দিন শেষ হতে চলেছে work-from-home এর, একে একে অফিসে ডাকছে TCS, Wipro-র মতো অনেকেই

করোনা মহামারীতে পুরো দেশের জনজীবন একপ্রকার স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। লকডাউন এর জেরে বিপর্যস্ত পুরো দেশ। তবে ধীরে ধীরে লকডাউন উঠেছে ,সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থান খুলতে শুরু করেছে । তবে করোনা মহামারী থেকে স্কুল-কলেজ এখনো পর্যন্ত বন্ধ এবং কবে খুলবে তা এখনও কেউ বলতে পারছে না । লকডাউন এর জেরে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কর্মচারীদের কর্মহীন হতে হয়েছে ফলে দেশে বেকারত্ব বাড়েছে।এ পরিস্থিতিতে দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলো কর্মচারীদের ওয়ার্ক ফম হোম করার সুযোগ দিয়েছিল ।

তবে এবার কর্মচারীদের সেই সুখের দিন শেষ হতে চলল। উইপ্রো, ইনফোসিসের মত বড় বড় কোম্পানিগুলো এবার কর্মচারীদের অফিসে এসে কাজ করার ডাক দিচ্ছে।সাধারণভাবে মনে করা হচ্ছে দেশে কোভিড সংক্রমণ কমার জন্যই কোম্পানিগুলি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশ থেকে এখনো বিদায় নেয়নি করোনা মহামারী। তবে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা কম হবার জন্য মনে করা হচ্ছে কোম্পানিগুলি এবার থেকে কর্মচারীদের অফিসে এসে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।

কোভিডের সময় ঘর থেকে কাজ করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বড় বড় কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন এই পদ্ধতিতে কাজ করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছিল কর্মচারীরা। এবার থেকে পুনরায় আগের জীবনে ফিরতে বলা হচ্ছে কম্পানি গুলি থেকে । বর্তমানে ভারতে একটি বড় সংখ্যায় জনজীবনকে টিকাকরণ করা হয়ে গেছে এবং দ্রুত যে হারে টিকা করনের পদ্ধতি এগোচ্ছে তাতে ভ্যাকসিন মোটামুটি সবাই পেয়ে যাচ্ছে ।

এমত পরিস্থিতিতে বড় বড় কোম্পানিগুলো কর্মচারীদের অফিসে এসে কাজ করতে বলছে। রিপোর্ট অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে রেকর্ড টিকাকরণ হয়েছে । সংস্থা গুলি তরফ থেকে হাইব্রিড স্টাইলে কাজ করার কথা বলা হচ্ছে। যেখানে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন অফিসে এসে কাজ করতে হবে কর্মচারীদের ,আর বাদবাকি দিন বাড়িতে বসে কাজ করা যাবে। উইপ্রো, ইনফোসিস টাটা , অ্যাপেল ইত্যাদি বড় বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলি আপাতত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বড় বড় সংস্থা গুলির মধ্যে প্রথমেই যে সংস্থার কথা মনে পড়ে সেটি হল উইপ্রো। উইপ্রো কর্তা রিশাদ প্রেমজি টুইট করে একথা জানিয়ে দিয়েছেন।

দীর্ঘ ১৮ মাস কর্মচারীরা অফিসে আসেননি । ওয়ার্ক ফ্রম হোম করতে হচ্ছিল কর্মচারীদের। তবে এবার অফিসে এসে কাজ করতে হবে এমনটাই জানালেন সংস্থার কর্তা। অফিসে যারা নেতৃত্ব করছেন মূলত প্রথমে তারাই অফিসে আসবেন । পরে পরে সমগ্র কর্মচারীদের অফিসে নিয়ে এসে কাজ করানো হবে । সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে আংশিকভাবে ভ্যাক্সিনেশন হয়েছে কর্মচারীদের মধ্যে । তবে কোভিড নাইটিনের সমস্ত রকম প্রটোকল মেনেই কাজ করা হবে।

টাটা কনসাল্ট্যান্সি সার্ভিসেস এর তরফ থেকেও অফিসে এসে কাজ করার কথা বলা হচ্ছে কর্মচারীদের । মূলত ৮০ শতাংশেরও বেশি কর্মচারীদের অফিসে এসে কাজ করার কথা বলা হচ্ছে এই সংস্থার তরফ থেকে। বর্তমানে সংস্থার দাবি ৯০ শতাংশ কর্মীর ভ্যাক্সিনেশন হয়ে গেছে। সংস্থা কর্তার দাবি তৃতীয় ঢেউ শুরুর আগে আমরা আশা করছি ৮০ শতাংশ কর্মী নিয়ে অফিস শুরু করতে পারব । কোম্পানি তরফ থেকে বলা হচ্ছে সংস্থাকে একটি কোর্স স্থাপন করতে হবে যাতে পরবর্তী কালে আরো কর্মীদের অফিসে রাখা যেতে পারে । কোম্পানিটি ভারতের ৪.৬ মিলিয়ন তথ্যপ্রযুক্তির কর্মীদের ১০ শতাংশেরও বেশি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কর্মী নিয়ে চালু করা হবে অফিস।

উইপ্রো এবং টিসিএসের পর ইনফোসিস অফিসে এসে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছে কর্মীদের। সংস্থার দাবি দীর্ঘদিন কর্মীরা ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছেন তাই এবার অফিস পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে । সংস্থার তরফ থেকে আরও জানানো হচ্ছে তৃতীয় ঢেউয়ের কথা মাথায় রেখেই অফিস করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তারা ।২.৬ লক্ষ কর্মচারীদের নিরাপত্তা তারা কখনোই বিঘ্নিত হতে দেবেন না । সমস্ত প্রটোকল মেনেই খোলা হবে অফিস। সংস্থার তরফ থেকে জানানো হচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে সদস্যদের ইনফোসিস ক্যাম্পাস থেকে কাজ করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে। এছাড়া কিছু কর্মচারী ব্যক্তিগত পছন্দের অফিসে এসে কাজ করতে চাইছেন।

উপরোক্ত সংস্থাগুলির মত এইচসিএল টেকও একই পথে হাঁটছে ।সংস্থার চিফ রিসোর্স অফিসার এ দিন জানান বর্তমানে ভারতে প্রায় 3 শতাংশ কর্মী অফিসে এসে কাজ করছেন বাকিরা ওয়ার্ক ফোম হোম করছেন। বর্তমানের সংস্থা তরফ থেকে আরও জানানো হচ্ছে সম্প্রতি ১০০ শতাংশ কর্মীকেই টিকাকরণ করানো হবে। বর্তমানে ৭৪ শতাংশ কর্মীর টিকাকরন হয়ে গেছে। সংস্থার তরফ থেকে বলা হচ্ছে ২০২১ সালের জুন মাসে কোম্পানির মোট কর্মী সংখ্যা ছিল ১,৭৬,৪৯৯। বর্তমানে সংস্থার তরফ থেকে গোটা বিশ্ব জুড়ে নতুন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে প্রায় ১৪,৬০০ জন।

এছাড়া নাগার সংস্থাটিও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্মীদের জন্য অফিস খুলে দেবার। কর্মীদের জন্য গুরগাও এর অফিস খুলে দেয়া হয়েছে। সংস্থার তরফ থেকে জানানো হচ্ছে দীর্ঘ ১৮ মাস পর খোলা হচ্ছে অফিস। তবে কোভিড নাইনটিন এর সমস্ত প্রোটোকল মেনেই খোলা হচ্ছে অফিস বর্তমানে গুরগাও এর নাগারো অফিসের কাজ শুরু হচ্ছে।

ভারতের বেসরকারি বাণিজ্যিক সংস্থা ন্যসকমও অফিস খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থার তরফ থেকে জানানো হচ্ছে প্রায় দেড় বছর পর হাইব্রিড কাজের মডেল অনুসরণ করে পুনরায় অফিস খোলা হচ্ছে। ৩০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কোভিডের সমস্ত প্রোটোকল মেনেই খোলা হবে অফিস। সমস্ত রকম সামাজিক দূরত্ব নিয়ম বজায় রেখে এবং কর্মীদের ভ্যাক্সিনেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে খোলা হবে অফিস।

এ মাসের শুরুতে কোভিড এর সমস্ত প্রোটোকল মেনে আ্যপেল ও হাইব্রিড মডেল অনুসরণ করে অফিস খোলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে । আপাতত কর্মীদের সপ্তাহে তিন দিন অফিসে আসতে হবে বাদবাকি দিন ঘরে বসেই কাজ করতে পারবেন কর্মচারীরা । অ্যাপেল এর সিইও এ বছরের জুন মাসেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।