বিদ্যুৎ সংস্থার একচেটিয়া ব্যবসাকে বাঁচানোর অভিযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বিস্ফোরক চিঠি কেন্দ্রের

কলকাতায় বিদ্যুৎ বণ্টনে একটি বেসরকারি সংস্থাকে কেন বাঁচাতে চাইছেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী? এমনই প্রশ্ন তুললেন কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রী রাজকুমার সিংহ। শুধু তাই নয়, চিঠি পাঠিয়ে সেই উত্তর ও চেয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পাঠানো চিঠিতে ফের তোলপাড় হতে চলেছে রাজ্য, রাজনীতি। একদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস যেমন গ্যাস, তেলের দাম নিয়ে বারবার সরব হয়। তখন রাজ্যের বিরোধী দলও বিদ্যুতের দাম নিয়ে বারেবারে সরব হয়ে চলেছে। আহার ভবানীপুরের উপ নির্বাচনের আগে কেন্দ্রের তরফ থেকে পাঠানো এই চিঠিকেই হাতিয়ার করতে পারে বিজেপি।

মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রী রাজকুমার সিংহ জানিয়েছেন, গোটা দেশে চড়া হারে বিদ্যুতের মাশুল করা সংস্থা গুলির মধ্যে অন্যতম হল কলকাতায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা। তাঁরা কলকাতায় একচেটিয়া কারবার করে চলেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্র বিদ্যুৎ আইনের সংশোধন করে বিদ্যুৎ বন্টন প্রক্রিয়াতে প্রতিযোগিতা আনতে চায়। এর ফলে যে কোম্পানি সবথেকে কমে এবং ভালো পরিষেবা দেবে, গ্রাহকরা তাদের কাছেই যাবে।

এই আইনের মধ্যে কলকাতায় একচেটিয়া ব্যবসা করা সংস্থাও প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়বে।কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী কে চিঠি লিখে বলেছেন,” আপনি কেন ঐ বেসরকারি সংস্থাকে বিদ্যুৎ বন্টন প্রতিযোগিতা থেকে বাঁচাতে চাইছেন, সেটা স্পষ্ট নয়”। এই চিঠির পর থেকেই রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাতের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

উল্লেখ্য গ্যাস,তেলের মতোই বিদ্যুতের দামও আকাশ ছুঁয়েছে। করোনাকালে গ্রাহকদের থেকে বেশি বিদ্যুৎ বিল নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল কলকাতার এই বেসরকারি সংস্থার ওপর। পাশাপাশি রাজ্যে নতুন করে বিদ্যুতের গ্রাহকেরা দাবি তুলছেন যে, এবার থেকে তিন মাসে একবার না, প্রতিমাসেই নেওয়া হোক মিটার রিডিং। এর ফলে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ এর মাশুল দেওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবেন তারা।

অন্যদিকে কেন্দ্র বিদ্যুৎ আইনে সংশোধন করার রাস্তায় হাঁটছে। নতুন আইনে গ্রাহকেরা নিজেদের ইচ্ছামত বিদ্যুৎ বণ্টনকারী সংস্থাগুলি পাল্টাতে পারবেন। একাধিক বেসরকারি সংস্থা যদি বিদ্যুৎ বন্টন এর প্রতিযোগিতায় নামে, তাহলে বিদ্যুতের দাম কমবে বলে মত কেন্দ্রের। এখন মুখ্যমন্ত্রী উপনির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। সেখানে হঠাৎ এই চিঠি পাঠিয়ে বিব্রত করতে চাইছে কেন্দ্র বলে মনে করা হচ্ছে।