সোশ্যাল, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জন্য নতুন নির্দেশিকা আনছে কেন্দ্র সরকার, এবার থেকে সময়ে সময়ে দিতে হবে রিপোর্ট

ডিজিটাল কন্টেন্ট এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলির নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে নতুন নির্দেশিকা নিয়ে এল কেন্দ্রীয় সরকার।  জানা গিয়েছে, “ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা”র পক্ষে ক্ষতিকারক বিষয়গুলি নিষিদ্ধ করতে একাধিক মন্ত্রকের সমন্বয়ে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে  কেন্দ্রের তরফে।

কেন্দ্র সরকার সোশ্যাল এবং ডিজিটাল মিডিয়া সংস্থাগুলির সঙ্গে  মধ্যস্থতাকারীদের জবাবদিহি সংক্রান্ত নিয়ম এবং নতুন নির্দেশিকাগুলির বিষয় কিছু পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলির জন্যও নতুন নির্দেশিকা আনা হয়েছে৷

কেন্দ্রীয় আইন ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ এবং কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী প্রকাশ জাভাড়েকর একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন।

রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘আপত্তিজনক’ ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এখন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিজনক বিষয়বস্তু সরকার অনুমোদন করবে না।” তিনি আরও বলেন, “আমরা দেখেছি মানুষ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে হিংসা ছড়িয়ে দিতে ব্যবহার করছে”।

বলা হয়েছে,  তিনটি স্তরে নজরদারি চলবে সোশ্যাল মিডিয়ায়। একটি স্তরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগ নথিভুক্ত হবে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগ দায়ের করে  ১৫ দিনের মধ্যে তার সমাধান করবেন। মহিলাদের বিরুদ্ধে অশালীন পোস্টগুলি ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সরিয়ে ফেলতে হবে। সেইসাথে  প্রতি মাসে সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা করবে তারা।

 

তদারকি করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ যেখানে প্রতিরক্ষা, বিদেশ, স্বরাষ্ট্র, তথ্য ও সম্প্রচার, তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে৷

জানা গিয়েছে, ওই কমিটি  নিয়মাবলি লঙ্ঘনের অভিযোগে শুনানি আহ্বানের জন্য “স্বত:প্রণোদিত ক্ষমতা” পাবেন।  কমিটি নীতি লঙ্ঘনকারীদের সতর্ক, সেন্সরিং, ​​পরামর্শ বা তিরস্কার করতে পারে। এমনকি  ক্ষমা চাইবার নির্দেশও দিতে পারবে। কোনো কন্টেন্টকে আপত্তিজনক মনে করলে ব্লক পর্যন্ত করে দিতে পারবেন। সরকারি ভাবে যুগ্মসচিব বা তাঁর ঊর্ধ্বতন কোনো আধিকারিকের হাতে ক্ষমতা দেওয়া হবে।

অস্বাভাবিক ভাবে পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুক্রবার ভারত বন্ধের ডাক, গড়াবে না গাড়ির চাকা

সবথেকে উল্লেখযোগ্য,  হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো পোস্টের উৎস সন্ধান করা যাবে। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী প্রকাশ জাভাড়েকর বলেন, “সমস্ত মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের জন্য এখন একটি নিয়ম থাকা উচিত। ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলির জন্য নিয়ম তৈরি করতে আমরা প্রতিদিন কয়েক’শ চিঠি পাচ্ছি। ওটিটি এবং ডিজিটাল মিডিয়াতেও ত্রি-স্তরের নজরদারি ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

এই খসড়াটি নেটফ্লিক্স এবং প্রাইম ভিডিয়োর মতো স্ট্রিমিং পরিষেবাগুলিকেও মেনে চলতে হবে৷