দুর্দান্ত আইডিয়া লাগিয়ে মাশরুম চাষ করছে মা ছেলের জুটি, প্রতিদিন আয় হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা

আজকাল অনেক লোক ভালো চাকরি ছেড়ে কৃষিতে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছেন এবং তাতে সফলও হচ্ছেন, তবে কখনো কখনো কৃষির মাধ্যমে ভালো অর্থ উপার্জন করা কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে, মাশরুম চাষ একটি ভালো বিকল্প। গত কয়েক বছরে অনেক কৃষক মাশরুম চাষে ঝুঁকেছেন, যা কম খরচে বেশি লাভ দেয়। মাশরুম আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য নানাভাবে উপকারী, যার কারণে বাজারে এর চাহিদা অনেক বেশি। তাই এটি চাষ করে প্রচুর অর্থ আয় করা সম্ভব। একজন মা ও ছেলে মাশরুম চাষ করে লক্ষাধিক টাকা লাভ করছেন, আসুন জেনে নেওয়া যাক সম্পূর্ণ বিষয়টি সম্পর্কে।

কেরালার এর্নাকুলাম শহরের বাসিন্দা জিথু থমাস এবং তাঁর মা লীনা থমাস মাশরুম চাষ করে আজকাল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছেন। প্রকৃতপক্ষে, মা ও ছেলের এই জুটি শুধুমাত্র মাশরুম উৎপাদন থেকে লাভ অর্জন করছে না, অন্য লোকেদের কর্মসংস্থানের সাথেও যুক্ত করছেন। চার বছর ধরে এ কাজ করে তাঁরা দিন দিন সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। জিথু থমাস যখন প্রথম প্যাকেটে মাশরুম তৈরি করেছিলেন তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।ধীরে ধীরে তিনি এই কাজে আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং তিনি এই ক্ষেত্রে এগিয়ে যান। বর্তমানে তাঁরা এই কাজটি খুব সক্রিয়ভাবে করছেন, যার ফলে তাঁরাও খুব ভালো ফলও পাচ্ছেন।

এক সাক্ষাৎকারে জিথু বলেন, যখনই তিনি সময় পেতেন, তখনই মাশরুম চাষের তথ্য পড়তেন এবং সংগ্রহ করতেন। মাশরুম চাষ সম্পর্কে আরো বেশি করে তথ্য সংগ্রহ করার আগ্রহ তাঁর মনকে এর দিকে আকৃষ্ট করেছিল। জিথু এবং তাঁর মা এই কাজটি একটি ছোট জায়গা থেকে শুরু করেছিলেন, কিন্তু আয় বাড়ার সাথে সাথে এর পরিধিও বাড়তে থাকে। জিথু থমাসের মা লিনা থমাস বলেন, তিনি ও তাঁর ছেলে বর্তমানে ৫ হাজার বর্গফুট জায়গায় মাশরুম চাষ করছেন। এই কাজকে আরো বাড়াতে তাঁরা একটি গবেষণাগারও তৈরি করেছেন। তাঁরা উভয়ই প্রতিদিন ১ কুইন্টাল মাশরুম উৎপাদন করেন এবং প্রতিদিন প্রায় ৩৫০০০ থেকে ৪০০০০ টাকা আয় করেন।

সারা বিশ্বে ১০০০ প্রজাতির ভোজ্য মাশরুম রয়েছে, তবে আমাদের দেশের জলবায়ু অনুসারে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ৫ প্রকারের মাশরুম চাষ করা হয়, যেমন সাদা বোতাম মাশরুম, ঝিঙরি/অয়েস্টার মাশরুম, মিল্কি মাশরুম, শিতাকে মাশরুম এবং পেডিস্ট্রা মাশরুম। মাশরুম অনেক ধরণের পুষ্টিতে সমৃদ্ধ, যা আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী বলে প্রমাণিত হয়। এতে রয়েছে প্রোটিন এবং সেই সঙ্গে এতে রয়েছে কোলিন নামক উপাদান, যা আমাদের মস্তিষ্কের জন্য উপকারী, এছাড়া এটি ডায়াবেটিস ও ওজন কমাতে সাহায্য করে।

মাশরুম পুষ্টিকর খাদ্য হিসাবে এবং ওষুধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। আজকাল কৃষকরা মাশরুম থেকে তৈরি বিভিন্ন ধরনের পণ্যও বিক্রি করছেন, যার কারণে ভালো লাভ হচ্ছে। মাশরুম থেকে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হচ্ছে যেমন চিপস, পাপড়, বিস্কুট, আচার, টোস্ট, নুডুলস, কুকিজ ইত্যাদি যা অনলাইনে সহজেই পাওয়া যায়।