রাজ্যে 7 দফায় ভোটগ্রহণের ঘোষণা কমিশনের,আপনার এলাকায় কবে হতে চলেছে ভোট…

সম্প্রতি লোকসভা ভোটের দিন ঘোষণা করলো জাতীয় নির্বাচন কমিশন। দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরা জানান যে, রাজ্যে সাত দফা এবার লোকসভা নির্বাচন হবে।11 এপ্রিল প্রথম দফায় ভোট হবে। দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে 18 এপ্রিল। তৃতীয় দফায় ভোট হবে 23 এপ্রিল। 29 তারিখের চতুর্থ দফায় ভোট হবে। পঞ্চম দফায় ভোট হতে চলেছে 6 মে। ষষ্ঠ দফায় ভোট 6 মে। আর শেষ দফায় ভোট 19 মে হবে। পশ্চিমবঙ্গের মোট 7 দফায় ভোট হবে।প্রথম দফাতে পশ্চিমবঙ্গের 2 টি কেন্দ্র থেকে ভোট গ্রহণ করা হবে, দ্বিতীয় দাফতের 3 টি কেন্দ্র থেকে, তৃতীয় দফায় পশ্চিমবঙ্গের 5 টি কেন্দ্র থেকে ভোট গ্রহণ করা হবে, চতুর্থ দফাতে 8 টি কেন্দ্র থেকে ভোট হবে, পঞ্চম দফাতে 7 টি কেন্দ্র থেকে হবে, ষষ্ঠ দফা তে 8 টি কেন্দ্র থেকে হবে এবং সপ্তম দাফতের 9 টি কেন্দ্র থেকে হবে।

 

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানান, প্রথম দফায় 20 টি রাজ্যের 91 টি আসনে ভোট হবে। দ্বিতীয় দফায় 13 টি রাজ্যের 97 টি আসনে। তৃতীয় দফায় 14 টি রাজ্যের 115 টি আসনে। চতুর্থ দফায় 9 টি রাজ্যের 71 টি আসনে। পঞ্চম দফায় 7 টি রাজ্যের 51 টি আসনে। ষষ্ঠ দফার ভোট হবে 7 রাজ্যের 59 টি আসনে। এবং শেষ দফা অর্থাৎ সপ্তম দফায় ভোট হবে 8 রাজ্যের 59 টি আসনে। তিনি জানান যে, সুষ্ঠুভাবে ভোট করতে সব সময় চেষ্টা করছে কমিশন। আজ থেকে চালু হচ্ছে আদর্শ আচরণ বিধি। এবারের লোকসভা নির্বাচনে 90 কোটি ভোটার অংশগ্রহণ নিচ্ছে। ভোট বুথেই এবার ভি ভি প্যাটের থাকছে। কেউ নির্বাচন বিধি না মানলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। এবার দেশে প্রায় 10 লক্ষ ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন। ভোটারদের জন্য টোল ফ্রি নম্বর চালু করেছে নির্বাচন কমিশন। টোল ফ্রি নম্বর টি হল 1950 । এই নম্বরে ফোন করে কোন ভোটার অভিযোগ জানাতে পারে।

 

রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু নির্বাচন সংক্রান্ত বিধি নিষেধ জারি করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তিনি এও বলেন, “আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার উপর কড়া নজর রাখবো।”

গতবারে 4 মার্চ লোকসভা ভোটে সময়সূচি প্রকাশ করে কমিশন। 2014 সালের নির্বাচন মোট 9 দফায় নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার সাত দফায় নেওয়া হচ্ছে।ইতিমধ্যেই কমিশনের তরফ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, লোকসভা ভোট করতে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত তারা। তাই আজ তার ঘোষণা করতে চলেছে কমিশন। গত 2014 সালের লোকসভা নির্বাচনে গোটা রাজ্যের 617 কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছিল। 2016 সালে বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে এসেছিল 700 কোম্পানির কেন্দ্রীয় বাহিনী। এবার কত কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিচ্ছে। গত 31 জানুয়ারি এবং 1 ফেব্রুয়ারি দুইদিন ধরে রাজ্যের নানান বৈঠক করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরা। তিনি জানান, প্রতি বুথে কেন্দ্র বাহিনী থাকবে। কেন্দ্র বাহিনী লাগাতার টহলদারি দেবে। এর সঙ্গে এও জানা গিয়েছিল যে, মার্চ মাসের টহলদারি জন্য বিভিন্ন এলাকায় রাজ্যে কমপক্ষে 100 কোম্পানি কেন্দ্র বাহিনী চলে আসবে।

 

কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি দিক করে দেশের পরিস্থিতি বদলে যায়। সিআরপিএফের কনভয়ে জঙ্গি হামলার পর এখন সমস্ত ফোর্সের নজর অশান্ত কাশ্মীরের দিকে। ফলে এরকম একটা কঠিন পরিস্থিতিতে কতটা বাহিনী মোতায়েন করা যাবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।