মাত্র ৫০০ টাকা নিয়ে মুম্বাই এসে আজ একজন সফল ব্যবসায়ী, সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে ধীরুভাই আম্বানির জীবন কাহিনী

ধীরুভাই আম্বানি (Dhirubhai Ambani) এই নামটা আমার আপনার সকলের খুব পরিচিত একটা নাম। ইনার পুরো নাম ধিরাজলাল হীরাচাঁদ আম্বানি (Dhirajlal Hirachand Ambani) । আরেকটু স্পষ্ট করলে হয়তো ভালোভাবে চিনতে পারবেন। এনার দুই পুত্র মুকেশ আম্বানি (Mukesh Ambani) ও অনিল আম্বানি (Anil Ambani) । ধীরুভাই আম্বানির ব্যবসা তার এই দুই পুত্র বর্তমানে সামলাচ্ছেন। আজ আমরা জানবো ধীরুভাই আম্বানির এই সাফল্যের নেপথ্যে গল্প কাহিনী।

ধীরুভাই এর জন্ম গুজরাটের একটি ছোট্ট গ্রামে। বাবা ছিলেন একটি স্কুলের শিক্ষক। দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর আর পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন নি, কারণ বাড়ির আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। বাড়ির এই করুণ অবস্থায় যোগ দেন একটি ছোট কোম্পানিতে। মাইনে ছিল অত্যন্ত কম ফলে কিছুদিনের মধ্যেই ছেড়ে দিতে হয় সেই কাজ। এরপর ইয়েমেন যাওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেন আজকের শিল্পপতি। ইয়েমেনে থাকতেন তার ভাই।

ধীরুভাই আম্বানি (Dhirubhai Ambani)

সেখানে একটি পেট্রোল পাম্পে মাসিক ৩০০ টাকার বিনিময় কাজ শুরু করেন ধীরুভাই। তার কঠোর পরিশ্রম ও সততা কিছুদিনের মধ্যে পছন্দ হয় মালিকের, ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার করে দেন কিছুদিনের মধ্যেই। এরপর যদিও ইয়েমেন ছেড়ে মুম্বাই পাড়ি দেন ৫০০ টাকা হাতে নিয়ে। স্বপ্ন ছিল অনেক বড় মাপের মানুষ হওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন নিজের চেষ্টা ও উচ্চ মানসিকতার উপর ভর দিয়ে। বরাবরই বাজার সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা ছিল তার, মুম্বাইয়ে এসেই রিলায়েন্স কমার্স কর্পোরেশন (Reliance commerce corporation) নামে একটি সংস্থা চালু করেন।ধীরুভাই আম্বানি (Dhirubhai Ambani)

যার মাধ্যমে বিদেশে ভারতীয় মশলা এবং ভারতে বিদেশি পলিস্টার বিক্রি শুরু হয়। এরপরই ২০০০ সালে দেশের সবথেকে ধনী ব্যক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ধীরুভাই আম্বানি। ২০০২ সালে ঘটে যায় ছন্দপতন, মাথার শিরা ফেটে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার।ধীরুভাই আম্বানি (Dhirubhai Ambani)

বরাবরই নিয়মমাফিক কাজ করতে পছন্দ করতেন ধীরুভাই। তিনি প্রতিদিন ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করতেন না। পছন্দ করতেন ছুটির ফাঁকে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে। বরাবরই ঘুরতে পছন্দ করতেন তিনি। সুযোগ পেলেই ঘুরতে যেতেন পরিবারকে সাথে নিয়ে। ব্যবসায়িক কাজের ক্ষেত্রে ছাড়া বিদেশে যাওয়া খুব একটা পছন্দ করতেন না তিনি। আজ আম্বানি পরিবার বিশ্বের প্রথম পাঁচটি ধনী পরিবারের মধ্যে একজন।