ফিরছে সেই অন্ধকার যুগ! স্বাধীনতা হারিয়ে গৃহবন্দি আফগান মেয়েরা

বাড়ির বাইরে একা যেতে পারবেন না মহিলারা। পুরুষদের রাখতে হবে লম্বা দাঁড়ি। দু-দশক আগের তালিবানি ফতোয়ার সেই অন্ধকার দিনগুলি ফিরে আসার আশঙ্কায় ত্রস্ত সমগ্র আফগানবাসী।সেই দিন ফিরে আসলে বন্ধ হয়ে যাবে পড়াশোনা, কাজকর্ম। তালিবানদের হাতে দেশের ক্ষমতা চলে যাওয়ার পরই আতংকিত সাধারণ মানুষ। দু-দশক আগের স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের বিয়ে করা বা যৌনদাসী হওয়ার প্রস্তাব। খাবার তো দূরের কথা, আতঙ্কে দু’চোখের পাতা এক করতে পারছেন না আফগান বাসিন্দারা।

ক্রমশ তালিবানদের করালগ্রাসে চলে আসছে গোটা আফগানিস্তান। শোনা যাচ্ছে, আফগানিস্তানে ফের যৌন দাসী প্রথা শুরু হতে চলেছে। আতঙ্কে কাঁপছে গোটা দেশ। যে এলাকাগুলিতে তালিবানরা কব্জা করে আছে, সেখানে সম্প্রতি এক নির্দেশনামা প্রকাশ করেছে তালিবান কালচারাল কমিশন। তারা জানিয়েছে, তালিবান যোদ্ধাদের বিয়ের জন্য পাত্রীর প্রয়োজন।

এজন্য 15 বছরের ঊর্ধ্বে মেয়েরা এবং বিধবা হলে 45 বছরের নিচে মহিলাদের বিয়ে করে পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে নিয়ে যাওয়া হবে। বিয়ের কথা বললেও আদতে জঙ্গিদের যৌনসুখ চরিতার্থ করতেই ঘোষণা, মনে করছে আফগানরা। তালিবানি নৃশংসতার শিকার বরাবরই মহিলারা। জোর করে বিয়ের নামে মহিলাদের যৌনদাসী করে রাখা হতো। এছাড়া প্রতিদিনের জীবন যাপনে হাজারো বাধানিষেধের প্রাচীর খাড়া করে রেখেছিল তালিবানরা।নিয়মের এদিক-ওদিক হলেই নেমে আসতো শাস্তি।

তালিবানি শাসন মুক্ত হওয়ার পর ক্রমে ক্রমে আশার আলো দেখছিল গোটা আফগানিস্তান। তলে তলে লড়াইটা অবশ্য রয়ে গিয়েছিল। একটা অন্ধকার থেকে আলোর দিকে হাঁটতে গিয়ে আচমকাই পট পরিবর্তন।মার্কিন সেনার ছত্রছায়া সরে যাওয়ার পরই আফগান দখল তালিবানদের কাছে সহজ হয়ে যায়। তারপরই আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় আফগান প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট আসরফ ঘানি ইতিমধ্যেই পলাতক। আর তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন আফগান মহিলারা। ফিরে আসছে অতীতের স্মৃতি। তবে আবার কি ফিরতে চলেছে সেই অন্ধকার যুগ?

১৯৯৬-২০০১ এই শাসনকালে মহিলাদের একরকম বন্দি করে রেখেছিল এই তালিবানরা। শিক্ষা তো দূরের কথা, প্রায় কোন অধিকারই ছিল না তাদের। মহিলাদের আপাদ মস্তক ঢেকে থাকতে হতো সব সময়।তাদের বাড়ির বাইরে কোন কাজ করা ছিল নিষিদ্ধ। প্রত্যেকবার বাড়ির বাইরে বের হতে গেলে মহিলাদের সঙ্গে একজন পুরুষ আত্মীয়কে নিয়ে যেতে হতো। যা একপ্রকার মানবতাবিরোধী বলে চিহ্নিত, তারই যেন স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছিল তালিবানি শাসন এর আফগানিস্তান।