বয়কট ট্রেন্ডের জেরে বড়োসড় ক্ষতির মুখে পড়ল রাজ চক্রবর্তীর ধর্মযুদ্ধ, ৭ দিনে আয় হল মাত্র এত লাখ টাকা

বলিউডের পর এবার টলিউড। বয়কটের জেরে ছারখার হয়ে যাচ্ছে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি গুলি। এককালে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত সিনেমা দেখার জন্য প্রেক্ষাপটের সামনে ভিড় করে থাকতে জনগণ। কিন্তু এবার রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত সিনেমা ধর্মযুদ্ধকে বয়কটের ডাক দিল বেশ কয়েকটি সংগঠন। বলিউড থেকে টলিউড, সমস্ত পরিচালক হিন্দু ধর্মভিত্তিক সিনেমা তৈরি করে অন্য সাম্প্রদায়কে ছোট করে চলেছে, এমন অভিযোগ করে বয়কটের ডাক দিয়েছেন বহু সংগঠন।

ধর্মযুদ্ধ সিনেমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, এই সিনেমায় নাকি ভগবত গীতার শ্লোক উচ্চারণ করে মানুষের গলা কাটা দেখানো হয়েছে। তাই এই সিনেমা দেখা যাবে না। একদিকে যেমন বয়কট করতে উঠে পড়ে লেগেছে বেশ কয়েকটি সংগঠন, তেমন অন্যদিকে এবার বয়কটের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন রাজ চক্রবর্তী স্বয়ং। সিনেমা সমালোচকদের পাগল ছাগল বলতেও বাকি রাখেননি তিনি। কিন্তু কোন ক্লাসিফিকেশনই কোন কাজে লাগছে না। মানুষের মনে যেভাবে গভীর ছাপ পড়ে গেছে বয়কটের, তা এত তাড়াতাড়ি যাবে বলে মনে হচ্ছে না।

বয়কটের ডাক যে কতখানি মারাত্মক, তা প্রথম সপ্তাহে টের পেয়েছেন রাজ চক্রবর্তী। ছবি মুক্তির প্রথম সপ্তাহে মাত্র কুড়ি লক্ষ টাকা আয় করেছে সিনেমাটি। বয়কটের সামনে পড়ে কিছুদিন আগেই খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল “লাল সিং চাডা”র মত কোটি কোটি টাকার বাজেটের ছবি। এদিকে শুধু ধর্মযুদ্ধ নয়, টলিউডের আরেকটি সিনেমা “বিসমিল্লাহ” কেও না দেখার আবেদন জানাচ্ছেন অনেকেই। দর্শকদের রাগের প্রকোপ থেকে বাদ যান নি সিনেমার অভিনেতা অভিনেত্রীরাও।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কমেন্ট সেকশন ভরে গেছে বিভিন্ন মন্তব্যে। যেখানে একজন লিখেছেন, নিজের পকেটের টাকা খুশি বিসমিল্লাহ অথবা ধর্মযুদ্ধ সিনেমার মতো সিনেমা দেখার কোন ইচ্ছাই নেই। পকেটের পয়সা খরচ করে মাথাকে একটি আস্ত ডাস্টবিনে পরিণত করতে কেউ চায় না। আবার অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন গীতা দেখে কে কোনদিন খুন হয়েছে? পশ্চিমবঙ্গে অনেক দাঙ্গা হাঙ্গামা হয়েছে কিন্তু কোনদিন গীতার শ্লোক উচ্চারণ করে কেউ বৃদ্ধ নারীর গলায় ছুরি বসিয়েছে শোনা যায়নি। এমন দৃশ্য দেখিয়ে কেন মানুষকে ছোট করতে চাইছে পরিচালকরা বুঝতে পারা যাচ্ছে না। রাজ্যের এক বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য তুষ্টিকরণের সিনেমা না বানালেই কি হচ্ছে না? এমন প্রশ্নও করেছেন অনেকেই।