বাড়বে মাতৃভাষার গুরুত্ব, বাংলা সহ আরও পাঁচটি ভাষাতে শুরু হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পড়াশোনা

এবার থেকে নিজেদের মাতৃভাষার গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য নয়া শিক্ষানীতির চালু হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার আরো একবার এই কথাই মনে করিয়ে দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে অবশ্য বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রের নয়া শিক্ষানীতির সমর্থন আনতে গিয়ে মাতৃভাষার গুরুত্ব এর পক্ষে সওয়াল করেছিলেন অনেকই। বৃহস্পতিবার সেই সওয়াল আরো জোরালো করলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

এদিন ছিল দ্বিতীয় মোদি সরকারের জাতীয় শিক্ষা নীতির প্রথম বর্ষপূর্তি। সেই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী জানান তাদের সরকার উচ্চ শিক্ষা নীতিতে মাতৃভাষার গুরুত্ব বাড়াতে চলেছে। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের রাজ্যের ছেলে মেয়েরা যাতে নিজেদের ভাষাতেই উচ্চ শিক্ষা লাভ করতে পারেন তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এও জানান খুব শিগগিরই দেশের ১৪ টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে স্থানীয় ভাষায় পঠন-পাঠন শুরু করা হবে। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি আঞ্চলিক ভাষায় পড়াশোনা করতে পারবেন পড়ুয়ারা। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাষা গুলি হল বাংলা, হিন্দি, তামিল, তেলেগু ও মারাঠি।

নয়া শিক্ষানীতির বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান ‘দেশের যুব সম্প্রদায় কে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এবং দৃঢো দেশ গঠনের জন্য জাতীয় শিক্ষানীতির রুপায়ন একটা বড় পদক্ষেপ ছিল’। এই বিপুল সাফল্যের জন্য দেশের সমস্ত শিক্ষক, অধ্যাপক, অধ্যক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকের দের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন ‘যে গত এক বছর ধরে এই মানুষগুলো লাগাতার চেষ্টা করছিলেন বলেই জাতীয় শিক্ষানীতির কে সফলভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়েছে’।

এদিন জাতীয় শিক্ষানীতির ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম মেধার প্রয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী দিনে কৃত্রিম মেধার দ্বারা অর্থনীতিকে উন্নতি ঘটানো সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান ‘এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর ফলে আজকে তরুণদের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে’এদিনের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। পাশাপাশি কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এদিন এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

প্রসঙ্গত বিরোধীদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও গত বছরই করোনা আবহের মধ্যেই জাতীয় শিক্ষা নীতি কার্যকর করেন নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। ১৯৮৬ সালে আইনের বদলে মে নয়া নীতি প্রণয়ন করা হয়। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতেই এই পদক্ষেপ করতে চলেছেন তিনি যদিও বিরোধীদের অভিযোগ নয়া শিক্ষা নীতি প্রয়োগ করে শিক্ষার ব্যাপক ক্ষতি করতে চলেছে এনডিএ সরকার। শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীদের একটা বড় অংশ এই একই অভিযোগ করে করেছিলেন।