল্য এই জন্যই বিবেকের বলিউডে এন্ট্রি একদম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

জন আব্রাহামের সাথে সালমান খানের সম্পর্ক বেশ ঝামেলার শোনা যায়। ২০০৬ সালে বাবুল ছবির সেটে সালমান খান এবং জন আব্রাহামের যথেষ্ট হাতাহাতি হয়েছিল। ঘটনার সূত্রপাত সেখান থেকে । ভবিষ্যতে তাদের সম্পর্ক ঠিক হয়নি। অনেক ছবিতে জন আব্রাহামকে বাদ দেয়ার মূল কারণ হল সালমানের সাথে তাঁর ঝামেলা।

শোনা যায় সুশান্ত সিং রাজপুত এর সাথেও সালমানের সম্পর্ক খুবই খারাপ ছিল। যদিও সুশান্তন সিং রাজপুত আর আমাদের মাঝে নেই। তবুও বলিউডে কান পাতলে শোনা যায় সালমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে সুরজ পাঞ্চোলির সাথে সুশান্ত সিং রাজপুতের ঝগড়া হয়েছিল । এবং সেই সূত্র ধরেই সালমান খান বলিউডের প্রথম সারির প্রোডাকশন হাউজ থেকে ব্যান করে দেন সুশান্ত সিং রাজপুত কে। পরবর্তীকালে সুশান্তের মৃত্যুর পর মেন্টাল হ্যারাসমেন্ট এর জন্য সালমান কে দায়ী করা হয় এবং বয়কট করা হয় তাঁকে।

একটা সময় ছিল যখন বলিউডে কান পাতলে শোনা যেত ক্যাটরিনা কাইফ এবং ভাইজানের প্রেমের গল্প ।মূলত অনেকদিন ধরেই চর্চার বিষয় ছিল এঁদের ব্যক্তিগত রসায়ন। যদিও পরবর্তীকালে ক্যাটরিনা-রণবীর কাপূরের হাত ধরেন। মূলত তারপর থেকেই ক্যাটরিনা কাইফ এবং রানবীর কাপূরের সাথে সম্পর্ক চরমপর্যায়ে খারাপ হয়ে যায় ভাইজানের। লক্ষ্য করলে দেখা যায় সালমান-ক্যাটরিনার সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর ক্যাটরিনা কাইফ সেভাবে কোনো হিট ছবি দেন নি। এছাড়া রানবীর কাপুর কেও ভাইজানের রোষের মুখে পড়তে হয়েছিল।

সবশেষে আসা যাক অরিজিৎ সিং এর গল্পে।শোনা যায় এক জনপ্রিয় আওয়ার্ড ফাংশনে অরিজিৎ সিং সালমান খান কে অপমান করেন । তারঁ দাবি ছিল সালমান খান জোর করে সিনেমা থেকে তাঁর গান সরিয়ে নিয়েছেন । পরবর্তীকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় অরিজিৎ সিং সালমানের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে একটি পোষ্ট করেন । কিন্তু সেই পোষ্টের কোনো উত্তর দেননি সালমান খান। উপরন্তু ভাইজান সমস্ত বড় ব্যান্ডের সিনেমা এবং গান থেকে অরিজিৎ কে ব্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ।ভাইজানের রষের কবলে পড়ে অনেক বড় বড় ছবি হাত থেকে চলে যায় অরিজিৎ সিং এর।