আফগানিস্তানের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তালিবানের পাশে থাকতে পারে কোন কোন দেশগুলি, রইলো সম্পূর্ণ তালিকা

বর্তমানে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়ংকর, ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে মেতে উঠেছে তালিবানরা। এমতো পরিস্থিতিতে দেশ ছেড়েছেন রাষ্ট্রপতি আশরাফ ঘনি। আশরাফ ঘনি রবিবার পদত্যাগ করার সাথে সাথে ক্ষমতা দখল করেছে তালিবানরা। আফগানিস্তানে তালিবান সরকার গঠন করা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। তালিবান সরকার গঠন নিয়ে বিভিন্ন দেশে তাদের নিজস্ব মত ইতিমধ্যে পেশ করেছে। ভারত, আমেরিকা যেমন এই জোর-জুলুমের সরকার গঠনের বিপক্ষে তেমনি গ্রেট ব্রিটেন, রাশিয়া এই সম্পর্কে কোন মতামত এখনো জানায়নি। এখন দেখার বিষয় বিশ্বের বড় বড় দেশগুলি তালিবানের উত্থানের প্রসঙ্গে কি মতামত দেয়।

এই প্রসঙ্গে প্রথমেই আসা যাক পাকিস্তানের কথা। পাকিস্তানের সাথে তালিবানদের সম্পর্ক যে সুমধুর তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। বরাবরই পাকিস্তান এবং তালিবানদের একটা সুসম্পর্ক সকলেরই জানা। তালিবান ও পাকিস্তান যদিও কোনোদিনই এ কথা স্বীকার করে না। তবে বোঝায় যায় আমেরিকার বিরুদ্ধে গুটি সাজাতে পাকিস্তান সবসময় তালিবানদের মদত দিয়েছে। এছাড়া একথাও সন্দেহ করা যাচ্ছে যে আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের তালিবানদের সাথে থাকা অসম্ভব কিছু নয়। এছাড়া আফগানিস্তানের সাথে ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক বরাবরই পাকিস্তান ভালো চোখে নেয়নি সুতরাং তালিবান সরকার এলে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করার বাড়তি রসদ পাকিস্তান পেয়ে যাবে তা সকলেরই জানা।

এরপর আসা যাক তুর্কির কথায় তুর্কি এই বিষয়ে কোন কিছু স্পষ্ট করে না বললেও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েতাইয়্যেপ এরদোগান একজন সুন্নি মুসলিম এবং তালিবানরা এইমতে বিশ্বাসী যদিও বর্তমানে তুরস্কের সাথে তাদের কিছু মতানৈক্য চলছে তবে এও শোনা যাচ্ছে যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বন্ধু ইমরান খান সরকারের মদত নিয়ে তালিবানদের সাথে চুক্তি করতে আগ্রহী।

এবার আসা যাক ইরানের কথায় ইরানের সাথে তালিবানদের সম্পর্ক কখনোই সুমধুর নয় সুতরাং তারা যে তাদের সমর্থন করবে এটা আশা করা ভুল। সীমান্তবর্তী এলাকায় কোন সমস্যা হলেই আফগানিদের প্রবেশ ঘটে ইরানে। এমত অবস্থায় আফগানিস্তানের তালিবান রাজ প্রতিষ্ঠিত হলে সমস্যা বাড়বে ইরানের । এছাড়া ইরান বরাবরই সিয়া সম্প্রদায়ের সমর্থক সে ক্ষেত্রে তালিবানরা সুন্নি সমর্থক । সুতরাং বরাবরই এদের মধ্যে সম্পর্ক সুমধুর নয়। যদিও শোনা যাচ্ছে বর্তমানে ইরানের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করতে আগ্রহী তালিবানরা।

এরপর আসা যায় সৌদি আরবের প্রসঙ্গে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব সবচেয়ে বড় মুসলিম শক্তিশালী দেশ। আফগানদের প্রকাশ্যে সমর্থন দেখা গিয়েছে। তারা যদিও আফগানিস্তান প্রসঙ্গ বরাবরই এড়িয়ে গেছে সৌদি আরব তবে এটা বোঝা যায় বন্ধু পাকিস্তানের মতো সৌদি আরব বরাবর তালিবানদের সাথে ডিল করে আসছে।

কাতার প্রসঙ্গে বলতে গেলে বলা যায়, কাতার হলো তালিবানদের সবচেয়ে বড় সমর্থক । কাতারে তালিবানদের সদর দপ্তর রয়েছে। কাতারের সাহায্যেই সারা বিশ্বের সাথে পরিচয় ঘটে তালিবানদের । শুধু এই নয় কাতার মধ্যস্থতা করার জন্যই আফগান সরকার এবং আমেরিকার সাথে কথা বলার সুযোগ পেয়েছে তালিবানরা।সুতরাং তালিবানদের পিছনে সবচেয়ে বড় সাহায্যের হাত যে কাতারের রয়েছে এ বলাই বাহুল্য।