বলিউডে সুপারহিট ফিল্মের সুপার ফ্লপ রিমেক বানিয়েছেন পরিচালক, দর্শক পর্যন্ত পাননি দেখার সাহস

২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া সাজিদ খানের ‘হিম্মতওয়ালা’ সিনেমাটি ছিল ১৯৮৩ সালের জিতেন্দ্র, শ্রীদেবী, কাদের খান, আমজাদ খান অভিনীত ‘হিম্মতওয়ালা’ সিনেমার রিমেক, যার পরিচালক ছিলেন কে. রাঘবেন্দ্র রাও। মূল সিনেমার ঠিক ৩০ বছর পরে, অর্থাৎ ২০১৩ সালে সাজিদ খান সিনেমাটির রিমেক করে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সফল হননি। সিনেমাতে অজয় ​​দেবগন, তামান্না ভাটিয়া, পরেশ রাওয়াল, মহেশ মাঞ্জরেকার, অধ্যয়ন সুমন, জরিনা ওয়াহাবের মতো চমকপ্রদ নাম থাকা সত্ত্বেও, এটি বক্স অফিসে তেমন সাড়া ফেলেনি। সংগ্রহের বেশিরভাগই একক থিয়েটার থেকে এসেছে।

মাল্টিপ্লেক্সের দর্শকরা এটাকে কোনো মূল্য দেননি, যেখান থেকে আসে সিনেমার আয়ের একটা বড় অংশ। সাজিদ খান সিনেমাটির রিমেক করেছিলেন, কিন্তু তিনি দর্শকদের মধ্যে সেই জাদু তৈরি করতে পারেননি, যা মূল ‘হিম্মতওয়ালা’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল। জিতেন্দ্র ও শ্রীদেবীর সিনেমা তখন বক্স অফিসে পাঁচ কোটি টাকা আয় করেছিল, যা আজ ৭৫ কোটির সমান। এটি ১৯৮৩ সালের একটি সুপার হিট সিনেমা ছিল। হিম্মতওয়ালার ফ্লপ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ সাজিদ খান নিজেই। প্রথমত, তিনি সিনেমার রিমেকটি এমনভাবে করেছেন যে, তিনি আসল সিনেমাটিকে ফাঁকি দিচ্ছেন। সিনেমার একটি দৃশ্যেও দেখা যায়নি যে, এটি গুরুত্বের সঙ্গে তৈরি করা হয়েছে।

সাজিদ খানের সঙ্গে কাজ করা এক তারকা সাজিদ সম্পর্কে বলেছেন যে, সাজিদ নিজেও জানেন না যে, তিনি কী করতে চলেছেন। তাঁর মাথায় থাকে সব কিছু এবং তিনি তা করতে থাকেন। তা সঠিক হোক বা ভুল। ফিল্মটি ফ্লপ হওয়ার আরেকটি কারণ হল যে, সাজিদ যে বিষয় বেছে নিয়েছিলেন, তা ক্লাসিক ছিল না এবং গল্পটি সময়োপযোগী ছিল না। সাজিদ এই সিনেমাতে অভিনেতাদের দিয়ে জোরে অভিনয় করান। সিনেমাতে প্রত্যেক শিল্পীকে চিৎকার করতে, জোরে অভিনয় করতে দেখা গেছে। সিনেমাতে দুটি গান ছিল, যা পুরোনো সিনেমা থেকে নেওয়া হয়েছে। অজয় ​​দেবগন একটি সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, তিনি জানতেন যে, সিনেমাটি ফ্লপ হবে।

অজয় দেবগন বলেন, সিনেমার গল্প আশির দশকের এবং সাজিদ তাঁর সিনেমাতে সেই সময়টা দেখাতে পারেননি। তিনি শুধু সিনেমার গল্প তুলেছেন, কিন্তু সেই সময়কালকে সমসাময়িকভাবে শুট করতে পারেননি। অজয়ের আরেকটি সিনেমা ‘ওয়ানস আপন আ টাইম ইন মুম্বাই’ নামক সিনেমাতে যেমন সেই সময়টা পর্দায় যাহোক করে তুলে ধরা হয়েছিল। এই কারণেই ‘হিম্মতওয়ালা’ সিনেমার অনেক দৃশ্যে অজয় ​​দেবগনকে অস্বস্তিকর দেখাচ্ছিল। শুটিংয়ের সময়ই অজয় ​​বুঝতে পেরেছিলেন যে, সিনেমাটিতে অভিনয় করার প্রস্তাবে রাজি হয়ে খুব খারাপ ভাবে ফেঁসে গেছেন। সাজিদ খান তাঁর ক্যারিয়ারে ছয়টি সিনেমা পরিচালনা করেছেন। তার মধ্যে ‘হে বেবি’ এবং ‘হাউসফুল’ হিট ছিল। বাকি চারটি সিনেমা ফ্লপ হয়।