এখনকার সিরিয়াল আবার কোন সিরিয়াল নাকি একদম দেখার অযোগ্য, না আছে কোন গল্প! আবারো বিস্ফোরক অভিনেতা বিপ্লব চ্যাটার্জী

ফের একবার বিস্ফোরক হলেন টলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা বিপ্লব চ্যাটার্জি। বিপ্লব চ্যাটার্জি নামটা কারো কাছেই অচেনা নয়। নব্বই দশকের বাংলা ইন্ডাস্ট্রি তাকে ছাড়া অন্ধকার ছিল। গালের কাটা দাগের সাথে সাথে নায়িকার সাথে দুর্ব্যবহার খলনায়কের ভূমিকায় দর্শকদের যেনো অন্য কাউকেই দেখতে চাইতেন না। নায়কের সাথে দুর্দান্ত অ্যাকশন সাথে দুর্দান্ত খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে বাজিমাত করেছেন বিপ্লব চ্যাটার্জি। এখনও সমান ভাবে তাকে সমীহ করেন দর্শকেরা।

বিপ্লব চ্যাটার্জি বরাবরই একরোখা। তাকে শুধু দর্শকেরা না সমীহ করে চলেন আপামর ইন্ডাস্ট্রি।বলা বাহুল্য সমীহ করার থেকেও তাকে একটু সমঝেই চলে ইন্ডাস্ট্রির মানুষজন। বিপ্লব চ্যাটার্জি কোনদিনও কারো মন বুঝে কথা বলা বা রাখঢাক করে কথা বলেন না। ওনার মুখে যেটা আসে বরাবর সেটাই বলে এসেছেন, সে কথা যতোই শুনতে তেতো লাগুক না কেন তবে নিতান্তই তা অপ্রাসঙ্গিক নয়। বর্তমান ইন্ডাস্ট্রির বিরুদ্ধে তার যে ক্ষোভ, অভিমান, রাগ জমে আছে সে কথা এর আগেও একবার তিনি সংবাদ মাধ্যমে নিজেই প্রকাশ করছিলেন।

আবারও একবার বর্তমান ইন্ডাস্ট্রির কাজের কথা বলতে গিয়ে আবারও একবার বিস্ফোরক হয়ে উঠলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিপ্লব চ্যাটার্জি। বর্তমান প্রজন্মের সাথে তিনি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারেন না। বিপ্লব চ্যাটার্জি বলেন, এই প্রজন্মের কাজের ধরন, তাদের মানসিকতা, অভিনয় তাদের চালচলনের প্রশংসা তিনি মোটেও করতে চান না। এখনকার অভিনেতা অভিনেত্রীরা অভিনয়টাই ঠিক মত পারে না। তবুও তারা সমানে  ‘কায়দাবাজি’ করে চলে।

বিপ্লব চ্যাটার্জি এই প্রজন্মের কাজের বিষয়ে আরও বলেন, “বাড়ির ভিত নড়বড়ে হলে বাড়ি তো ধসে পড়বেই। উত্তম কুমারের পরবর্তী সবাই যখন মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েছিল, তখন আমরাই কমার্শিয়াল ফিল্মে কাজ করে সিঙ্গল স্ক্রিনেই হাউসফুল বোর্ড ঝুলিয়েছি। এখন এসব কোথায় হচ্ছে? এখন অভিনেতারা সব কায়দাবাজি শিখে গিয়েছে। কায়দাবাজি শিখে ভাল কাজ হয় না”।

তিনি বলেন, আমি খুব একটা সিরিয়াল দেখি না।আমার স্ত্রী দেখেন বলেই আমায় মাঝে মাঝে দেখতে হয়। তিনি মনে করেন এই সিরিয়াল দেখার মত যোগ্য মোটেও নয়। তার মতে, সিরিয়াল এর গল্প দেখলেই আমার মনে হয় ‘গল্পের গরু গাছে উঠেছে’। “এখনকার সিরিয়াল গুলোতে বলুন গল্প আছে কিছু? একটা নির্দিষ্ট গল্প আছে কিছু? খালি বাড়ানোর চিত্রনাট্য। যিনি লিখছেন পয়সা পেয়ে যাচ্ছেন, আরামে আছেন ভালই ব্যবসা চলছে। এভাবে কাজ হয় না”, বলেন অভিনেতা।

একই সঙ্গে তার সংযোজন, ”এখন আর কেউ শিল্পী নেই, সব কুলপি হয়ে গিয়েছেন।” “টাকা পেয়ে যান বলেই এরা বাজে গল্পে কাজ করতে প্রতিবাদ করেন না”। বর্তমান প্রজন্মের বিষয়ে যথেষ্ঠ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা। বরাবর একেবারে স্পষ্টবাদী মানুষ তিনি। বরাবর তিনি স্পষ্ট কথা বলে এসেছেন আর তার এই স্পষ্ট কথাই হয়তো তাকে ইন্ডাস্ট্রি থেকে অনেকটা দূরে সরিয়ে নিয়ে গেছে। সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে তার ইন্ডাস্ট্রিতে আসা। তার পর একের পর এক তাগর তাগর পরিচালকের হাত ধরে কাজ করেছেন তিনি।

এছাড়াও তপন মজুমদার, মৃণাল সেনের মত বড় বড় ডিরেক্টররা তার সাথে কাজ করার জন্য মুখিয়ে থাকতেন। আর এখনকার দু একটা সিনেমা করা পরিচালকেরা নিজেদের এত বড় মনে করে, যে তারাই বিপ্লব চ্যাটার্জিকে ইন্ডাস্ট্রি থেকে ব্রাত্য করে রেখেছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন “বিশাল মাপের ডিরেক্টর ওঁরা! আমাকে কেন ডাকবে? ওরা পছন্দ করেন না তাই ডাকেন না।”

তবে এই সমস্ত ক্ষোভ এর মধ্যেও অভিনয় ছাড়েননি তিনি। নিজেই বেশ কিছু ছবির পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বানিয়ে ফেলেছেন,  ‘অভিমন্যু’, ‘বিদ্রোহিনী’, ‘চোর ও ভগবান’ নামের তিনটি ছবি। এছাড়াও তার কলমে জন্ম হয়েছে বিখ্যাত লেজেন্ডারি নাটক ‘শকুনির পাশা’। ইন্ডাস্ট্রির প্রতি ক্ষোভ থাকলেও তিনি এই জন্মের অভিনেত্রী অভিনেতাদের দিয়ে যেতে চান কিছু ভালো কাজ।