ভারতের রাজধানী একটা নয়,চারটি হওয়া উচিত – মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতের রাজধানী একটা নয়,  চারটি হওয়া উচিত। তার মধ্যে একটি অবশ্যই কলকাতা। নেতাজির জন্ম জয়ন্তীতে এই দাবি করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  মোদী সরকারের ‘দিল্লিকেন্দ্রিকতা’র বিরুদ্ধে তিনি বলেন দিল্লি নির্ভর না হয়ে  কলকাতা-সহ দেশের চার প্রান্তে চারটি রাজধানী করা হোক৷ এই বিষয়ে  সাংসদদের সক্রিয় হওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তবে এমন দাবি দেশের ইতিহাসে কেউ করেছেন কি না অনেকেই মনে করতে পারছেন না। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে কলকাতাকে গুরুত্ব দেওয়া ‘তাৎপর্যপূর্ণ।

নেতাজির ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শনিবার শ্যামবাজার থেকে রেড রোড পর্যন্ত  পদযাত্রা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । মিছিল শেষে বক্তৃতা দেওয়ার সময় দাবি তোলেন, ‘‘ভারতের দক্ষিণ, উত্তর, পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব— এই চারটি প্রান্তে চারটি রাজধানী হোক।’’ তাঁর প্রশ্ন, ‘‘দিল্লিতে কী আছে? কেন একটা জায়গায় সংসদ সীমাবদ্ধ থাকবে?’’ সেইসঙ্গে  সংসদের অধিবেশনের বিকেন্দ্রীকরণ চেয়েছেন মমতা। তাঁর দাবি, ‘‘ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চারটি জায়গায় অধিবেশন হোক। আমরা সকলের জন্য বলছি। দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। ওয়ান লিডার, ওয়ান নেশনের মূল্য কী আছে?’’

মমতার বক্তব্যের মূল লক্ষ্য যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, তা এর থেকেই স্পষ্ট।  স্বাধীনতার সময় থেকে কলকাতার গুরুত্ব কতটা তা বলেন মমতা। দেশে নবজাগরণ, স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার গৌরবময় ভূমিকার কথা বলে কলকাতাকে ভারতের একটি রাজধানী করার দাবি করেন।

মোদী সরকারের বিরুদ্ধে পুরনো অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘নেতাজির ভাবনাপ্রসূত যোজনা কমিশন তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন তৈরি হয়েছে নীতি আয়োগ। এখন কেন্দ্র আর রাজ্যের সঙ্গে কোনও বিষয়ে কথা বলে না। আলোচনা করে না। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।’’ আরও এক বার যোজনা কমিশন ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান মমতা৷

মঞ্চে উঠতেই ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি, ভিক্টোরিয়ায় বক্তব্য রাখলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা

ইতিহাসের দৃষ্টান্ত দিয়ে মমতা বলেন, নেতাজি ইংরেজদের তৈরি করা ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতি ভেঙে দিয়েছিলেন। ‘বৈচিত্রের মধ্যে দেশের ঐক্য’, তাই নেতাজির জন্মদিনকে ‘জাতীয় ছুটি’ ঘোষণার জন্য  মোদীকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছিলেন মমতা।  সেই সঙ্গে নেতাজি সম্পর্কিত তথ্যও প্রকাশ্যে নিয়ে আসার দাবি জানান৷  নেতাজির জন্মদিন ‘পরাক্রম দিবস’কে কার্যত অগ্রাহ্য করে মমতা নেতাজির জন্মদিনকে ‘দেশনায়ক দিবস’ হিসাবে আখ্যা দেন৷

শনিবার রেড রোডে মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, ‘‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম নেতাজিকে ‘দেশনায়ক’ হিসাবে আখ্যা দেন। আমরা রবীন্দ্রনাথ আর নেতাজিকে মিলিয়ে দিয়েছি।’’  নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নামে ‘ডক’ তুলে দেওয়ার প্রসঙ্গে  কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন মমতা।