সুখবর: সময়ের আগেই ভারত ছুঁয়ে ফেলবে মোদী সরকারের স্বপ্নের ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমি

করোনা অতিমারির থাবাকে অগ্রাহ্য করেই জিডিপিতে রেকর্ড গড়লো ভারত। আর এই নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিশেষ করে এই করোনা অতিমারির মধ্যে যেখানে বিশ্বের অর্থনীতি শুয়ে পড়েছে,উন্নত দেশগুলিতে ও আর্থিক মন্দা চলছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির অর্থনীতির অবস্থা তথইবচ সেখানে ভারতীয় অর্থনীতিতে জি ডি পি – এর হার ২০ শতাংশ বেড়ে গেল। এটা একটা রেকর্ড বৃদ্ধি।

ধাক্কা সামলাতে আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্প শুরু করার ডাক দেয় নরেন্দ্র মোদি সরকার।করোনা সংক্রমনের প্রথম ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলদেশের অর্থনীতি। প্রায় তিন মাসের লকডাউন এ দেশে তৈরি হয়েছিল এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। বৈদেশিক বাণিজ্য ও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যার প্রভাব পড়েছিল দেশের অর্থনীতিতে।

শেষপর্যন্ত করোনা ধাক্কা সামলে উঠেছে ভারতের অর্থনীতি।২০২১-২২ অর্থ বর্ষের ত্রৈমাসিক রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধি২০.১ শতাংশ।করোনা আবহে এই জিডিপি বৃদ্ধি যথেষ্ট আশা দেখাচ্ছে দেশের অর্থনীতিতে, এমনই মনে করছেন দেশের অর্থনীতিবিদদের একাংশ।

আর সেই ধাক্কা সামলাতে আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্প শুরু করার ডাক দেয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাতে একাধিক সরকারি ক্ষেত্রের বেসরকারিকরণ করা হয়। রেল,কয়লাখনি এবং এলআইসির মত একাধিক সংস্থার বেসরকারিকরণ করা হয়। যার ফলস্বরূপ বিরোধীদের প্রবল বিক্ষোভের মুখেপড়তে হয়েছে এই সরকারকে।

গত এক বছরে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধি প্রায় তলানি তে এসে ঠেকেছিল। জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল আকাশছোঁয়া। এমনকি পেট্রোল-ডিজেলের দাম বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে।এর পাশাপাশি ধাপে ধাপে বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম ও। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায়,দেশের একাধিক পণ্য সামগ্রীর দাম ও বেড়েছে ক্রমাগত। যার জেরে বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতি।

এমনকি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি ও থেমে থাকেনি। চাল-ডাল -গম -তেলের দাম হয়েছে অগ্নিমূল্য।এছাড়া সবজির দাম ও মধ্যবিত্ত দের আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে। আর এর মধ্যেই ভারতেরএই জিডিপি বৃদ্ধির রিপোর্ট নতুন করে অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার সুখবর এনে দিয়েছে।

অন্যদিকে জিডিপি বৃদ্ধির এই পরিসংখ্যান কে চরম কটাক্ষ করেছেন রাহুল গান্ধী। রাহুলের অভিযোগ, গরিব এবং দুর্বল শ্রেণীর মানুষের সম্পদ প্রধানমন্ত্রী ‘ বন্ধুদের ‘ হাতে চলে যাচ্ছে। মোদি সরকার প্রতিশ্রুতি রাখতে পারছেন না এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছেন। যখন আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেল পিছু অপরিশোধিত তেলের দাম ৯০-১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে, তখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যাবে।

২০২০-২১ অর্থ বর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিক জিডিপি বৃদ্ধি ছিল ০.৫ শতাংশ। চতুর্থ ত্রৈমাসিক রিপোর্ট ছিল ১.৬ শতাংশ।সেটা ২০২১-২২ অর্থবর্ষে অনেকটাই বেড়েছে। অর্থনীতিবিদরা এই নিয়ে আশাবাদী যে, ভারত করোনা আবহের ধাক্কা আস্তে আস্তে সামলে উঠছে।