প্রেমিকের টানে মেক্সিকোর মেয়ে এলেন হাওড়ায়, জুলাই মাসে আবদ্ধ হবেন বিবাহ বন্ধনে

ভালোবাসায় পড়লে মানুষ কিনা কি করে ফেলে। ভালোবাসা যে শুধুমাত্র অন্ধ, তা নয় ভালোবাসা একেবারে বিকলাঙ্গ। রাগ করছেন নাকি? না আসলে বলতে চাইছি ভালোবাসলে মানুষ এই পৃথিবীর আর কিছুই দেখতে পায় না। সবকিছু তার কাছে রঙিন হয়ে থাকে। এই যেমন কিছুদিন আগে বাংলাদেশের এক যুবতী নদী পার করে ভারতবর্ষে চলে এলো শুধুমাত্র মনের মানুষের দেখা পাওয়ার জন্য। তেমনই একটি ঘটনা আজ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করবো আমরা।

এক ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে মেস্কিকো সিটির লেসলির সঙ্গে বালির অরিজিতের আলাপ হয়েছিল। অনলাইনে চ্যাট করতে করতে একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েন তারা। বেশ কিছুদিন এইভাবে চলতে চলতে একে অপরের সঙ্গে প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়েন অরিজিৎ এবং লেসলি। দেশের দূরত্ব অতিক্রম করে গিয়েছিল মনের ভালোবাসা। ধর্ম, ভাষার ব্যবধান মুছে গিয়েছিল নিমেষে। এই অপার ভালোবাসার টানে অবশেষে সুদূর মেস্কিকো থেকে হাওড়া বালিতে ছুটে এলেন ওই তরুণী। শুধু ছুটে এলেন তাই নয়, একেবারে বিয়ে করে ফেললেন বাঙালি যুবককে।

একদিকে মেস্কিকো সিটির বাসিন্দা লেসলি, অন্যদিকে বাড়ির বাসিন্দা অরিজিৎ ভট্টাচার্য। অরিজিত বেসরকারি সংস্থায় চাকরিজীবী। বাড়িতে বাবা-মা এবং বিবাহিত বোন। মহামারীকালে অবসর সময়ে চ্যাট করতে করতে আলাপ হয় লেসলি ও অভিজিৎ- এর। লেসলি ইংরেজি ভাষায় ততটা সাবলীল না হলেও মনের ভাষা প্রকাশ করতে দুজনেই বেশ সাবলীল।

মেক্সিকো সিটিতে যৌথ পরিবারের সদস্য লেসলি। নির্মাণ সামগ্রীর পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে তাঁদের। অবসর সময়ে চ্যাট করতে করতে ভারতবর্ষের এই বাসিন্দার সঙ্গে আলাপ হয়ে যায় মেস্কিকো তরুনীর। চ্যাট থেকে ফোন, বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা তৈরি হতে বেশি সময় নেয় নি। প্রথমে ঠিক হয় অরিজিৎ মেস্কিকো যাবেন কিন্তু পাসপোর্ট এবং ভিসা সমস্যা থাকার কারণে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। কিন্তু লেসলি ভারতবর্ষে আসার জন্য মনস্থির করে ফেলেন।

যেমন ভাবা তেমন কাজ। কিন্তু প্রথম দেখা করেই তো বিয়ের মত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়না তাই প্রথমে কিছুদিন কথা বার্তা বলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তারা। চলতি বছর ২৯ এপ্রিল দিল্লিতে পৌঁছান লেসলি, সেখান থেকে হাওড়া তারপর সোজা গন্তব্য স্থল। সামনাসামনি দেখা করে আরো বেশি একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যান লেসলি এবং অভিজিৎ। বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাতেই মনস্থির করে ফেলেন দুজনে।

গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নিজের বাড়িতে প্রথম বান্ধবীকে নিয়ে আসেন অরিজিৎ। বিদেশি কন্যাকে দেখে সকলেই প্রথমে অবাক হয়ে যান। অবাক হলেও সাড়ম্বরে লেসলিকে মেনে নেন অভিজিতের বাড়ির সকলে। বিবাহতে কোন সমস্যা তৈরি হয়নি। ১৯ জুন আইনি বিয়ে সেরে ফেলেন এই দম্পতি এবং আগামী ৫ জুলাই সামাজিক বিবাহ করবেন অরিজিৎ এবং লেসলি।